হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে বিএনপির প্রার্থী অর্থনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়ার হলফনামায় দেখা গেছে, তার একমাত্র আয়ের উৎস বাড়ি ভাড়া। বছরে পান ৫ লাখ ৯৮ হাজার টাকা। ভোলা-৩ (লালমোহন ও তজুমদ্দিন) আসনে বিএনপির প্রার্থী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের ব্যাংকে জমা আছে ১৪ লাখ ৭৮ হাজার ৯৫৯ টাকা। তার ঢাকার বনানীতে পাঁচ তলা ভবনের মূল্য ৮০ লাখ ৬ হাজার ৮৯ টাকা। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬
(বাঞ্ছারামপুর) আসনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকির চেয়ে তার স্ত্রীর সম্পদ আড়াইগুণ বেশি। সিরাজগঞ্জ-২ (সদর ও কামারখন্দ) আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর চেয়ে তার স্ত্রী সাবেক সংসদ-সদস্য রুমানা মাহমুদ সোয়া ৫ গুণ সম্পদের মালিক। স্টাফ রিপোর্টার ও প্রতিনিধিদের পাঠানো সংবাদ-
হবিগঞ্জ ও নবীগঞ্জ : ড. রেজা কিবরিয়া আর দলের বিদ্রোহী প্রার্থী ও সাবেক সংসদ-সদস্য শেখ সুজাত মিয়ার মধ্যে সম্পদে বড় ব্যবধান দেখা গেছে। হলফনামা অনুযায়ী, সুজাতের তুলনায় রেজার বার্ষিক আয় ছয়গুণ বেশি এবং স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ প্রায় দ্বিগুণ। রেজা ও তার তিন নির্ভরশীলের বার্ষিক আয় ৩১ লাখ টাকা, যেখানে সুজাতের আয় মাত্র ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা। নির্ভরশীলদেরসহ রেজার মোট সম্পদ ১৫ কোটি টাকার বেশি; সুজাতের সম্পদ প্রায় ৭ কোটি টাকা। রেজা ও সুজাত মিয়ার নামে কোনো মামলা নেই। সুজাত মিয়া স্ত্রী বা নির্ভরশীলদের নামে কোনো সম্পদ দেখাননি। রেজা তার হলফনামায় দেখিয়েছেন, নিজের ও তিন নির্ভরশীলের নামে বাৎসরিক আয় ৩১ লাখ ১ হাজার ৬৪৬ টাকা। রেজা কিবরিয়ার অস্থাবর সম্পদ ৩ কোটি ৫১ লাখ ১৫ হাজার ৮৩৬ টাকার, স্ত্রীর অস্থাবর সম্পদের মূল্য ৩ কোটি ২৩ লাখ ৩৪ হাজার ৬২৩ টাকা। এছাড়াও স্ত্রীর ১২৫ ভরি স্বর্ণালংকার রয়েছে। রেজা কিবরিয়ার স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে ৪ কোটি ১৫ হাজার টাকার। আর স্ত্রীর নামে আছে ৫ কোটি ১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকার সম্পদ। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শাহজাহান আলী গত বছরে তিনটি খাতে মোট ৮ লাখ ২০ হাজার ৮৮৫ টাকা আয় দেখিয়েছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া : জোনায়েদ সাকি পেশা হিসাবে উল্লেখ করেছেন ‘প্রকাশক’, আর তার স্ত্রী তাসলিমা আক্তার পেশায় ‘শিক্ষক ও আলোকচিত্রী’। সাকি বছরে ৭ লাখ ৭২ হাজার ৯৩৬ টাকা আয় করেন। তার স্ত্রীর বছরে আয় ২৩ লাখ ৯ হাজার ২১১ টাকা। স্থাবর সম্পদের মধ্যে জোনায়েদ সাকির নামে ১১ একর অকৃষি জমি রয়েছে ও একটি ফ্ল্যাটের জন্য অগ্রিম ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা জমা দেওয়া হয়েছে। তার স্ত্রীর নামে ১৮ দশমিক ১৮ পয়েন্টের কৃষি জমি রয়েছে। এছাড়া একটি ফ্ল্যাট ও দোকান রয়েছে। জোনায়েদ সাকির সম্পদের পরিমাণ ৪৬ লাখ ৬২ হাজার ৬০২ টাকা এবং তার স্ত্রীর ১ কোটি ২২ লাখ ৯৩ হাজার ৩০৪ টাকার সম্পদ রয়েছে।
লালমোহন (ভোলা) : মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের নগদ আছে ৬৭ লাখ ৯৮ হাজার ৭১১ টাকা। তার ১ কোটি ৯ লাখ ৭৭ হাজার ৬৭০ টাকার সম্পদ রয়েছে। তার স্ত্রী অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা দিলারা হাফিজের সম্পদের পরিমাণ ২ কোটি ৫৮ লাখ ৬১ হাজার ১৫১ টাকা। দিলারা হাফিজের নগদ রয়েছে ৫ লাখ ৮৪ হাজার ১৫১ টাকা। শেয়ার ক্রয় আছে ৩ লাখ ৭৭ হাজার টাকার। সঞ্চয়পত্র আছে ১ কোটি টাকার এবং উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি আছে ১ কোটি ৪৯ লাখ টাকার। মেজর (অব.) হাফিজের ঢাকার বনানীতে পাঁচ তলা ভবনের মূল্য ৮০ লাখ ৬ হাজার ৮৯ টাকা। বাৎসরিক আয় ১৬ লাখ ৫৮ হাজার ৫৭৪ টাকা। স্ত্রীর বার্ষিক আয় ১৩ লাখ ৯১ হাজার ৫৭৪ টাকা।
সিরাজগঞ্জ : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর মোট অস্থাবর সম্পদ ৪ কোটি ৬৪ লাখ ৮৩ হাজার ৬২৭ টাকা। তার স্ত্রী রুমানা মাহমুদের অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ২৪ কোটি ৯৫ লাখ ৯২ হাজার ৭০৩ টাকা। টুকুর নগদ অর্থ ২ কোটি ১৩ লাখ ৫ হাজার ৬২৭ টাকা, রুমানার নগদ অর্থ ৩ কোটি ৭৬ লাখ ৫২ হাজার ৪৫২ টাকা। টুকুর স্থাবর সম্পদের পরিমাণ ২ লাখ ২৫ হাজার ৩০৭ টাকা। তার স্ত্রীর স্থাবর সম্পদের মূল্য ৩৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। টুকুর বার্ষিক আয় মোট ৮ লাখ ২৬ হাজার ৩৫৭ টাকা। টুকু ঋণমুক্ত থাকলেও রুমানা মাহমুদ স্বামীর কাছে ২ কোটি টাকা ঋণী।