Image description

যৌন অপরাধের দায়ে দণ্ডিত হওয়ার পর প্রয়াত জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে খাতির থাকা বিশ্বের ধনী ও প্রভাবশালীদের তালিকা কেবলই লম্বা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিওজে) গত ৩০ জানুয়ারি কুখ্যাত এ বিনিয়োগকারীকে নিয়ে তাদের তদন্তের লাখ লাখ নথি, ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করে। তাতে পুরোনো কয়েকজনের পাশাপাশি আরও অনেক ধনকুবের, উদ্যোক্তা ও রাজনীতিকের নাম এসেছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। তবে নাম থাকার অর্থই যে তারা অপরাধী, এমনটা নয়। আগে প্রকাশিত নথিগুলোতে নাম আসা ব্যক্তিরা এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক থাকলেও কোনো অন্যায় করার কথা অস্বীকার করেছিলেন।

ইলন মাস্ক : প্রকাশিত নথিগুলোতে এপস্টেইন ও বিশ্বের শীর্ষ ধনকুবের ইলন মাস্কের মধ্যে একাধিক ইমেইল আদান-প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। বেশ কয়েকটি ইমেইলে মাস্ক এপস্টেইনের পার্টিতে যোগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। যদিও বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার এই প্রধান নির্বাহীর দাবি, তিনি কখনোই এপস্টেইনের ব্যক্তিগত দ্বীপে যাননি এবং কোনো ধরনের অন্যায়ে জড়াননি।

বিল গেটস : এপস্টেইনের ইমেইলে বিল গেটসকে উদ্দেশ করে ২০১৩ সালের ১৮ জুলাইয়ের দুটি ড্রাফট পাওয়া গেছে। এগুলো সত্যি কি না, কিংবা এসব ইমেইল কখনো বিল গেটসকে পাঠানো হয়েছিল কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ডোনাল্ড ট্রাম্প : এপস্টেইন সংক্রান্ত নতুন প্রকাশিত নথিগুলোতেও অসংখ্যবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট অবশ্য বরাবরই এপস্টেইন সংশ্লিষ্ট কোনো অন্যায়ে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে আসছেন।

অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর : নতুন প্রকাশিত এপস্টেইন সংক্রান্ত নথিগুলোতে এমন চারটা ছবিও প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে সাবেক প্রিন্স অ্যান্ড্রুকে মাটিতে শুয়ে থাকা এক নারীর ওপর হাঁটু গেড়ে থাকতে দেখা গেছে। সাবেক এ প্রিন্স বারবারই তিনি এপস্টেইন কাণ্ডে কোনো ধরনের অন্যায় করার কথা অস্বীকার করেছেন।

রিচার্ড ব্র্যানসন : নথিগুলোতে ধনকুবের ও ভার্জিন গ্রুপের প্রধান রিচার্ড ব্র্যানসনের নামও এসেছে কয়েক শ বার। তবে বিবিসিকে পাঠানো এক বিবৃতিতে ভার্জিন গ্রুপ বলেছে, ১২ বছরেরও বেশি সময় আগে অল্প কিছু অনুষ্ঠানে ব্র্যানসন ও এপস্টেইনের দেখা-সাক্ষা  হয়েছিল।

স্টিভ ব্যানন : এপস্টেইন ও ট্রাম্পের সাবেক শীর্ষ উপদেষ্টা স্টিভ ব্যাননের মধ্যে হাজার হাজার বার্তা আদান প্রদান হয়েছে বলেও নথিতে উঠে এসেছে। এপস্টেইনের মৃত্যুর আগে তাকে নিয়ে একটি চলচ্চিত্র বানাতে ব্যাননের আগ্রহ সংশ্লিষ্ট বার্তাগুলোতে ধরা পড়েছে। এসব বিষয়ে বিবিসি ব্যাননের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তার দিক থেকে কোনো সাড়া মিলেনি।

হাওয়ার্ড লুটনিক : ধনকুবের ব্যবসায়ী ও মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিকও তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এপস্টেইনের লিটল সেইন্ট জেমস দ্বীপে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বিবিসিকে এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘মন্ত্রী লুটনিকের সঙ্গে এপস্টেইনের সামান্য কয়েকবার কথাবার্তা হয়েছে, তাও স্ত্রীর উপস্থিতিতে এবং তার বিরুদ্ধে অন্যায়ের কোনো অভিযোগ নেই।’

এহুদ বারাক : ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাকের নামও এসেছে এপস্টেইন-সংশ্লিষ্ট নতুন নথিতে। বারাক যোগাযোগের বিষয়টি স্বীকার করলেও তিনি কোনো অভদ্র আচরণ বা পার্টি দেখেননি, অংশও নেননি বলে দাবি করেছেন।

সর্বশেষ প্রকাশিত নথিগুলোতে এদের বাইরে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের বাণিজ্যমন্ত্রী ও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রেসিডেন্ট ল্যারি সামার্স, মার্কিন ফুটবল ক্লাব নিউইয়র্ক জায়ান্টসের অন্যতম মালিক স্টিভ টিশ প্রমুখ।