অন্তর্বর্তী সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খানকে ডেনমার্কে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত করার পরিকল্পনা থেকে সরে এসে ইরানের রাষ্ট্রদূত নিয়োগ প্রস্তাব (এগ্রিমো) পাঠিয়েছে—গণমাধ্যমে এমন খবর এসেছে। এ বিষয়ে ড. নিয়াজ আহমদ খানের বক্তব্য, সম্প্রতি এ নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে তার সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি।
তবে গত বছরের ডিসেম্বর মাসের আগের আলোচনা এটি। তখন তাকে ডেনমার্ক-ইরানসহ কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রদূত করার পরিকল্পনা ছিল বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন। আজ বুধবার (১১ ডিসেম্বর) বিকেলে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে এ তথ্য জানান অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান।
এর আগে গত নভেম্বরের মাঝামাঝিতে ড. নিয়াজ আহমদ খান ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত হওয়া নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংবাদে বলা হয়েছিল, কোপেনহেগেনে তাকে গ্রহণে সম্মতি চেয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি (এগ্রিমো) পাঠিয়েছে সরকার। এখন ডেনমার্ক সরকারের ক্লিয়ারেন্স পাওয়া বাকি রয়েছে। সবকিছু পরিকল্পনা মাফিক এগোলে আগামী তিন মাসের মধ্যেই দায়িত্ব নিতে পারেন তিনি।
বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংবাদে আরও বলা হয়েছিল, শুধু ড. নিয়াজ আহমদ খানই নন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার ঘনিষ্ঠ তিন সহযোগীকেও রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগের প্রস্তাব চলছে। তারা হলেন এসডিজি বিষয়ক দূত লামিয়া মোর্শেদ, আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক বিশেষ দূত লুতফে সিদ্দিকী এবং তার বোন হুসনা সিদ্দিকী।
এ ঘটনার প্রায় তিন মাস পর আজকে গণমাধ্যমের খবর, ড. নিয়াজ আহমদকে ইরানের রাষ্ট্রদূত নিয়োগ জন্য সরকারের প্রস্তাব গ্রহণ করেছে ইরান সরকার। সম্প্রতি তেহরান নতুন রাষ্ট্রদূতকে গ্রহণের সম্মতি জানিয়ে ঢাকায় গ্রিন সিগন্যাল পাঠিয়েছে। তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি নন।
জানতে চাইলে অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান, আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে থাকার জন্য ডেনমার্কের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছি। সে সময় ডেনমার্ক, ইরান, সেনেগালসহ যেসব দেশে স্লট খালি ছিল সেগুলো নিয়ে কথা হয়েছিল। এখন ফরমালি সরকারের পক্ষ থেকে এ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। আমি আপনার (প্রতিবেদক) কাছ থেকে বিষয়টি শুনলাম।
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসে নির্বাচনের পর উপাচার্যের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান। প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনের পর আমি আমার দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে চাই। কিন্তু এই মুহূর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো শূন্যতা তৈরি হতে পারে, এমনটা হয়ে থাকলে সরকার চাইলে আরও কিছু সময় দায়িত্ব পালন করব। অনেকদিন কঠিন পরিশ্রম করেছি। এখন আমার কিছু বিশ্রাম প্রয়োজন।
উপাচার্য আরও বলেন, তিনি সরকারকে দ্রুত তার ডেপুটেশন প্রত্যাহার করে মূল শিক্ষকতার দায়িত্বে উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়ার অনুরোধ করবেন।
“অনেকদিন কঠিন পরিশ্রম করেছি। এখন আমার কিছু বিশ্রাম প্রয়োজন,” বলেন তিনি।
নির্বাচনের আগে কেনা সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত, জানতে চাইলে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে উপাচার্য বলেন, নির্বাচনের আগে আমি আমার অবস্থান পরিস্কার করলাম। এখন নির্বাচনের পর যদি সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিতাম, তখন সবাই মনে করত তাদের সাথে (নির্বাচিত দলের) আমার শত্রুতা রয়েছে। এখন আমি আমার নিজ বিভাগে ফেরত যেতে চাই। এজন্য নির্বাচনের আগে বিষয়টি ক্লিয়ার করলাম।