ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার শেষে পাবনার দুটি আসন বাদে ২৯৮টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৯৬৭। গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে নির্বাচন কমিশন থেকে এই তথ্য জানানো হয়।
নির্বাচন কমিশন আরো জানায়, মোট দুই হাজার ৫৮৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। রিটার্নিং অফিসারদের বাছাইয়ে ৭২৬ জন বাদ পড়লে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় এক হাজার ৮৫৮।
জাতীয়তাবাদী আদর্শের প্রতি আনুগত্য ও দলীয় নেতৃত্বের প্রতি সম্মান জানিয়ে গতকাল শেষ দিনে ঢাকা-১৭ আসনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম সরওয়ার হোসেন। এই আসনে প্রার্থী রয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
রিটার্নিং অফিসারের বাছাইয়ে ব্যারিস্টার সরওয়ারের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছিল। পরে তিনি আপিল করে প্রার্থিতা ফিরে পান। ব্যারিস্টার সরওয়ার হোসেন বলেন, ‘আমি জাতীয়তাবাদী আদর্শ ধারণ করি। দীর্ঘদিন খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাজনীতি করেছি।
দলের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে জয়পুরহাট-২ (কালাই-ক্ষেতলাল-আক্কেলপুর) আসনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক এমপি ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফা। গত সোমবার দুপুরে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসারের সম্মেলনকক্ষে সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত আবেদনের মাধ্যমে তিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন।
ঠাকুরগাঁও-২ আসনে বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম মর্তুজা। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে জেলা কালেক্টরেট হলরুমে রিটার্নিং অফিসারকে তিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের চিঠি দেন। এ সময় তিনি জানান, দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্বেচ্ছায় এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন কৃষক দলের সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য স্বতন্ত্র প্রার্থী নাছির উদ্দীন হাজারী। দলের সিদ্ধান্তকে সম্মান ও দলীয় প্রার্থী বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা,সাবেক এমপি ও বিশ্বব্যাংকের সাবেক বিকল্প নির্বাহী পরিচালক মুশফিকুর রহমানকে সমর্থন জানিয়ে তাঁর প্রার্থিতা প্রত্যাহার করায় বিএনপির নেতাকর্মীরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। এ বিষয়ে নাছির উদ্দীন হাজারী বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শকে লালন করি।’
নাটোর-২ আসন থেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন বিএনপির বিকল্প স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবিনা ইয়াসমিন। এই আসনে বিএনপির মূল প্রার্থী রয়েছেন সাবিনা ইয়াসমিনের স্বামী এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু।
পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা-গলাচিপা) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য হাসান মামুন গতকাল শেষ দিনেও প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। এ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। গত ১৭ জানুয়ারি নুরকে অসহযোগিতার কারণে পটুয়াখালীর দশমিনা ও গলাচিপা উপজেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। বিএনপির বিদ্রোহীদের মধ্যে আরো যাঁরা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে কেন্দ্রীয় বিএনপির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর শরাফত আলী সপু, গাজীপুর-২ থেকে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মো. সালাউদ্দিন সরকার।
বিএনপি বিদ্রোহীদের মধ্যে শেরপুর-১ আসনে সফিকুল ইসলাম, শেরপুর-৩ আসনে আমিনুল ইসলামও প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি।
জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় নির্দেশনা অমান্য করে প্রায় অর্ধশত আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াননি। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা ও বহিষ্কারের হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে এই প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রায় ৫০টি আসনে ৯১ জন বিদ্রোহী প্রার্থী সক্রিয় আছেন। দলীয় টিকিট না পেয়ে অনেক সাবেক ও বর্তমান স্থানীয় নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। এর ফলে স্থানীয় ইউনিটগুলোতে বিভক্তি তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে চূড়ান্ত বৈধ রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে আজ প্রতীক বরাদ্দ করবেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসাররা। প্রতীক নিয়ে প্রচারণা শুরু করতে পারবেন প্রার্থীরা। তবে গতকাল রাত ১০টা পর্যন্ত কোন রাজনৈতিক দলের এবং স্বতন্ত্র কতজন বৈধ প্রার্থী ভোটের মাঠে রয়েছেন তা নিশ্চিত করতে পারেনি ইসি।
