ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথম থেকে আলোচনায় রয়েছে ঢাকা-১৮ আসন। রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশমুখ এ আসনটিতে বিএনপি, ১১-দলীয় জোট ও নাগরিক ঐক্যসহ মোট ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনি মাঠে প্রার্থীদের সক্রিয়তায় আসনটিতে বইছে ভোটের আমেজ। তবে অধিকাংশ প্রার্থীর প্রতীক পরিচিতি না থাকায় পুরোনো প্রতীকই এগিয়ে থাকবে বলে মনে করেন ভোটাররা।
ঢাকা-১৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা আরিফুল ইসলাম আদীব। এ ছাড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আনোয়ার হোসেন, জাতীয় পার্টির মো. জাকির হোসেন, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের সৈয়দ হারুন-অর রশীদ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) সাবিনা জাবেদ, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মো. জসিম উদ্দিন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ইসমাইল হোসেন ও মো. মহিউদ্দিন হাওলাদার।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১, ১৭, ৪৩, ৪৪, ৪৫, ৪৬, ৪৭, ৪৮, ৪৯, ৫০, ৫১, ৫২, ৫৩, ৫৪ নম্বর ওয়ার্ড ও বিমানবন্দর এলাকা নিয়ে ঢাকা-১৮ আসন। এ এলাকার মূল সমস্যা ফুটপাত দখল, জলাবদ্ধতা, কিশোর গ্যাং ও মাদক। অলিগলি থেকে চায়ের দোকান-সবখানেই সমস্যাগুলো নির্মূলে মূল আলোচনা ভোটারদের মাঝে। নির্বাচন কমিশনের তথ্যানুযায়ী ঢাকা-১৮ আসনের মোট ভোটার ৬ লাখ ১৩ হাজার ৮৮৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার প্রায় ৩ লাখ ১৩ হাজার এবং নারী ভোটার প্রায় ৩ লাখ।
এ আসনে একদিকে যেমন উচ্চবিত্ত-মধ্যবিত্তদের বাস, অন্যদিকে বিপুল সংখ্যক নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও শ্রমজীবী মানুষের বসবাস। ভোট বেশি হওয়ায় সব প্রার্থীর চোখ তুরাগ, উত্তরখান, দক্ষিণখান ও খিলক্ষেত এলাকায়। ভোটারদের একটি বড় অংশ বলছে, এ আসনে নিম্ন আয়ের মানুষের সংখ্যা বেশি। তাই তাদের প্রত্যাশা এমন একজন নেতা, যিনি সব পরিস্থিতিতে পাশে থাকবেন এবং প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে নাগরিক সমস্যার সমাধান করবেন। খিলক্ষেত এলাকার গৃহিণী লিমা বেগম (৪০) বলেন, ‘আমি এবার ভোট দিতে চাই। এবারের নির্বাচনে মতাদর্শকে প্রাধান্য দেব না।
কেবল, আমাদের কল্যাণে যাকে পাব বলে মনে হয় তাকেই ভোট দেব। অবশ্যই যোগ্য কোনো প্রার্থীকে।’ প্রার্থীদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, নির্বাচন নিয়ে মানুষের আগ্রহ অনেক। ভোটাররা পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার জন্য মুখিয়ে আছেন। এয়ারপোর্ট থানা বিএনপির আহ্বায়ক মনির হোসেন ভূঁইয়া বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘এবারে একটি ভিন্ন নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এর মধ্যে দাঁড়িপাল্লা না থাকায় আমাদের জন্য অনেকটা সহজ নির্বাচন হতে যাচ্ছে। তবে ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী শাপলা কলি থাকায় আমরা নির্বাচনি প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে দেখছি না। সব মিলিয়ে আমাদের মাঠ ভালো বলে মনে করছি।’ কেটলি প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘ঢাকা-১৮ আসনে এবার ভালো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হতে যাচ্ছে। প্রার্থী হিসেবে আমি প্রচার চালিয়ে যাচ্ছি।’
বিএনপি প্রার্থী জাহাঙ্গীর হোসেন জানিয়েছেন, এলাকার যা উন্নয়ন বিএনপি করেছে। বিগত ১৭ বছরে কেউ একটি ইটও গাঁথেনি। এলাকাবাসী বিজয়ী করলে, অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করব। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী আরিফুল ইসলাম আদীব বলেছেন, ‘৫৪ বছর ধরে দেশে পেশিশক্তির যে রাজনীতি, আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে তার বিদায়ঘণ্টা বাজবে। আমরা মানুষের দুয়ারে যাচ্ছি, সবাই অভূতপূর্ব সাড়া দিচ্ছেন।’
ঢাকা মহানগর উত্তরের শিবিরের পাঠাগারবিষয়ক সম্পাদক হুজাইফা বলেন, ‘নারী ও যুবকদের সাড়া বেশি পাচ্ছি। দাঁড়িপাল্লা প্রতীক থাকলে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন হতো। শাপলা কলি নতুন হওয়ায় প্রচারে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। আমরা ভোটারদের কাছে যাচ্ছি। দাঁড়িপাল্লা ও শাপলা কলি এক বলে বুঝানোর চেষ্টা করছি।’ স্বতন্ত্র প্রার্থী মহিউদ্দিন হাওলাদার বলেছেন, ‘মানুষ কাকে ভোট দেবে, সেটি একান্ত তার ব্যাপার। আমি সব প্রার্থীকে সম্মান করি। আমার বিশ্বাস, জনগণ আমার ওপর আস্থা রাখবেন।’
এদিকে আসনের অলিগলিতে প্রার্থীদের ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে। প্রতিদিন মাইকিং হচ্ছে। প্রার্থীরা ভোটারের নজর কাড়তে যাচ্ছেন সবার কাছে।