নির্বাচন কমিশনের আপিল শুনানি গতকাল শেষ হয়েছে। এতে অনেক হেভিওয়েট প্রার্থী প্রার্থিতা ফিরে পেলেও ছিটকে পড়েছেন কেউ কেউ। চট্টগ্রাম-৪ আসনের বিএনপির আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহাল থাকলেও চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির আরেকজন সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। গতকাল নির্বাচন ভবনে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি করে নির্বাচন কমিশন। বিভিন্ন দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে চার শতাধিক প্রার্থী তাঁদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে চার নির্বাচন কমিশনার আপিলের সিদ্ধান্ত দেন। আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা বৈধ ঘোষণা করলেও তাঁর বিরুদ্ধে আপিল করা হয় ইসিতে। শুনানিতে আপিল আবেদন নামঞ্জুর করায় রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত বহাল রাখে ইসি; তাতে আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহাল থাকে। দ্বৈত নাগরিকদের মধ্যে বিএনপির দুজন ছাড়া অন্য সবার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। এর মধ্যে কুমিল্লা-৩ স্থগিত ও কুমিল্লা-১০ আসনে বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির সারোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্রও বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা বৈধ করেন। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অর্থাৎ তাঁর প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন একই আসনের জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুল আমিন। শুনানিতে আপিল আবেদন মঞ্জুর হওয়ায় সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বাতিল হয়।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের যাচাইবাছাইয়ে মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীদের আপিল শুনানির শেষ দিনে গতকাল বিএনপি প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। আসলাম চৌধুরীর শুনানির সময় উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক হয় দীর্ঘক্ষণ।
ফেনী-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টু : ফেনী-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী আবদুুল আউয়াল মিন্টুর প্রার্থিতা বহাল রেখেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর আগে রিটার্নিং কর্মকর্তা তাঁর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করলে দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকার অভিযোগ মিন্টুর প্রার্থিতা বাতিলে আপিল আবেদন জমা পড়ে ইসিতে। তবে তিনি মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ২৯ ডিসেম্বরের মধ্যে নাগরিকত্ব বাতিলের আবেদন করায় ও টাকা জমা দেওয়ায় আপিলটি নামঞ্জুর করে ইসি।
প্রার্থিতা ফিরে পেলেন আলোচিত সেই মিজান, বহাল লতিফ সিদ্দিকী : জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আলোচিত সেই মিজানুর রহমান প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। এ ছাড়া টাঙ্গাইল-৪ আসনের স্বতন্ত্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ইচ্ছুক সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীর প্রার্থিতাও বহাল রাখা হয়েছে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে আপিল শুনানি শেষে এমন রায় দেয় ইসি।
আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, ঢাকা-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মিজানুর রহমানের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছিল। রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেছিলেন, দৈবচয়নের ভিত্তিতে তাঁরা যে ১০ জন ভোটারের তথ্য যাচাইবাছাই করেন তার মধ্যে ছয়জনের ঠিকানা সঠিক পাওয়া যায়নি এবং চারজনের মধ্যে মাঠপর্যায়ে গিয়ে মাত্র একজনকে ভেরিফাই করতে পেরেছেন। আমরা তাঁদের খুঁজে না পাওয়া প্রত্যেককেই সশরীরে হাজির করেছি এবং এফিডেভিট দিয়ে বলেছি যে তাঁরা আসলে তাঁকে সমর্থন দিয়েছেন। তাঁর প্রার্থিতার পক্ষে সমর্থন দিয়েছেন। এটা শুনে কমিশন তাঁর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে। এর ফলে তাঁর নির্বাচন করতে কোনো রকমের বাধা নেই। প্রার্থিতা ফিরে পেয়ে মিজানুর রহমান বলেন, ‘এখনো সমাজ থেকে ভয়ডর কেটে যায় নাই। মানুষের মধ্যে এক ধরনের উৎসাহ যেমন পেয়েছি আবার এটাও সত্য নির্বাচনে মানুষের মধ্যে অনীহা কাজ করছে। কেন কাজ করছে সেটা আমরা বুঝতে পারছি না। তবে আমরা নির্বাচনে আসছি ঢাকা-৪ অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নত করার আশায়। আমরা মাঠে নেমেছি সবার সহায়তা এবং শুভকামনা প্রত্যাশা করছি।’ প্রসঙ্গত ২০১৯ সালে ওয়াসার তৎকালীন এমডিকে শরবত খাওয়ানোর জন্য ওয়াসার পানি নিয়ে কারওয়ান বাজারে তাঁর দপ্তরে এসে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেন মিজানুর রহমান। এদিকে টাঙ্গাইল-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী লতিফ সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্র বৈধতার বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিল আবেদনটি খারিজ করে দেয় নির্বাচন কমিশন। ফলে তাঁর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে কোনো বাধা নেই। তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল চেয়ে আপিল করেছিলেন একই আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. লিয়াকত আলী। কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলের (আওয়ামী লীগ) নেতা হওয়ায় তিনি ভোটে অংশ নিতে পারেন না বলে লিয়াকত আলীর আইনজীবী যুক্তি দেখালে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, দল নিষিদ্ধ, ব্যক্তি তো আর নিষিদ্ধ নয়। এরপর তাঁর মনোনয়নপত্র বহাল রাখে কমিশন।
দ্বৈত নাগরিকত্ব ইস্যুতে সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগে সিইসিকে চিঠি : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দ্বৈত নাগরিকদের প্রার্থিতা ঘোষণা নিয়ে ইসির বিরুদ্ধে সংবিধান ও সুপ্রিম কোর্টের আদেশ লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। এই বিষয়ে সিইসি বরাবর একটি লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন মামুন হাওলাদার নামে এক নাগরিক। গতকাল নির্বাচন ভবনে এই আবেদন জমা দেন তিনি। আবেদনে দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণের দাবি জানান তিনি।