Image description
► নাটোরের চারটি আসনেই চলছে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা ► শক্তিশালী অবস্থানে বিএনপি পিছিয়ে নেই জামায়াতও

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র এক মাস কয়েক দিন বাকি। নাটোরের চারটি আসনে শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা। নাটোর বিএনপির মজবুত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত। ২০০১ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি চারটি আসনে জয়লাভ করে। বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের আমলে বিএনপি নির্বাচন বয়কট করে ২০১৪ ও ২০২৪ সালে। ওই দুটি নির্বাচনে সব কটি আসন আওয়ামী লীগের দখলে চলে যায়। বর্তমানে বিএনপি আবারও শক্তিশালী অবস্থানে ফিরে এসেছে। নাটোরের সব আসনে জয়লাভে মরিয়া বিএনপি। পিছিয়ে নেই জামায়াতও।

নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) : এ আসনটি ধানের শীষের ঘাঁটি। ১৯৯১ সাল থেকে ২০০১ পর্যন্ত এ আসনটিতে বিএনপি বিপুল ভোটে জয়লাভ করে। পরপর চারটি সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করেন রাকসুর সাবেক ভিপি ফজলুর রহমান পটল। এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক মন্ত্রী মরহুম ফজলুর রহমান পটলের মেয়ে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য এবং নাটোর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট ফারজানা শারমিন পুতুল। এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আবদুল আহাদ, এবি পার্টির মোকাররেবুর রহমান নাসিম।

নাটোর-২ (সদর-নলডাঙ্গা) : বিএনপির ইতিহাসে এ আসনে অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বিএনপি এখানে সাংগঠনিকভাবে অত্যন্ত মজবুত। আসনটিতে দুলুর ওপর বারবার আস্থা রেখেছে দলটি। এবারও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে দুলুকে মনোনয়ন দিয়েছে। তিনি ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত এ আসনে পরপর তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করলে তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রাণালয়ের উপমন্ত্রী এবং এরপর ভূমি উপমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। মন্ত্রী থাকাকালীন তিনি নাটোরের ব্যাপক উন্নয়ন করেন। এ আসনে জামায়াতের একক প্রার্থী জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মো. ইউনুস আলী।

জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থী নাটোর জেলা আহ্বায়ক এবং নাটোর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আবদুল মান্নাফ। তিনি শাপলা কলি প্রতীকে ভোটে লড়ছেন। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী হাফেজ মাওলানা মাহবুবুর রহমান।

নাটোর-৩ (সিংড়া) : এ আসনটিতে বরাবরই বিএনপির জনসমর্থন ব্যাপক। এ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম আনু। জামায়াতের প্রার্থী নাটোর নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা সরকারি কলেজের গণিত বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক মো. সাইদুর রহমান। এনসিপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন সংগঠনটির জেলা সদস্যসচিব রাজশাহী নিউ গভঃ ডিগ্রি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর এস এম জার্জিস কাদির। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী ও সংগঠনটির সিংড়া উপজেলার সাধারণ সম্পাদক মুফতি রুহুল আমিন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী খলিলুর রহমান।

নাটোর-৪ (বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর) : এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন গুরুদাসপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল আজিজ। জামায়াতের প্রার্থী জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাওলানা আবদুল হাকিম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী ও জেলার সহসভাপতি জামিল আহমেদ।