গতকাল মঙ্গলবার ছিল সারা দেশে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। এদিন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং স্বতন্ত্র অসংখ্য প্রার্থী প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সম্মানে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার এম সরওয়ার হোসেন। ঢাকার ২০টি সংসদীয় আসনে ২৫ জন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। ৫০টির মতো সংসদীয় আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচনের মাঠে রয়েছেন। শেষ দিন তাঁরা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। তবে জোটের আসন ভাগাভাগির চুক্তির আওতায় যেসব আসন মিত্র দলগুলোকে দেওয়া হয়েছে, সেসব আসনের অন্তত ছয়টিতে এখনো বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মাঠে আছেন।
ময়মনসিংহের মোট ১১টি আসনের মধ্যে চারটি আসনে বিএনপির বিদ্রোহীরা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। আসনগুলো হলো ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট), ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর), ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও), ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা)। নেত্রকোনা-৩ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী বহাল রয়েছেন। এ ছাড়া আরো যাঁরা দলের অনুরোধেও প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি তাঁদের মধ্যে রয়েছেন নরসিংদী-৪ (মনোহরদী ও বেলাব) আসনে জেলা বিএনপির সহসভাপতি জামাল আহমেদ চৌধুরী, রাজবাড়ী-২ আসনে সাবেক এমপি মো. নাসিরুল হক সাবু, গোপালগঞ্জ-২ (গোপালগঞ্জ সদর ও কাশিয়ানী আংশিক) আসনে কে এম বাবর, গোপালগঞ্জ-১ আসন মো. সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, কিশোরগঞ্জ-৩ জাহাঙ্গীর আলম মোল্লা, মানিকগঞ্জ-২ (সিংগাইর-হরিরামপুর) আসনে রয়েছেন আবিদুর রহমান খান রোমান, টাঙ্গাইল-১ আসনে কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী, টাঙ্গাইল-৩ আসনে বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক উপদেষ্টা ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী লুৎফর রহমান খান আজাদ, টাঙ্গাইল-৪ আসনে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি আব্দুল হালিম মিয়া, টাঙ্গাইল-৫ আসনে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল, শেরপুর-১ আসনে সফিকুল ইসলাম, শেরপুর-৩ আসনে আমিনুল ইসলাম। নারায়ণগঞ্জের চারটি আসনেই বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বহাল রয়েছেন।
বিএনপি জোটের প্রার্থীশূন্য দুটি আসন : এবারের নির্বাচনে বিএনপি ২৯২টি আসন নিজেদের রেখে বাকি আটটি আসনে শরিক দলগুলোকে ছাড় দেয়। এর মধ্যে জমিয়তে উলামা চারটি আসনে এবং নাগরিক ঐক্য, গণসংহতি আন্দোলন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদ একটি করে আসনে দলীয় প্রতীক নিয়ে লড়বে। বিএনপি তাদের ২৯২টি আসনসহ ৩০০ আসনে মূল এবং বিকল্প প্রার্থী হিসেবে ৩৩১টি মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিল। এর মধ্যে বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মনোনয়ন ছিল তিনটি আসনে। তাঁর মৃত্যুর কারণে ওই তিনটি মনোনয়নপত্রের কার্যকারিতা বন্ধ হয়। তাঁর আসনগুলোতে বিকল্প প্রার্থীরা রয়েছেন। অন্য বিকল্প প্রার্থীরা তাঁদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন বা মূল প্রার্থী বাদ পড়ায় বিকল্পরা টিকে আছেন। যশোর-৪ আসনে মতিয়ার রহমান ফরাজী বিকল্প প্রার্থী হিসেবে থাকায় এই আসন নিয়ে সংকট নেই বিএনপির। বাদ পড়েছেন কুমিল্লা-৪ আসনে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী ও চট্টগ্রাম-২ আসনে সারোয়ার আলমগীর। ফলে এবারের নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক থাকছে ২৯০টি আসনে। হাইকোর্টে আপিলে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী ও সারোয়ার আলমগীর প্রার্থিতা ফিরে পাবেন বলে তাঁরা আশা করছেন।
জামায়াত প্রার্থীকে প্রত্যাহারে বাধা : গতকাল তিনটি আসনে দলের সিদ্ধান্ত অনুসারে প্রার্থিতা প্রত্যাহারে এলাকার সমর্থকদের বাধার মুখে পড়েন জামায়াতে ইসলামীর দুই প্রার্থী। সুনামগঞ্জে-১ (ধর্মপাশা, তাহিরপুর, জামালগঞ্জ ও মধ্যনগর উপজেলা) আসনে জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির মাওলানা তোফায়েল আহমদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার ঠেকাতে নির্বাচনী এলাকার নেতাকর্মীরা দলের জেলা কার্যালয়ে তাঁকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অবরোধ করে রাখেন। মাওলানা তোফায়েল আহমদ দলের মনোনয়ন পেলেও আসনটি ১০ দলীয় নির্বাচনী জোটের শরিক বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টিকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এতে জামায়াতের স্থানীয় নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ।
