বরগুনার পাথরঘাটায় জামায়াতে ইসলামীর নেতা নাসির উদ্দিনের ওপর অতর্কিত হামলা করে পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপিকর্মীর বিরুদ্ধে। সোমবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের হাড়িটানা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত নাসির উদ্দিন ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর বায়তুল মাল সম্পাদক। অভিযুক্ত নুর আলম একই এলাকার ফজলে করিমের ছেলে এবং ইউনিয়ন বিএনপির কর্মী। সদর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক ছগীর হোসেন (ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
ঘটনার প্রতিবাদে পাথরঘাটা পৌর শহরে জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো মহিলা জামায়াতে ইসলামীর তিন-চারজন কর্মী সাংগঠনিক নিয়মিত দাওয়াতি পক্ষের অংশ হিসেবে কাজ করছিল। রুহিতা এলাকার বিএনপিকর্মী নুর আলমের বাড়ির সামনে পৌঁছলে তাদের অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করা হয়। বিষয়টি উপজেলার নেতারা নাসির উদ্দিনকে জানালে তিনি ঘটনাস্থলে যান। সেখানে যাওয়ার পর তার ওপর অভিযুক্ত নুর আলম অতর্কিত হামলা করেন। ওই হামলায় তার ডান পা ভেঙে যায়। তাৎক্ষণিক স্থানীয়রা উদ্ধার করে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে অবস্থার অবনতি দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
আহত নাসির উদ্দিন বলেন, ঘটনাটি শোনার পর সেখানে গিয়ে সত্যতা পাই। আমার উপস্থিতি দেখেই নুর আলম অকথ্য ভাষায় গালমন্দ শুরু করে। এরপর আমার ওপর অতর্কিত হামলা চালায় সে।
অভিযুক্ত নুর আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার পরেই তিনি গা ঢাকা দিয়েছেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পাথরঘাটা সদর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছগীর হোসেন বলেন, কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে বিএনপির সমর্থক নুর আলম জামায়াতে ইসলামীর নাসিরের ওপর হামলা করে পা ভেঙে দিয়েছে। সে যদি কোনো অপরাধ করত তার জন্য আইন ছিল, এভাবে সে হামলা করতে পারে না।
এ বিষয়ে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মাসুদুল আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এ সময় কোনো ব্যক্তির ওপর হামলা কাম্য নয়। জামায়াতে ইসলামীর জনপ্রিয়তা দেখে ঈর্ষান্বিত হয়ে এ কাজগুলো করছে। এর পেছনে রাজনৈতিক নেতাদের ইন্ধন আছে।
পাথরঘাটা থানার ওসি মংচেনলা বলেন, রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে একটি ঝামেলা হয়েছে। জানার পরেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোন লিখিত অভিযোগ আসেনি, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।