গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার মধ্য দিয়ে ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব আসে। প্রস্তাবগুলো নিয়ে প্রণীত হয় ‘জুলাই জাতীয় সনদ’। সনদে অন্তর্ভুক্ত সংবিধান সম্পর্কিত ৪৮টি সংস্কার প্রস্তাবের ওপর অনুষ্ঠিত হবে ‘গণভোট’।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের একই দিন এই ‘গণভোট’-এর আয়োজন চূড়ান্ত। একই আয়োজনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচন’ এবং ‘গণভোট’। সংসদ নির্বাচনের ব্যালট থাকছে সাদা রঙের। গোলাপি রঙের থাকছে ‘গণভোট’-এর ব্যালট। উভয় ব্যালট জমা পড়বে স্বচ্ছ একটি বাক্সে। গণনার সুবিধার্থে দুই ব্যালটের পৃথক রঙ। গণভোটে থাকছে দু’টি বিষয়। ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’। ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে সংবিধান সংস্কারের পক্ষে ‘সম্মতি’ আদায় করা হবে। ‘না’ ভোটে হবে সংস্কারের বিপক্ষের ‘সম্মতি’।
লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এ সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত ৪৮টি প্রস্তাব লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের লিফলেট অনুযায়ী, সম্মতি নেয়া হচ্ছে ৪টি বিষয়ে। বলা হচ্ছে, ‘আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং জুলাই জাতীয় সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত নি¤œলিখিত প্রস্তাবসমূহের প্রতি আপনার সম্মতি জ্ঞাপন করিতেছেন?’ (হ্যাঁ/না)।
প্রস্তাবগুলো কি কি? (ক) নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করা হইবে। (খ) আগামী জাতীয় সংসদ হইবে দুই কক্ষবিশিষ্ট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হইবে এবং সংবিধা সংশোধন করিতে হইলে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন দরকার হইবে। (গ) সংসদে নারীর প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল হইতে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, মৌলিক অধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, স্থানীয় সরকার, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাসহ তফসিলে বর্ণিত যে ৩০টি বিষয়ে জুলাই জাতীয় সনদে ঐকমত্য হইয়াছে সেগুলো বাস্তবায়নে আগামী সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী রাজনৈতিক দলগুলো বাধ্য থাকিবে। (ঘ) জুলাই জাতীয় সনদে বর্ণিত অপরাপর সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করা হইবে।
এ অনুসারে একজন ভোটারকে যদি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের পাশাপাশি ‘হ্যাঁ’-‘না’ গণভোট দিতে হয় তাহলে অনেকগুলো বিষয় তাকে জানতে হবে। বিষয়গুলো ‘সহজবোধ্য’ করার কথা বলে নির্বাচন কমিশন ৪৮টি প্রস্তাবকে ৪টি প্রস্তাবের মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়েছে। অর্থাৎ ৪টি প্রস্তাবের মোড়কে ‘পাস’ করিয়ে নেয়া হচ্ছে সংবিধান সংক্রান্ত আরো ৪৪টি প্রস্তাব। কিন্তু কী আছে সেই ৪৪টি প্রস্তাবে? ‘মার্কা’ দেখে ভোটাধিকার প্রয়োগে অভ্যস্ত মানুষ আলী রীয়াজ-বদিউল আলম মজুমদারদের চাতুর্যপূর্ণ চার প্রস্তাবের অন্তর্নিহিত ৪৪ প্রস্তাবগুলো জানতেই পারবে না। যদি না-ই হয় তাহলে ‘হ্যাঁ’-‘না’ ভোটে কী করে জনমতের প্রতিফলন ঘটবে?
