আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে তড়িঘড়ি করে কয়েকশ’ কোটি টাকার পুলিশের বডি ক্যামেরা কেনা হচ্ছে। ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তার জন্য এরই মধ্যে পুলিশের দেড় লাখ সদস্য ও কর্মকর্তাকে বডি ক্যামেরা চালানোর জন্য প্রশিক্ষণও দেয়া হয়েছে। কিন্তু বডি ক্যামেরা সরবরাহ করার ক্ষেত্রে নি¤œমানের ব্যাটারি দেয়া হচ্ছে বলে ব্যাপক অভিযোগ উঠেছে।
এরই মধ্যে বডি ক্যামেরার ১০ হাজার ব্যাটারি সরবরাহ করা হয়েছে পুলিশ টেলিকম কর্তৃপক্ষের কাছে। এসব ব্যাটারির সর্বোচ্চ চার্জ থাকার কথা রয়েছে ৮ ঘণ্টা। কিন্তু প্রাথমিক পরীক্ষা করে দেখা গেছে সরবরাহ করা ব্যাটারির চার্জ ৪ থেকে সর্বোচ্চ ৫ ঘণ্টা থাকছে। এ নিয়ে পুলিশ বাহিনীর মধ্যে ব্যাপক প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। একাধিক ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা সোমবার ইনকিলাবকে জানিয়েছেন, পুলিশের বডি ক্যামেরা কেনা নিয়ে শুরু থেকেই নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। টেন্ডার না দিয়ে প্রতিষ্ঠানকে ক্রয়াদেশ দেয়া এবং নি¤œমানের পণ্য সরবরাহ করা। এর মধ্যে সরবরাহ করা ব্যাটারির চার্জ ৪ থেকে সর্বোচ্চ ৫ ঘণ্টা থাকলে নির্বাচনের সময় বড় ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হবে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোট চলবে। অর্থাৎ ভোট চলবে ৯ ঘণ্টা। সেখানে যদি ৪ থেকে ৫ ঘণ্টার মধ্যে বডি ক্যামেরার চার্জ চলে যায় তা হলে দ্বিতীয়বার চার্জ দিয়ে এটি ব্যবহার করা কঠিন হয়ে যাবে। এ বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রধান উপদেষ্টার দফতরের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।
পুলিশ সদর দফতরের ক্রয় শাখায় দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন এমন একজন পুলিশ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইনকিলাবকে বলেন, এর আগেও নানা প্রয়োজনে পুলিশে বডি ক্যামেরা ক্রয় করা হয়েছে। প্রতিটি ক্যামেরা এর আগে ৪২ হাজার টাকায় ক্রয় করা হয়। কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় এটি উচ্চ মূল্যে কেনা হয়েছে কি না তা দ্রুত তদন্ত করে দেখা উচিত। পুলিশ সদর দফতরের দু’জন কর্মকর্তা, একজন অতিরিক্ত আইজিপি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দু’জন প্রভাবশালী ব্যক্তি এর নেপথ্যে সুবিধা নিয়েছেন, যা পুলিশ বাহিনীতে ওপেন সিক্রেট। এ বিষয়ে তদন্ত করলেই সব বেরিয়ে আসবে। এর নেপথ্যে কাজ করেছেন মিরাজ নামে এক ব্যক্তি।
পুলিশ হেডকোয়ার্টারের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, যেসব কেন্দ্র খুবই ঝুঁকিপূর্ণ, সহিংসতা হওয়ার শঙ্কা বেশি সেসব কেন্দ্রে এ ধরনের ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। ওই ক্যামেরাগুলো ভিডিও ধারণের পাশাপাশি অনলাইনেও সার্ভারের সাথে যুক্ত থাকবে। সেক্ষেত্রে নির্বাচনের কন্ট্রোল রুম থেকে সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা যাবে। বডি ক্যামেরায় যেসব ভিডিও ও অডিও যুক্ত থাকে সেটি তাৎক্ষণিকভাবে কন্ট্রোল সেন্টারে পাঠিয়ে দেয়। কন্ট্রোল সেন্টার থেকে তারা দেখতে পারে এই ক্যামেরা যার কাছে থাকে সেই জায়গার পরিস্থিতি কেমন। এ ব্যাপারে পুলিশ সদর দফতরে যোগাযোগ করা হলেও কোনো কর্মকর্তা মন্তব্য করতে রাজি হননি।