Image description
থেমে গেছে সব ষড়যন্ত্র তত্ত্ব

কয়েকটি ঘটনার পর অবশেষে আপাতত থেমে গেছে জাতীয় নির্বাচন নিয়ে সব ষড়যন্ত্র তত্ত্ব। একে একে এসব তত্ত্ব শেষ হওয়ার পর এখন রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা পুরোদমে নির্বাচনি মাঠে রয়েছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপিসহ নির্বাচনে অংশ নেওয়া সব দলের নেতা এতদিন কেন্দ্রে তৎপর থাকলেও এখন ভোটের মাঠে চলে গেছেন। সবার নজরই এখন জাতীয় নির্বাচনের দিকে। নানা তৎপরতার মধ্য দিয়ে ভোটারদের মন জয়ের পাশাপাশি নির্বাচন পরিচালনা কমিটি সাজাচ্ছেন তারা। এ কারণে উৎসবমুখর হয়ে উঠছে সারা দেশ।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে নির্বাচনি কর্মকাণ্ড কয়েকদিনের জন্য স্তিমিত হয়ে পড়েছিল। রাষ্ট্রীয়ভাবে তিন দিনের এবং বিএনপির পক্ষ থেকেও ঘোষণা করা হয়েছে ৭ দিনের শোক। এর আগে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন উপলক্ষ্যেও অনেক প্রার্থী ঢাকায় চলে এসেছিলেন। সব মিলিয়ে বেশ কয়েকদিন ব্যস্ত ছিলেন বিএনপির প্রার্থীরা। তবে খালেদা জিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় শোকাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল পুরো দেশ এবং এর প্রভাব পড়েছিল নির্বাচনি প্রচারণায়। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর প্রার্থীরা নির্বাচনের মাঠে চলে গেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নির্বাচনি আচরণবিধি মেনে বৃহস্পতিবার থেকে আবারও মাঠ গোছানোর কাজে মনোযোগ দিয়েছেন প্রার্থীরা। রিটার্নিং অফিসার কার্যালয়ে এখন মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই চলছে, যা চলবে আগামীকাল রোববার পর্যন্ত। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেনসহ বেশির ভাগ দলের সিনিয়র নেতাকে দু-একদিন আগেও ঢাকা দেখা গেছে। কিন্তু শুক্রবার তাদের দেখা গেছে নিজ নিজ নির্বাচনি এলাকায়।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশা এখন একটাই-গণতন্ত্র ফিরে পাওয়া। ১৭ বছর ধরে মানুষ ত্যাগ স্বীকার করেছে। যারা জীবন দিয়েছেন, গুম, খুন, মিথ্যা মামলা, চাকরি হারানোর শিকার হয়েছেন সেসব ত্যাগের বিনিময়ে আজ আমরা আমাদের ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছি। সবাই ভোট দিয়ে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করছে।

তিনি আরও বলেন, দেশে যে সমস্যাগুলো পুঞ্জীভূত হয়েছে, তার সমাধান নির্বাচিত সরকারই দিতে পারবে। এখন রাজনৈতিক পরিবর্তনের দিকে আমরা ফোকাস দিচ্ছি। জনগণের প্রধান চাহিদা একটি উৎসবমুখর নির্বাচন। ছোটখাটো ইস্যুতে জনগণের মনোযোগ নেই, সবাই চায় নির্বাচন।

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচনের তফসিল হয়েছে, এখন আর ভোট নিয়ে কোনো শঙ্কা দেখছি না। জামায়াতের প্রার্থীরা নির্বাচনে মাঠে রয়েছেন। তবে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা এখনো প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। থানায় সন্ত্রাসীদের তালিকা থাকলেও বাস্তবে তাদের গ্রেফতার বা অস্ত্র উদ্ধারের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। তিনি বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা। শুধু অভিযানের কথা শুনছি, কিন্তু বাস্তবে সন্ত্রাসীরা ধরা পড়ছে না। সন্ত্রাসীরা ধরা না পড়লে এবং অস্ত্র উদ্ধার না হলে ভোটারদের মধ্যে আস্থার সংকট থেকেই যাবে। একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রশাসনকে আরও কঠোর ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে।

এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, একটা পক্ষ ছড়িয়েছিল যে এই সরকার নির্বাচন দেবে না বা তারা দিতে চায় না, দীর্ঘ সময় ক্ষমতা ধরে রাখতে চায়। এনসিপি ৫ বছর থাকতে চায়, এ রকম নানা ষড়যন্ত্রের কথা বলছিল। এখন তো নির্বাচনের তফসিল হয়েছে, যাচাই-বাছাইও শেষের দিকে। ফলে এসব যে শুধু অভ্যুত্থানের নেতাদের বিতর্কিত করা এবং সরকারকে ইচ্ছাকৃতভাবে নানা ধরনের বিতর্কে জড়িত করার একটা পাঁয়তারা ছিল, সেটা এখন স্পষ্ট হচ্ছে। আসলে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা এসব কাজ করেছে। তিনি বলেন, আশা করি নির্বাচন হয়ে যাবে। সব দলই নির্বাচনমুখী। সেক্ষেত্রে আমরা আশাবাদী যে, একটা ভালো নির্বাচন হবে। জনগণ তার প্রত্যাশা অনুযায়ী সাড়া দেবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মনে করেন, ভোটের আগে অনেক প্রোপাগান্ডা থাকে। এবারও ছিল। তবে কোনো প্রোপাগান্ডা বা ষড়যন্ত্রই কাজে আসবে না-এটাই স্বাভাবিক ঘটনা। কারণ দেশের মানুষ দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে ভোট দিতে পারেননি। তারা ভোট দেওয়ার জন্য মুখিয়ে আছেন। এছাড়া প্রধান উপদেষ্টাও নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সে অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনও তফসিল দিয়েছে। দেশকে স্থিতিশীলতার স্বার্থে নির্বাচনের কোনো বিকল্প ছিল না। এখন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ সব দল নির্বাচনের মাঠে নেমে গেছে। আশা করা হচ্ছে, এবার নির্বাচন হবে সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য।

বাতাসে ভাসছিল যেসব ষড়যন্ত্র তত্ত্ব : নির্বাচনকে সামনে রেখে সবচেয়ে বড় ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছিল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরবেন না। এ নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নানা গল্প তৈরি করেছিল। কিন্তু সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ২৫ ডিসেম্বর তিনি দেশে ফিরেছেন। দ্বিতীয় ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছিল, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস কখনো ক্ষমতা ছাড়বেন না। এমন প্রশ্নও উত্থাপন করা হয়েছিল যে, তিনি কি গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষমতা স্বেচ্ছায় ছেড়েছিলেন? সুতরাং রাষ্ট্রক্ষমতাও ছাড়বেন না। কিন্তু ড. ইউনূস প্রথম থেকেই নির্বাচনকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। এমন তথ্যও জানা গেছে, নির্বাচন না হলে তিনি ক্ষমতা ছেড়ে দেবেন এমন কথা বলেছেন বেশ কয়েকবার। কিন্তু এখন জনমনে স্পষ্ট যে, তিনি একটা সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন করার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

এর বাইরে, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত বাংলাদেশে নির্বাচন হতে দেবে না এমন ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ঘুরপাক খেয়েছে বেশ কয়েক মাস। কিন্তু দেখা গেল, ওই দেশটিও ইনক্লুসিভ নির্বাচন চায়। শুধু তাই নয়, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী শোক প্রকাশ করেছেন। সে দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর শোকবার্তা নিয়ে বাংলাদেশে ছুটে এসেছেন। তিনি সরকার ও তারেক রহমানের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এতে স্পষ্ট হয়েছে, ভারতের অবস্থানও নির্বাচনের দিকে। শুধু তাই নয়; যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচন চায় কিনা এবং ওই দেশটি কাকে ক্ষমতায় আনতে চায় এ নিয়েও গত এক বছরে চলেছে অনেক মুখরোচক আলোচনা। পাকিস্তানসহ অপরাপর ইউরোপীয় দেশ অবশ্য শুরু থেকেই নির্বাচনের পক্ষে কথা বলে আসছে। তবে দেশজুড়ে নির্বাচনি জোয়ারে ওই সব আলোচনা এখন থেমে গেছে। মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে এতদিন বাতাসে ভেসে বেড়ানো নানা আন্তর্জাতিকভাবে ষড়যন্ত্র তত্ত্বও।

তবে এসব তত্ত্বের সূত্র ধরে একদিকে জরুরি অবস্থা জারির গুঞ্জন যেমন ছড়িয়েছে, তেমনি কেউ কেউ সামরিক শাসন জারি হবে এমন জুজুর ভয়ও দেখিয়েছেন। এমনও বলা হয়েছে, দেশে গৃহযুদ্ধ বেঁধে যেতে পারে। কারণ হিসাবে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ বসে নেই। ভারতে বসে শেখ হাসিনার নানা উসকানিমূলক বক্তব্য এসব গুঞ্জনে আরও কিছুটা হাওয়া দিয়েছে। আদালতের রায়ে হাসিনার মৃত্যুদণ্ডাদেশকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের কিছু সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ওইসব ষড়যন্ত্র তত্ত্ব কিছু দিনের জন্য জিইয়ে রাখতে সাহায্য করে। পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনসহ দু-একটি ইস্যুতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতির কারণেও কিছুটা উত্তাপ ছড়িয়েছে রাজনীতিতে। ওই পরিস্থিতিতে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ কয়েকটি দল নির্বাচন চায় কিনা এমন প্রশ্নও তুলেছেন কেউ কেউ। রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকেও নির্বাচনের অনিশ্চয়তার বিষয়ে নানা বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান হাদির গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর ঘটনায়ও কয়েকদিনের জন্য উত্তাল হয়ে উঠে দেশ। ওই সময়ও বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন তোলা হয়, নির্বাচন আদৌ হবে কি?

