আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় ঐক্যে আসন সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। জোটের শরিক দলগুলোর মধ্যে মোট ২৫৩টি আসনে সমঝোতার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এই নির্বাচনী ঐক্যে ইসলামী আন্দোলন থাকার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত দলটি সমঝোতা থেকে সরে আসে। জোট সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনী ঐক্যে শরিক হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩০টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২০টি, খেলাফত মজলিস ১০টি এবং আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) ৩টি আসনে নির্বাচন করছে। ঘোষিত সমঝোতা অনুযায়ী জামায়াতে ইসলামী ১৭৯টি আসনে প্রার্থী দিচ্ছে। অন্য শরিকদের মধ্যে এলডিপি ৭টি, বিডিপি ২টি এবং নেজামে ইসলামী ২টি আসনে প্রার্থী দেবে। এখনো ৪৭টি আসন নিয়ে হিসাব-নিকাশ চলছে।
সূত্রগুলো বলছে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোট থেকে সরে যাওয়ায় শরিক দলগুলো নিজেদের আসন সংখ্যা বাড়াতে জামায়াতের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে। জামায়াতে ইসলামী এখনো ইসলামী আন্দোলনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে। শেষ পর্যন্ত ইসলামী আন্দোলন জোটে না এলে অবশিষ্ট আসনগুলো অন্যান্য শরিকদের মধ্যে বণ্টন করা হবে বলে জানা গেছে। এদিকে এনসিপি’র পক্ষ থেকে সমঝোতা হওয়া ৩০টি আসনের মধ্যে ইতিমধ্যে ২৭টি আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করে নাম ঘোষণা করা হয়েছে। বাকি তিনটি আসনে শিগগিরই প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে বলে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এনসিপি’র ২৭ আসন: এনসিপি’র ২৭টি আসনে প্রার্থীরা হলেন- ঢাকা-১১ দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, পঞ্চগড়-১ উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, কুমিল্লা-৪ দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, নোয়াখালী-৬ দলের জ্যেষ্ঠ মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসুদ, দিনাজপুর-৫ ডা. আহাদ আলী, রংপুর-৪ দলের সদস্য সচিব আখতার হোসেন, নাটোর-৩ এসএম জার্জিস কাদির, সিরাজগঞ্জ-৬ এসএম সাইফ মোস্তাফিজ, কুড়িগ্রাম-২ আতিকুর রহমান মোজাহিদ, পিরোজপুর-৩ মো. শামীম হামিদী, ময়মনসিংহ-১১ জাহিদুল ইসলাম, ঢাকা-৯ জাবেদ রাসিন, ঢাকা-১৯ দিলশানা পারুল, ঢাকা-২০ নাবিলা তাসনিদ, টাঙ্গাইল-৩ সাইফুল্লাহ হায়দার, বান্দরবান আবু সাঈদ সুজা উদ্দিন, ঢাকা-১৮ আরিফুল ইসলাম আদিব, গাজীপুর-২ আলী নাছের খান, ঢাকা-৮ দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটওয়ারি, নরসিংদী-২ সারোয়ার তুষার, লক্ষ্মীপুর-১ মো. মাহবুব আলম, চট্টগ্রাম-৮ জোবায়রুল হাসান আরিফ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ মাওলানা আশরাফ মাহাদি, নারায়ণগঞ্জ-৪ আব্দুল্লাহ আল আমিন, মুন্সীগঞ্জ-২ মাজেদুল ইসলাম, নোয়াখালী-২ সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়া মজুমদার ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আতাউল্লাহ।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের চূড়ান্ত ২০টি আসনের মধ্যে যে আসনগুলো রয়েছে। সেগুলো হলো- ঢাকা-১৩ মাওলানা মামুনুল হক, শরীয়তপুর-১ আসনে দলের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন, মাদারীপুর-২ মাওলানা আব্দুস সোবাহান, ফরিদপুর-২ মাওলানা আকরাম আলী, মাদারীপুর-১ মাওলানা হানজালা, চাঁদপুর-১ মাওলানা আনিসুর রহমান, চট্রগ্রাম-৫ মাওলানা নাসির উদ্দীন মুনির, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ মাওলানা আমজাদ আশরাফি, কিশোরগঞ্জ-৬ দলের যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন, ময়মনসিংহ-২ মুফতি মোহাম্মদ উল্লাহ, গাজীপুর-৩ মাওলানা এহসানুল হক, নরসিংদী-৩ মাওলানা রাকিবুল ইসলাম, মৌলভীবাজার-৪ মাওলানা নূরে আলম হামিদি। সুনামগঞ্জ-৩ কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর মাওলানা শাহিনূর পাশা চৌধুরী, নেত্রকোণা-১ মোহাম্মদ গোলাম রব্বানী, সিরাজগঞ্জ-৩ মাওলানা আব্দুর রউফ, রাঙ্গামাটি-১ মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক, গোপালগঞ্জ-২ মুফতি শুয়াইব ইব্রাহিম, মানিকগঞ্জ-৩ মুফতি সাইদ নূর।
খেলাফত মজলিসের ১০ আসন: খেলাফত মজলিসের চূড়ান্ত হওয়া ১০টি আসনের প্রার্থীরা হলেন- হবিগঞ্জ-২ মাওলানা আব্দুল বাসিত আজাদ, হবিগঞ্জ-৪ ড. আহমদ আব্দুল কাদের, সিলেট-২ মো. মুনতাসীর আলী, সিলেট-৫ মুফতি আবুল হাসান, নারায়ণগঞ্জ-৫ এবিএম সিরাজুল মামুন, মানিকগঞ্জ-২ শেখ মুহাম্মদ সালাহউদ্দিন, কুমিল্লা-৭ মাওলানা সোলাইমান খান, চট্টগ্রাম-১৩ মাওলানা ইমরান ইসলামাবাদ ও কিশোরগঞ্জ-১ মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী ।
এবি পার্টির ৩ আসন: এবি পার্টির ৩টি আসনের প্রার্থীরা হলেন- ফেনী-২ আসনে দলের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, বরিশাল-৩ এ দলের সাধারণ সমপাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ ও পটুয়াখালী-১ ডা. আব্দুল ওহাব মিনার।
এলডিপি’র ৭ আসন: এলডিপি’র ৭টি আসনের প্রার্থীরা হলেন- ভোলা-২ মোকফর উদ্দিন চৌধুরী, ময়মনসিংহ-৮ এড. ড. আওরঙ্গজেব বেলাল, ময়মনসিংহ-১০ সৈয়দ মাহমুদ মোরশেদ, চাঁদপুর-২ মো. বিল্লাল মিয়াজি, চট্টগ্রাম-১২ এম এয়াকুব আলী, চট্টগ্রাম-১৪ অধ্যাপক ওমর ফারুক।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশে সংবাদ সম্মেলন করে ২৫৩টি সংসদীয় আসনে নির্বাচনী সমঝোতার ঘোষণা দেয় জামায়াত, এনসিপিসহ ১০টি রাজনৈতিক দল। এই নির্বাচনী ঐক্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের থাকার কথা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দলটি এই সমঝোতায় না এসে এককভাবে ২৬৮ আসনে নির্বাচন করার ঘোষণা দেয়, বাকি ৩২টি আসনে তারা অন্যদের সমর্থন দেবে।