একই ঘটনা ঘটে মৌলভীবাজার-৩ আসনে। এই আসন ১০ দলীয় জোটের শরিক খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আহমদ বেলালকে ছেড়ে দিলেও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আব্দুল মন্নান প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। এলাকাবাসী ও কর্মী-সমর্থকদের অবরোধের কারণে তিনি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে পারেননি বলে জানিয়েছেন। গতকাল সকাল থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত রাজনগর উপজেলার দত্তগ্রামে নিজ বাড়িতে এলাকাবাসী ও কর্মী-সমর্থকরা আব্দুল মন্নান যাতে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে না পারেন, সে জন্য তাঁকে ঘেরাও করে রাখেন। গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে তাঁকে অবরোধ করে রাখা হয়। আব্দুল মন্নানের ছেলে ডা. তানভীর সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার বাবা দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন সামনে রেখে স্থানীয় এলাকাবাসী ও কর্মীদের নিয়ে কাজ করেছেন। এ জন্য তিনি যাতে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে না পারেন সে জন্য সকাল থেকে বাড়িতে সাধারণ মানুষ এসে বাবাকে অবরোধ করে রেখেছেন। তবে এখানে জামায়াতের কোনো নেতা নেই। সবাই আমাদের এলাকাবাসী ও আমার বাবার কর্মী।’ নরসিংদী-২ (পলাশ ও সদরের একাংশ) আসন থেকেও জামায়াতের প্রার্থী মো. আমজাদ হোসাইন স্থানীয় নেতাকর্মীদের তোপের মুখে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে পারেননি।
প্রার্থিতা প্রত্যাহারের আরো ঘটনা : কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া জোটের সমঝোতা অনুসারে নির্ধারিত আসন বাদে অন্য সব আসন থেকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা তাঁদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। ১০ দলীয় জোটের প্রার্থীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিনটি আসনে নিজ নিজ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন জামায়াতে ইসলামীর তিনজন প্রার্থী। ঢাকা-১৮ আসনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী প্রিন্সিপাল আশরাফুল হক।
নোয়াখালী-৬ আসনে (হাতিয়া) একক প্রার্থী হিসেবে আবদুল হান্নান মাসউদের পক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে অবস্থান ঘোষণা করেছে ১০ দলীয় জোট। গতকাল সকালে হাতিয়া উপজেলা সদরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ১০ দলীয় জোটের শরিক দলগুলো এনসিপির প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ঘোষণা করে। একই সঙ্গে জামায়াত প্রার্থী অ্যাডভোকেট শাহ মাহফুজুল হক ওই আসন থেকে নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
বরিশাল-৫ (সদর) আসন থেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোয়াযযম হোসাইন হেলাল। একই সঙ্গে দলের সিদ্ধান্ত অনুসারে আসনটিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীমকে সমর্থনের ঘোষণা দেন। কুমিল্লা-৪ আসনে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় নির্বাচনী জোটের প্রার্থী এনসপির হাসনাত আবদুল্লাহকে সমর্থন দিয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন ওই আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী হাফেজ মাওলানা মোফাজ্জাল হোসেন।
এর আগে হাসনাত আবদুল্লাহকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান জামায়াতের প্রার্থী সাইফুল ইসলাম শহীদ।
খুলনার ছয়টি আসনে মোট বৈধ প্রাথী ছিলেন ৪৩ জন। এর মধ্যে গতকাল পাঁচজন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। ফলে এখন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন ৩৮ জন। খুলনা জেলার রির্টানিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক আ স ম জামশেদ খোন্দকার এই তথ্য জানান। প্রত্যাহার করা প্রার্থীরা হলেন খুলনা-১ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ফিরোজুল ইসলাম, খুলনা-২ আসনে খেলোফত মজলিসের মো. শহিদুল ইসলাম, খুলনা-৩ আসনে বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিসের হারুনুর রশীদ, খুলনা-৪ আসনে জামায়াত প্রার্থী মো. কবিরুল ইসলাম, খুলনা-৫ আসনে বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিসের আব্দুল কাইয়ুম জমাদ্দার।
জামায়াতে ইসলামী সূত্রে জানা যায়, খুলনা-৪ আসনে (রূপসা-তেরখাদা-দিঘলিয়া) ১০ দলীয় জোটের শরিক খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির এস এম সাখাওয়াত হোসাইনকে জোটের প্রার্থী করা হয়েছে। এ জন্য এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী প্রত্যাহার করা হয়েছে।
জামায়াত জোটে প্রার্থী সংকট নেই : জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা মোট ২৭৬ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। তবে রিটার্নিং অফিসারদের বাছাইয়ে কক্সবাজার-২ আসনে দলের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদসহ কয়েকজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্ব ছাড়াও মামলাসংক্রান্ত জটিলতায় বাদ পড়েন তাঁরা। তবে নির্বাচন কমিশনে আপিল করে তাঁদের সবাই প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। ১০ দলীয় জোটের সর্বশেষ সমঝোতা অনুযায়ী, জামায়াত ২২০, এনসিপি ৩০, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২৩, খেলাফত মজলিস ১৩, এলডিপি ৭, এবি পার্টি ৪, নেজামে ইসলাম পার্টি ৩ এবং বিডিপি ২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
দলগুলোর সম্মিলিত প্রার্থীর সংখ্যা ৩০২। তিনটি আসন উন্মুক্ত থাকছে। ওই তিন আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস এবং এবি পার্টির প্রার্থী থাকবে। বিএনপি জোটের বিরুদ্ধে আগামী ১২ ফেব্রূয়ারির নির্বাচনে ২৯৯ আসনে লড়বে জামায়াত জোট। বরিশাল-৫ আসনে ইসলামী আন্দোলনের আমির তথা চরমোনাই পীরের ভাই সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে প্রার্থী দিচ্ছে না জামায়াত জোট।