খ্রিস্টীয় নববর্ষের প্রথম দিনে নতুন বই হাতে পেয়ে খুশিতে আত্মহারা শিক্ষার্থীরা। সারা দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীদের হাতে গতকাল তুলে দেওয়া হয় বিনামূল্যের নতুন বই। প্রাথমিক পর্যায়ের ছাত্রছাত্রীদের জন্য সারা দেশে বইয়ের সংকট না থাকলেও বিভিন্ন স্থানে মাধ্যমিক পর্যায়ের ছাত্রছাত্রীদের নতুন বই না পাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তাদের অনেককেই ফিরতে হয়েছে বই ছাড়া খালি হাতে। কেউ পেয়েছে একটি, দুটি বা তিনটি বই। মাধ্যমিকের সব বই পেতে জানুয়ারি মাসও পেরিয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে বলে জানা গেছে। গতকাল সারা দেশের স্কুল-মাদ্রাসায় বিনামূল্যের বই বিতরণ করা হলেও কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো বই উৎসবের আয়োজন করা হয়নি। চলমান রাষ্ট্রীয় শোক উপলক্ষে বই বিতরণকে কেন্দ্র করে সভা-সমাবেশসহ সব ধরনের আনুষ্ঠানিকতা পরিহারের নির্দেশনা ছিল সরকারের পক্ষ থেকে। বৃহস্পতিবার শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন আবুল বাশার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বই বিতরণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার। এ সময় বক্তব্যে তিনি বলেন, নতুন বছরের শুরুতেই প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে শতভাগ পাঠ্যবই বিতরণ করা সম্ভব হয়েছে। এই বইগুলোর মান আগের তুলনায় ভালো। এটি বর্তমান সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।
রাজধানীর বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে দেখা যায়, প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা নতুন বই হাতে পেলেও মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা সব বই পায়নি। শেরেবাংলা নগর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সেখানেও প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা সব বই পেয়েছেন। ষষ্ঠ শ্রেণিতেও সব বই পেয়েছে ছাত্রীরা। তবে অষ্টম ও নবম শ্রেণির ছাত্রীদের সব বই দেওয়া হয়নি। ঘটনার সত্যতা জানান প্রধান শিক্ষক নার্গিস আক্তার। বিভিন্ন স্কুলে সরেজমিন দেখা যায়, সকাল ৯টা থেকে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা স্কুলে এসেছেন। শিক্ষার্থীদের রেজাল্ট শিট দেখে বই হাতে তুলে দিচ্ছেন শিক্ষকরা।
বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীদের রোল ধরে ডেকে ডেকে তাদের হাতে বই তুলে দেওয়া হচ্ছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শতভাগ বই পৌঁছালেও মাধ্যমিক বিদ্যালয়েগুলো চাহিদামতো বই পায়নি। তাই তাদের সিংহভাগ ছাত্রছাত্রীর হাতে আংশিক বই তুলে দেওয়া হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মণিপুর উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানায়, তাকে মাত্র একটি বই দেওয়া হয়েছে। বাকি বইয়ের সরবরাহ নেই বলে প্রতিষ্ঠান থেকে জানানো হয়েছে।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সচিব অধ্যাপক মো. সাহতাব উদ্দিন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ের ছাত্রছাত্রীরা বছরের প্রথম দিনে নতুন সব বই পেয়েছে। মাধ্যমিক পর্যায়ের কিছু কিছু শিক্ষার্থী আংশিক বই পেয়েছে। শিগগিরই তারা বাকি বই পেয়ে যাবে।