ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালত বন্ধ ঘোষণা হওয়ায় রাজধানীতে ঈদের ছুটির মতো আমেজ দেখা দিয়েছে। ১৭ বছর পর কোনো বাধা ছাড়াই নিজ নিজ ভোটাধিকার প্রয়োগের আশায় ঢাকা ছেড়েছেন লাখো মানুষ।
গত দুদিনে রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন, গাবতলী, মহাখালী ও সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড এবং সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল দিয়ে যাত্রীবোঝাই ট্রেন, বাস ও লঞ্চ ছেড়ে গেছে। এতেই দীর্ঘদিন পর ফাঁকা হয়ে উঠেছে নগরী।
নির্বাচনকে ঘিরে রাজধানীর এমন দৃশ্য যেন অনেকের কাছেই নতুন অভিজ্ঞতা। ভোট ও ছুটির আমেজে আপাতত নির্জন নগরী ঢাকা।
সরেজমিনে দেখা যায়, রাজধানীর প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লার অলিগলি—সবখানেই মানুষের উপস্থিতি কম। সড়কে গণপরিবহন সীমিত, অটোরিকশা ও রিকশার সংখ্যাও তুলনামূলক কম। মাঝে মাঝে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল করতে দেখা গেছে। নিষেধাজ্ঞা থাকায় ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেল নেই বললেই চলে।
সোমবার ও মঙ্গলবার কমলাপুর রেলস্টেশন, বাসটার্মিনাল ও লঞ্চঘাটে উপচে পড়া ভিড় থাকলেও বুধবার সকাল থেকে চাপ কিছুটা কমে আসে। তবে সাধারণ দিনের তুলনায় যাত্রীসংখ্যা এখনো বেশি। অনেকেই জানিয়েছেন, অতিরিক্ত ভিড় ও টিকিট না পাওয়ায় তারা আগের দিন ঢাকা ছাড়তে পারেননি।
জামালপুরের মেলানন্দের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার পরিবারসহ এসে ট্রেনের টিকিট পাইনি। তাই আজ ভোরে চলে এসেছি। আজ ভিড় কিছুটা কম।
কমলাপুর স্টেশন ম্যানেজার সাজেদুল ইসলাম জানান, সব ট্রেন সময়মতো ছেড়ে যাচ্ছে। গত দুদিনে যাত্রীর চাপ ছিল অনেক বেশি। আজ কিছুটা কম হলেও সাধারণ দিনের চেয়ে বেশি।
বনশ্রীর বাসিন্দা সেলিম বলেন, তার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ হলেও তিনি ঢাকার ভোটার। যারা গ্রামের ভোটার তারা চলে গেছেন। ভোট আর ছুটিতে পুরো এলাকা ফাঁকা হয়ে গেছে।
ঢাকা-৬ আসনের ভোটার পুরান ঢাকার রফিকুল ইসলাম, বলেন, আজ ঢাকার রাস্তাঘাট ঈদের মতো ফাঁকা। আগের তিন নির্বাচনে এমন দৃশ্য দেখিনি।