Image description

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ-শাকসু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি ক্রমেই হয়ে উঠছে ঘোলাটে। নির্বাচন চায় না একাংশ। তাদের মতে, এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলার অবনতি হতে পারে। আবার কেউ কেউ নির্বাচনের দাবিতে ক্যাম্পাসে আন্দোলনে নেমেছেন। এ নিয়ে প্রশাসন পড়েছে দোটানায়।

আগামী ২০শে জানুয়ারি শাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এ নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেছেন নির্বাচনের স্বতন্ত্র ভিপি প্রার্থী মমিনুর রশিদ শুভ। গতকাল হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট দায়ের করেন। রিটে বলা হয়েছে- ‘নির্বাচন কমিশন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সব ধরনের নির্বাচন বন্ধ রাখার নির্দেশনা জারি করেছে। এ অবস্থায় শাকসু নির্বাচন হতে দেয়া আইনসঙ্গত নয়। একই দাবিতে রোববার ঢাকায় নির্বাচন কমিশন কার্যালয় ঘেরাও করে ছাত্রদল। ছাত্রদলের তরফ থেকে ইসি’র কাছে তিনটি দাবি জানানো হয়েছে।

এই তিন দাবির মধ্যে একটি হচ্ছে- শাকসু নির্বাচন পেছানো। কয়েকদিন আগে নির্বাচন কমিশন থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সব ধরনের নির্বাচন বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয়। এর প্রতিবাদে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। পরে ঢাকায় নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করেন শাবিপ্রবি উপাচার্য। 

বৈঠকে কিছু শর্তে শাকসু নির্বাচনের অনুমতি দেয়া হয়। বৃহস্পতিবার রাতে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের অনুমতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে ইসি। সচিবালয়ের নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখার উপ-সচিব মোহাম্মদ মনির হোসেনের সই করা এ প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়। এই প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকে ফের নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হয়।

এদিকে, এসব তৎপরতাকে শাকসু নির্বাচন পেছানোর ষড়যন্ত্র আখ্যা দিয়ে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করে শিবির সমর্থিত প্যানেলসহ শিক্ষার্থীদের অনেকে। যথাসময়ে শাকসু নির্বাচনের দাবিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন তারা।

নির্বাচন স্থগিতের রিটের খবর পেয়ে শিক্ষার্থীরা বেলা ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে জড়ো হন এবং পরবর্তীতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন। শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল শেষে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। তারা ২০ তারিখেই নির্বাচনের দাবি জানান। এ ব্যাপারে শিবির সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন জানিয়েছেন- ছাত্রদল বারবার নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। কারণ তারা নির্বাচন চায় না। তারা শিক্ষার্থীদের ম্যান্ডেটে ভয় পায়। নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করে তারা নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করতে চায়।

তিনি জানান, আমরা নভেম্বরে নির্বাচন চেয়েছিলাম। ছাত্রদলের দাবি মেনেই জানুয়ারিতে নির্বাচন পেছানো হয়েছে। এখন আমরা যথাসময়ে শাকসু নির্বাচন চাই। কোনো ষড়যন্ত্র নির্বাচন পেছাতে পারবে না। কারণ শিক্ষার্থীরা নির্বাচন চায়। শাকসু’র প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক আবুল মুকিত মোহাম্মদ মোকাদ্দেস সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, আমরা নির্বাচন আয়োজনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। সব প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতেই প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা শেষ হবে। তিনি বলেন, রিটের বিষয়ে তারা এখনো অফিসিয়ালি কিছু পাননি। সংবাদ মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছেন। অফিসিয়ালি কাগজ না আসা পর্যন্ত তারা প্রস্তুতি চালিয়ে যাবেন।