স্মরণে থাকার কথা। ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে বিএনপির দফায় দফায় বৈঠকে বহু সংস্কারের প্রস্তাব দেয়। সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত ১৩১টি সুপারিশের মধ্যে বিএনপি অধিকাংশের ক্ষেত্রেই একমত পোষণ করে। সংস্কার প্রশ্নে বিএনপি একমত হলেও কিছু মৌলিক সংস্কারের ক্ষেত্রে মতপার্থক্যের কথাও জানিয়েছে। বিশেষত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে যেভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে, তার সঙ্গে বিএনপির ভিন্নমত ছিল। অনুষ্ঠিতব্য গণভোটের পক্ষে বিএনপি নীরব থাকবে: এটাই স্বাভাবিক। ‘
হ্যাঁ’-‘না’ ভোটে যেসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ‘সম্মতি’ চাইছে সেগুলোর বিষয়ে বিএনপির ‘নোট অব ডিসেন্ট’ রয়েছে। এ কারণে বিএনপি ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ‘চুপ’ থাকবে। গণভোট ইস্যুতে বিএনপির এই ‘চুপ’ থাকাকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো দলটিকে ‘সংস্কারের বিপক্ষ দল’ হিসেবে প্রচারণা চালিয়ে ভোটের মাঠে ‘মাইলেজ’ নিতে সচেষ্ট জামায়াত জোট। যদিও জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরকারী দল বিএনপি আগে থেকেই বলছে, তারাও সংস্কারের পক্ষে। দলটির মতে, সংবিধান সংস্কার করতে পারে কেবলমাত্র পরর্বর্তী জাতীয় সংসদ। গণভোট নয়। গণভোটের প্রচারণা ইস্যুতে বিএনপি যদি নীরবও থাকে তবুও দল সরকারে গেলে দলীয় এজেন্ডায় থাকা সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন করবে। জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরের দায়বদ্ধতা এবং সংস্কারপন্থি দল হিসেবেই এটি করতে হবে বিএনপিকে।
গণভোটে চারটি প্রশ্নের একটি উত্তর চাওয়া হচ্ছে। ‘হ্যাঁ’ কিংবা ‘না’। মানুষকে জানাতে হবে যে তিনি কোনটি চাইছেন। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, মূল জটিলতাটি এখানেই। চারটি প্রশ্নের কোনো কোনোটিতে বিএনপি ও সমমনাদের আপত্তি রয়েছে। জামায়াত ও সমমনাদের আপত্তি আছে অল্প কিছু বিষয়ে। ফলে রাজনৈতিক দলগুলোর মাঝামাঝি অবস্থান নেয়ার কোনো সুযোগ গণভোটে নেই। হয় জুলাই সনদ অনুসারে সংস্কার এগিয়ে নেয়ার সম্মতি দিয়ে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে। কিংবা ‘না’ ভোটের মাধ্যমে প্রত্যাখ্যান করতে হবে। এর ফলে ‘না’ ভোট জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
সংস্কার প্রশ্নে বিএনপির অবস্থান আগে থেকেই স্পষ্ট। এ কারণে একবাক্যে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষাবলম্বন করতে পারছে না। জামায়াত-এনসিপি জোট ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাবে:এটিও স্পষ্ট। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার কোন্ বৈধতা বলে মানুষকে ‘হ্যাঁ’ ভোটের দিকে প্ররোচিত করছে? ‘হ্যাঁ’ কিংবা ‘না’ ভোটের বার্তাগুলো বড়জোর নির্বাচন কমিশন মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারে। কিন্তু সরকার কী পারে?
অথচ ‘হ্যাঁ’-কে জয়যুক্ত করতে কোমর বেঁধে নেমেছে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে ধুমছে প্রচারণা চালাচ্ছে। গতকাল ১২ জানুয়ারি সচিবালয়সহ সরকারের বিভিন্ন দফতরে ‘গণভোট নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি’র নামে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণা লক্ষ করা যায়। সচিবালয়ের ৭ নম্বর ভবনে টানানো একটি ব্যানারে লেখা হয়েছে, ‘গণভোট ২০২৬ সংসদ নির্বাচন’। দেশের চাবি আপনার হাতে, গণভোটে অংশ নিন অন্যকে উৎসাহ দিন। ‘প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়’ ভবনের আরেকটি ব্যানারে লেখা আছে, ‘গণভোট ২০২৬ : সংসদ নির্বাচন, আপনি কি এমন বাংলাদেশ চান, যেখানে-তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন ও সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি) গঠনে সরকারি দল ও বিরোধী দল একত্রে কাজ করবে।’ প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ও ডিজিটাল প্রচারণায় নেমে পড়েছে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়েও প্রায় একই ধরনের ব্যানার টানাতে দেখা যায়।
গত শুক্রবার থেকে উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’ ভোট নিয়ে একটি লিফলেট প্রচারিত হচ্ছে। লিফলেটের শিরোনাম, গণভোট ২০২৬ সংসদ নির্বাচন-দেশের চাবি আপনার হাতে।
