Image description

চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনের ১৪৩ জন প্রার্থী তাদের হলফনামা নির্বাচন কমিশনে জমা দিয়েছেন। হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, বিএনপির অনেক হেভিওয়েট প্রার্থীর সম্পদের পাশাপাশি ঋণের পরিমাণও বেড়েছে। হলফনামায় প্রার্থীদের মামলাসহ বিভিন্ন তথ্য রয়েছে। হেভিওয়েট প্রার্থী আসলাম চৌধুরী, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, গোলাম আকবর খোন্দকার ও গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর সম্পদের হিসাব তুলে ধরা হলো। তথ্য বিশ্লেষণে গিয়াস কাদেরের চেয়ে গোলাম আকবরের সম্পদ বেশি দেখা গেছে।

আসলাম চৌধুরী : আসলাম চৌধুরী চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী তার সম্পদের পরিমাণ ৪৫৬ কোটি ৯৫ লাখ ৭ হাজার টাকা। তার ঋণ চট্টগ্রামের প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। বর্তমানে তার ঋণ রয়েছে ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। রাজনৈতিকসহ বিভিন্ন আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে ১৩২টি। নিজ এলাকা সীতাকুণ্ড থানায় মামলা রয়েছে ৬টি, সিএমপির বিভিন্ন থানায় ৫টি, চট্টগ্রাম ও ঢাকায় এনআই অ্যাক্টের মামলা আছে ৬৭টি, ঢাকায় রাজনৈতিক মামলা রয়েছে ২টি। তবে ৮০টি মামলা চলমান থাকলেও ৫২টি মামলায় ৫ আগস্টের পর খালাস পেয়েছেন তিনি।

পাঁচটি ব্যাংক ও অন্যান্য মিলে আসলাম চৌধুরীর ঋণ রয়েছে ৩৫৪ কোটি ৪১ লাখ ৬৩ হাজার ২৬৯ টাকা। জামিনদার হিসাবে তার ঋণের পরিমাণ ১০৫৯ কোটি টাকা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ডিরেক্টর হিসাবে ২৮৫ কোটি টাকা। তার ঋণের পরিমাণ সম্পদের তুলনায় ২৪.২৫ গুণ বেশি। স্ত্রী জামিলা নাজনীন মাওলার বার্ষিক আয় ৬ লাখ ১৩ হাজার টাকা। আর একমাত্র ব্যবসায়ী মেয়ে মেহেরীন আনহার উজমার বার্ষিক আয় ৯ লাখ ৮ হাজার টাকা। আসলাম চৌধুরীর স্ত্রীর অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ১২ কোটি ৩২ লাখ ও স্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৬ কোটি ১০ লাখ ৯১ হাজার টাকা। মেয়ের অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৪ কোটি ৬৬ লাখ ৩২ হাজার টাকা আর স্থাবর সম্পদ নেই। আসলাম চৌধুরীর প্রধান আয়ের উৎস দেখানো হয়েছে ব্যবসা। এই খাতে তার বার্ষিক আয় ৪৮ লাখ ৩৭ হাজার টাকা। শেয়ার, বন্ডে আয় ৫ হাজার ৩৪১ টাকা। তার ব্যাংকে জমা ১ লাখ ২৩ হাজার ৪২ টাকা। বৈদেশিক মুদ্রা আছে ৬২ হাজার ৫০০ টাকার। কোম্পানির শেয়ার আছে ৯ কোটি ৯৯ লাখ ৬৭ হাজার ৫০০ টাকার। অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ২৬ কোটি ১৬ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। স্থাবর সম্পদ আছে ৪৩ কোটি ৭৮ লাখ ৩০ হাজার টাকার।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসন থেকে। তার আয়কর ফাইলে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের রিটার্ন দাখিলের তথ্যে দেখা যায়, তার বার্ষিক আয় ১ কোটি ২২ লাখ টাকা। সম্পদ মূল্য দেখিয়েছেন ১০ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। আয়কর দিয়েছেন ২৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা। তার স্ত্রী তাহেরা আলম আয়কর রিটার্নে আয় দেখিয়েছেন ১১ কোটি ৫১ লাখ টাকা। সম্পদ মূল্য দেখিয়েছেন ৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা। আমির খসরুর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মূল্য ১০ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। তার স্ত্রীর স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ৪ কোটি ৯২ লাখ টাকার।

হলফনামায় আমির খসরুর বিরুদ্ধে মামলার তথ্যও রয়েছে। ২০১৮ সালে তার বিরুদ্ধে ১৪টি মামলা থাকলেও পরে সেটি বেড়ে হয়েছে ৩৪টি। বিশেষ ক্ষমতা আইন, বিস্ফোরক আইন, তথ্যপ্রযুক্তি আইন ও পেনাল কোডের বিভিন্ন ধারায় এসব মামলা হয়েছে।

গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী : চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আয়কর রিটার্নে তিনি তার নামে ১৮ কোটি ২৩ লাখ টাকার বেশি সম্পদ দেখান। তিনি পেশায় নিজেকে ব্যবসায়ী দেখিয়েছেন। তবে গিয়াসের স্ত্রী ও তিন সন্তানের নামে সম্পদের পরিমাণ বেশি। স্ত্রীর নামে ৭ কোটি ১৯ লাখ টাকা, তিন সন্তানের মধ্যে সাকের কাদের চৌধুরীর নামে রয়েছে প্রায় ৩০ কোটি টাকার বেশি সম্পদ। আরও দুই সন্তানের নামে সম্পদ রয়েছে ৬ কোটি টাকার। গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীসহ তার পরিবারের সদস্যদের সম্পদের মধ্যে রয়েছে নগদ অর্থ, ব্যাংকে জমা, ঋণপত্র। পাশাপাশি ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাউজানে বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট, জমি, শেয়ার ব্যবসা রয়েছে।

গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে দায়ের হওয়া ১৭টি মামলার সবকটিতে তিনি খালাস পেয়েছেন। যেগুলো বেশির ভাগ ছিল রাজনৈতিক মামলা। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে চারটি ফৌজদারি মামলা চট্টগ্রাম আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। সব মামলায় তিনি স্থায়ী জামিনে আছেন। একটি মামলা উচ্চ আদালত কর্তৃক স্থগিত করা হয়েছে।

গোলাম আকবর খোন্দকার : চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে গোলাম আকবর খোন্দকার বিএনপির মনোনীত প্রার্থী। গিয়াস কাদেরের পাশাপাশি শেষ মুহূর্তে এসে তাকেও বিএনপির মনোনয়ন দেওয়া হয়। হলফনামা পর্যালোচনায় জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সর্বশেষ আয়কর রিটার্নে গোলাম আকবর খোন্দকার তার সম্পদের পরিমাণ দেখিয়েছেন ৩৫ কোটি ৬৭ লাখ টাকার বেশি। আয় দেখিয়েছেন ১৬ লাখ ৪৫ হাজার ৬২৪ টাকা। তার স্ত্রীর নামে রয়েছে ৭ কোটি টাকার বেশি সম্পদ। দুই সন্তানের নামে রয়েছে ১০ কোটি টাকার বেশি সম্পদ। এসব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে নগদ অর্থ, ব্যাংকে জমা, ঋণপত্রের পাশাপাশি ঢাকা ও চট্টগ্রামে বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট, জমি, পরিবহণ, শেয়ার ব্যবসা ইত্যাদি।