Image description

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, ‘চব্বিশের জুলাইয়ে যাঁরা প্রাণ দিয়েছেন, তাঁরা আমাদের ওপর একটা দায় এবং দায়িত্ব দিয়ে গেছেন। সেই দায়িত্বটা হলো, যেন আমাদের আবার সেই স্বৈরাচারী অবস্থায় ফিরে যেতে না হয়।’ গতকাল ইসলামিক ফাউন্ডেশন ভবনে ‘মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় বই বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

আলী রীয়াজ বলেন, ‘যাঁদের সন্তান আন্দোলনে জীবন দিয়েছেন, যাঁরা গুমখুনের শিকার হয়েছেন তাঁদের সবার এই একটাই চাওয়া। আর এটা নিশ্চিত করতে হবে ব্যবস্থা বদল করার মাধ্যমে। আর এ সুযোগটা তৈরি হয়েছে গণভোটের মাধ্যমে। গণভোটের মাধ্যমে যেন এটা নিশ্চিত হয়, আগামীতে যারা ক্ষমতায় আসবে, তারা যেন জনগণের চাওয়া পূরণে বাধ্য থাকে।’ আলী রীয়াজ আরও বলেন, ‘দেশে অতীতেও গণভোট হয়েছে। তবে সেই গণভোটের সঙ্গে এবারের গণভোটের পার্থক্য রয়েছে। কারণ এবারের গণভোটটি অভ্যুত্থান-পরবর্তী গণভোট। গণভোটে সব রাজনৈতিক দল একমত হয়েছে। নয় মাস ধরে দলগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা হয়েছে। অনেক বিষয়ে ভিন্নমত হলেও গণভোটের বিষয় কোনো ভিন্নমত হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বলেছি কিছু কিছু পরিবর্তন করতে হবে। যেমন একজন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতির ইচ্ছায় যে ক্ষমা করে দেওয়া হয়, এ বিষয়টির পরিবর্তন দরকার। চাইলেই সংবিধান বদলানো যাবে না, এই পরিবর্তনটাও দরকার।’

আলী রীয়াজ আরও বলেন, ‘সংসদ যখন তৈরি হয়, আমরা বিভিন্ন বিবেচনা থেকে জনপ্রতিনিধি তৈরি করি। তাতে দলের বিবেচনা, এলাকার বিবেচনা থাকে। কিন্তু গণভোটের মাধ্যমে সেই প্রতিনিধিকে বলা যাবে যে কীভাবে আপনি দেশটা পরিচালনা করবেন।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক ছালাম খান, ধর্ম সচিব কামাল উদ্দিন, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার প্রমুখ।