এর আগে গত ৭ জানুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সব মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব/সচিব, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসকের কাছে গণভোটের লোগো ব্যবহার এবং প্রচারণা সংক্রান্ত ব্যানার দৃষ্টিনন্দন স্থানে প্রদর্শনের জন্য চিঠি পাঠানো হয়।
ওই চিঠিতে বলা হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন একই সঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-এ লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলোর ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। গুরুত্বপূর্ণ এই গণভোটের বিষয়ে ভোটারদের ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজন।
ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে গণভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাতে। নির্বাচনী প্রচারণা ব্যাংকের কাজ নয়। তবুও কেন ব্যাংকগুলোতে প্রচারণার হাতিয়ার করা হচ্ছে: এমন প্রশ্ন উঠছে আর্থিক খাত সংশ্লিষ্ট মহল থেকে।
তৃণমূলের মানুষের মধ্যে সরাসরি গণভোটের প্রচার করতে মসজিদের ইমাম ও সরকারি বিভিন্ন দফতরের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজে লাগাচ্ছে সরকার।
গণভোটের পক্ষে জনমত সৃষ্টির আড়ালে সরকার অনেক ক্ষেত্রে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনমত সৃষ্টি করছে। যদিও ‘হ্যাঁ’ কিংবা ‘না’ ভোটের পক্ষে-বিপক্ষে প্রচারণা চালানো সরকারের কাজ নয়। সরকার এখানে ‘রেফারি’ মাত্র। নির্বাচন কমিশন এবং সরকার গণভোটের পক্ষে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে পারে। কিন্তু ‘হ্যাঁ’-‘না’র পক্ষ নিতে পারে না।
অন্তর্বর্তী সরকার গণভোট প্রচারে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেয়ার পক্ষে কথা বলছে। যেসব সরকারি কর্মকর্তাকে গণভোট প্রচারে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে, তাদের অনেকে নির্বাচনী দায়িত্বে থাকবেন। এসব কর্মকর্তা এবং সরকার একটি পক্ষ নিয়ে প্রচার চালাতে পারে কি না: এখন এই প্রশ্ন উঠেছে।
এ প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলছেন, ভোট মানেই নিরপেক্ষ। জিয়াউর রহমানের সময় ‘হ্যাঁ’-‘না’ ভোট হয়েছে। তখন তো তার সরকার বলেনি যে, ‘হ্যাঁ’ ভোট দিন। এ সরকার তো ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকার কোনোমতেই এটি করতে পারে না। এ সরকার জনগণের ওপর ‘হ্যাঁ’-‘না’ গণভোট চাপিয়ে রীতিমতো হাইকোর্ট দেখাচ্ছে।
নিজের দৃষ্টান্ত দিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল সংক্রান্ত সংস্কার প্রস্তাব ভালো কথা। একজন দুই টার্মের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না:এটির সঙ্গে বিএনপিও একমত। কিন্তু বিচার বিভাগীয় সংস্কার প্রস্তাবে হাইকোর্ট বেঞ্চ ঢাকার বাইরে নিয়ে যাওয়ার যে কথা বলা হচ্ছে, এ ক্ষেত্রে তো আমি ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে পারবো না। সব মিলিয়ে মানুষকে গোলচক্করে ফেলে দেয়া হয়েছে। প্রতারণা করা হচ্ছে। এই গণভোটে জনমতের প্রতিফলন ঘটবে না।
তিনি বলেন, সরকার যদি পৃথক গণভোট করতো। রাজনৈতিক দলগুলো যেসব বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে সেগুলোর ওপর যদি গণভোট হতো তাহলে হয়তো সব রাজনৈতিক দলের সমর্থকরাই এ ভোটে অংশ নিতে পারতেন। প্রচারণাও চালাতে পারতেন। কিন্তু এই ভোটে সেটি সম্ভব নয়। গণভোটের অনেক প্রস্তাবের সঙ্গে বিএনপির দ্বিমত রয়েছে। দলটি মনে করছে, সংবিধান সংস্কারের বিষয়গুলো পরবর্তী সংসদ এসে করবে। তাহলে এই দলটির যারা সমর্থক রয়েছেন তারা কেন ‘হ্যাঁ’ ভোট দেবেন? এর পক্ষে প্রচারণাই বা কেন করবেন? তার মতে, গণভোটের নামে জনগণের চোখে ধুলো দেয়ার চেষ্টা চলছে। এ প্রক্রিয়ায় গণভোট আদায় করে যদি ‘হ্যাঁ’ ভোটকে জয়যুক্ত দেখানো হয় তাহলে উচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জ হবে। এখানে সরকার কোনো প্রার্থী নয়। নিছক রেফারি মাত্র। রেফারি কখনো খেলোয়াড় হতে পারে না।
সুপ্রিম কোর্টের আরেক সিনিয়র অ্যাডভোকেট মহসিন রশিদ বলেন, কথিত এই গণভোটে জনমতের প্রতিফলন ঘটবে না। সরকার ‘হ্যাঁ’র পক্ষে কোনো প্রচারণা চালাতে পারে না। এটি কোনো রাজনৈতিক সরকার নয়। পার্লামেন্টে যারা বসবেন, তারা এই গণভোটের ফলাফল নাও মানতে পারেন। এই ভোট বাধ্যতামূলক নয়। ম্যান্ডেটরি হলে হয়তো একটা ভ্যালু থাকতো এই ভোটের। আমি বহুবার টিভিতে বলে আসছি, এটি একটি অপশনাল মেমোরেন্ডাম। এগুলো ‘ইউজলেস’ এবং ‘বোগাস’!