Image description
► কমছে প্রতিহিংসা ► ইতিবাচক দেখছেন বিশ্লেষকরা

তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর দলমতনির্বিশেষে সব রাজনৈতিক দল ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। এ সময় দলগুলোর শীর্ষ নেতারা তারেক রহমানকে সান্ত্বনা দেওয়ার পাশাপাশি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এবং নির্বাচনের পরে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে কীভাবে একে অন্যকে সহযোগিতা করতে পারেন এ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। দলগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়টি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন রাজনীতি বিশ্লেষকসহ সাধারণ মানুষ। তারা বলছেন, অতীতে দেখা গেছে, শুধু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হওয়ার কারণে দলগুলোতে প্রতিহিংসা বিরাজ করেছে। রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে মুখ দেখাদেখিও বন্ধ ছিল। এমনকি সামাজিক অনুষ্ঠানে কেউ কারও সঙ্গে কথা বলতেন না। বর্তমানে বিশেষ করে আগামী নির্বাচনে প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপি ও জামায়াত নির্বাচন ঘিরে সহযোগিতার কথা বলছে। বিষয়টি রাজনীতিতে স্বস্তির ইঙ্গিত বলেই মনে করছেন তাঁরা।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে গিয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। এ সময় তিনি দেশের স্বার্থে মিলেমিশে একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। নির্বাচনের পর সরকার গঠনের আগে বিএনপির সঙ্গে আবারও বসার ইচ্ছার কথা বলেছেন জামায়াত আমির। সাক্ষাতে তারেক রহমানকে এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সমবেদনা জানান। তারেক রহমানের উদ্দেশে জামায়াত আমির আরও বলেছেন, দেশ এখন একটা গুরুত্বপূর্ণ বাঁকে আছে। সামনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট। সংস্কারের জন্য গণভোট আর সরকার গঠনের জন্য সাধারণ নির্বাচন। ১২ তারিখের এই নির্বাচন নির্বিঘ্ন হোক, সুন্দর হোক এবং গ্রহণযোগ্য হোক, আমরা এই দোয়া করি। প্রিয় দেশের স্বার্থে অতীতে আমরা একসঙ্গে কাজ করেছি। ভবিষ্যতেও দেশের স্বার্থে ইনশাআল্লাহ আমরা একসঙ্গে কাজ করব। তারেক রহমানসহ উপস্থিত বিএনপির নেতারাও একই আকাক্সক্ষা ব্যক্ত করেছেন। জামায়াত আমির বলেছেন, আগামী পাঁচ বছরের জন্য জাতির স্থিতিশীলতার স্বার্থে একটা সুন্দর পরিবেশ ফিরিয়ে আনার স্বার্থে আমরা সবাই মিলেমিশে ভালো কোনো চিন্তা করতে পারি। বিএনপি নেতারাও একই কথা বলেছেন। দল দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও এখন পর্যন্ত পারস্পরিক সৌহার্দ অক্ষুণ্ন রেখেছে। কারণ দীর্ঘ সময় সমমনা হিসেবেই আন্দোলন, সংগ্রাম ও সরকারে থেকে কাজ করেছে।  একই দিনে গুলশানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েমের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদল। বৈঠকে দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ছাত্রসমাজের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। তারেক রহমান দেশের ছাত্রসমাজের প্রতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু দিকনির্দেশনা দেন। সাদিক কায়েম জানান, জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে ফ্যাসিবাদবিরোধী সব শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। তারেক রহমান তাঁদের বলেছেন রাজনীতিতে মতপার্থক্য থাকা গণতান্ত্রিক সৌন্দর্য, কিন্তু বাংলাদেশ ও জুলাই বিপ্লবের প্রশ্নে সবাইকে এক থাকতে হবে। বৈঠকে বিএনপি, জামায়াতসহ সব ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দল এবং ছাত্রদল, ছাত্রশিবিরসহ সব ছাত্রসংগঠনকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তারেক রহমান। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু জামায়াত বা ডাকসু ভিপি নয়, বাংলাদেশের প্রায় সব রাজনৈতিক দল তারেক রহমানের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। ভবিষ্যতে একটি আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গঠনে সবাই একমত পোষণ করেছে। আর এই বিষয়টিকে সাধুবাদ জানাচ্ছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞসহ দেশবাসী। তারা বলছেন, তারেক রহমান মায়ের অনুপস্থিতিতে দেশের সামগ্রিক রাজনীতিতে সাংগঠনিকভাবে বিএনপিকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। পাশাপাশি অন্য দলগুলোকেও পাশে নিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাবেন। 

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগমনে দেশের রাজনীতিতে সুবাতাস বইছে। রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে এবং দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। দেশের মানুষের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।  রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, রাজনৈতিক দলের নেতারা সমবেদনা জানানোর জন্য তারেক রহমানের কাছে গেছেন। এটা ভদ্রতা-শালীনতা। এ নিয়ে এর বেশি কিছু ভাবা ঠিক হবে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, তারেক রহমান বিদেশে থেকে একটি ফ্যাসিবাদী সরকারকে সরাতে নেতৃত্ব দিয়ে সাফল্য অর্জন করেছেন, যা বাংলাদেশের রাজনীতিতে ব্যতিক্রমী উদাহরণ। তাঁর দেশে ফেরার ফলে মানুষের মনোজগতে বলুন, রাজনৈতিক আচরণে বলুন একটা প্রভাব পড়বে। তাঁর দেশে ফেরার কারণে দেশের মধ্যে যেসব অস্থিরতা বিরাজ করছে সেগুলো অনেকাংশে কমে আসবে। একই সঙ্গে নতুন বাংলাদেশে তারেক রহমানের ইতিবাচক নেতৃত্ব দেখানোর সুযোগ এসেছে। তিনি দেখিয়েছেন কর্তৃত্ববাদী সরকারকে কীভাবে সরাতে হয়। আর এখন সুযোগ এসেছে কীভাবে সবাইকে নিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল করা যায়।