কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনে ঋণখেলাপি হওয়ায় প্রার্থিতা হারানো মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীকে তলব করে নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির বিচারক সংযত হয়ে কথা বলার পরামর্শ দেন।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কুমিল্লা- ৪ আসনের নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারক কমিটি (সদর সিভিল কোর্ট’র জজ) প্রথম শ্রেণীর জ্যেষ্ঠ বিচারক তাফরিমা তাবাসুম ওই আদেশ দেন।
বিচারক তাফরিমা তাবাসুম মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীকে বলেন, ‘আপনি বয়স্ক লোক, আপনার বিরুদ্ধে ফোনে অনেক অভিযোগ পাচ্ছি, আমরা প্রেসারে আছি। আপনি একটু কথা সংযত হয়ে বলুন।’
এ সময় মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী তার লিখিত বক্তব্য প্রদানসহ নির্বাচনী সভায় বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর পক্ষে আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার এ বি এম হামিদুল মেজবাহ, কুমিল্লার বারের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মিজানুর রহমান, অ্যাডভোকেট আব্দুল আউয়াল ভূঁইয়া, অ্যাডভোকেট আমানুর রহমান খান তারিক।
এর আগে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে ভোটারদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বেলা আড়াইটার মধ্যে লিখিত বক্তব্যসহ সশরীরে আদালতে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে কুমিল্লা-৪ আসনের নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির পক্ষ থেকে তাকে বলা হয়েছিল।
মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর বিরুদ্ধে ভোটারদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ এনে বিষয়টি কমিটির কাছে লিখিতভাবে জানান দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম।
এদিকে বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সাবেক সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, ‘দল আমাকে বহিস্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মনে-প্রানে ধারণ করা আমার দল বিএনপিকে আমৃত্যু ধারণ করে চলব। আমি বিএনপি থেকে নমিনেশন পাওয়া স্বত্ত্বেও একটি মহল আমাকে নির্বাচন থেকে দূরে রেখেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রিয় দেবীদ্বারবাসী এ আসনে বিএনপির প্রার্থী না থাকায় বিএনপি গণ অধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকের প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছি।’ আগামী নির্বাচনে ট্রাক প্রাথীকে ভোট দিয়ে এ আসনের বিজয় সুনিশ্চিত করে তারেক জিয়ার হাতকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে ভাইরাল হওয়া বক্তব্যে তিনি বলেছিলেন, ‘যদি ক্ষমতায় বিএনপি থাকে, আর যদি আপনারা অন্য দলকে ভোট দেন, আমি কিন্তু আপনাদের কাউকে ছাড়ব না। প্রয়োজনে ঘরবাড়ি পোড়াইয়া সব ছারখার করে দেব।’
মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে বিএনপির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাকে দল থেকে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়।
প্রসঙ্গত, মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। ঋণখেলাপি অভিযোগে তার প্রার্থিতার বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। আদালতের আদেশে তার প্রার্থিতা বাতিল হয়।
মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর প্রার্থিতা বাতিল হওয়ার পর কুমিল্লা-৪ আসনটিতে গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. আ. জসিম উদ্দিনকে সমর্থন জানিয়েছে বিএনপি। প্রচারণার শেষ দিন সোমবার মধ্যরাতে দেবীদ্বার উপজেলার বাকসার গ্রামে জসিম উদ্দিনের ট্রাক প্রতীকের সমর্থনে আয়োজিত একটি উঠান বৈঠকে ওই বিতর্কিত মন্তব্য করেন মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। তার এমন বক্তব্য নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।
এ আসনে ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। গত ৪ ফেব্রুয়ারি গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. আ. জসিম উদ্দিনকে সমর্থন জানিয়েছে বিএনপি। এর পর থেকে তাকে নিয়ে মাঠে আছেন মঞ্জুরুল মুন্সী।
আমাদের সময়