তবে পরিস্থিতি শান্ত হতে থাকে তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তনের পর থেকে। ওই সময় লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমে এসে তাকে স্বাগত জানান। দেশের আগামী নির্বাচন ও রাজনীতির বিষয়ে তার ভারসাম্যমূলক বক্তব্য জনমনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। এর আগে নির্বাচন সামনে রেখে বিভিন্ন জোট গঠন এবং আসন বণ্টনের প্রক্রিয়া শুরু হলেও পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। তবে খালেদা জিয়ার মত্যুর ঘটনা যেন পুরো জাতিকে এক করে ফেলে। দেশের সব রাজনৈতিক দল এক হয়ে বিএনপি নেত্রীর জন্য শোক প্রকাশ করে। তার অহিংস রাজনীতির বাণী হিংসা-বিদ্বেষ ভুলিয়ে গণতন্ত্রের পথের যাত্রায় সবাইকে সংযমের পথ দেখায়। খালেদা জিয়ার শোক বইতে স্বাক্ষর করতে গিয়ে বৃহস্পতিবার জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় জামায়াতের আমির বলেন, তারা সবকিছু ঐক্যবদ্ধভাবে করতে চান। তিনি এমনও বলেন যে, জামায়াত সরকার গঠনের আগে আরেকবার খোলামেলা আলোচনা করতে চায়। দেশের স্থিতিশীলতার স্বার্থে আগামী ৫ বছরের জন্য সবাই মিলে ভালো কিছু চিন্তা করা যায় কিনা, সে উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলেন তিনি। বিশ্লেষকরা জামায়াতের আমিরের এ ধরনের বক্তব্যকে রাজনৈতিক সহাবস্থানের ইঙ্গিত বলে মনে করেন।

নির্বাচনি মাঠে প্রার্থীরা : বিএনপি চেয়ারপারসনের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর বৃহস্পতি ও শুক্রবার ঢাকা ছেড়েছেন প্রায় সব রাজনৈতিক দলের সংসদ-সদস্য প্রার্থীরা। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর শোককে শক্তিতে পরিণত করতে চাই। আমরা এত সংকীর্ণ নই যে, চেয়ারপারসনের মৃত্যুশোককে নির্বাচনের কাজে ব্যবহার করব। এই শক্তিকে আমরা জাতি বিনির্মাণে ব্যবহার করতে চাই।

এদিকে, সংসদ নির্বাচন পরিচালনার লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার রাতে ৪১ সদস্যবিশিষ্ট নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করেছে বিএনপি। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানকে চেয়ারম্যান ও সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে সদস্য সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার দলের স্থায়ী কমিটির বেশ কয়েকজন নেতাসহ কেন্দ্রীয় নেতারা নিজ নিজ নির্বাচনি এলাকায় গেছেন। খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে কেন্দ্রসহ সারা দেশের কার্যালয়গুলোতে দলীয় পতাকা অর্ধনমিত এবং কালো পতাকা উত্তালন করা রয়েছে।

দলটির সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও হবিগঞ্জ-৩ আসনে দলের মনোনীত প্রার্থী জিকে গউছ যুগান্তরকে বলেন, খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আমাদের দলের সব নেতাকর্মীসহ দেশের মানুষ শোকাহত। জানাজার উদ্দেশে যারা ঢাকায় গেছেন তারা এলাকায় ফিরে এসেছেন। নির্বাচনি মাঠে আছেন সবাই। আপাতত আমরা আমাদের নেত্রীর জন্য দোয়া ও শোকসভা করছি। নির্বাচনি আচরণবিধির মধ্যে থাকায় দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল হিসাবে আচরণবিধি মেনেই কার্যক্রম চালিয়ে যাব। আচরণবিধি ভঙ্গ হয় বা নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয় এমন কোনো কাজে বিএনপি জড়াবে না। তিনি বলেন, এখন মনোনয়ন যাচাই-বাছাই চলছে। প্রতীক বরাদ্দের পরে আমরা আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণায় নামব।

ময়মনসিংহ-৫ আসনে জামায়াতের প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও প্রচার বিভাগীয় সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, আমরা নির্বাচনি মাঠে আছি। নির্বাচনি আচরণবিধি মেনে যা যা করার উচিত তা করছি।

নাটোর-২ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে হারানোর শোককে শক্তিতে পরিণত করব। আমরা বিশ্বাস করি, বিএনপির নেতাকর্মীরা সব বিভেদ-দ্বন্দ্ব ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে বিএনপি চেয়ারপারসনের আদর্শকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য মাঠে থাকবে।

বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা থেকে নিজ নির্বাচনি এলাকায় যান জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক ও বরিশাল-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রাজিব আহসান। যুগান্তরকে তিনি বলেন, শুক্রবার মনোনয়ন বাছাই প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করেছি। নিয়ম মেনে এলাকায় নির্বাচনি কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করব।