চট্টগ্রামের বাবুনগরে আয়োজিত এক মাহফিলে হেফাজতে ইসলামের আমিরের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, মঞ্চে বিএনপি নেতাদের পাশে বসিয়ে তিনি সংগঠনের এক কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা মামুনুল হককে উদ্দেশ্য করে অশালীন ভাষায় গালাগালি করেন। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, তাকে লোকে কীভাবে এমপি বানাবে?
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে আলেম-উলামা, সাধারণ মুসল্লি এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
মাহফিলে যা ঘটেছিল
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, মাহফিল চলাকালীন হেফাজত আমির তার বক্তব্যে হঠাৎ করেই মাওলানা মামুনুল হকের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। এ সময় তিনি তাকে ‘কু*ত্তার বাচ্চা’ বলে সম্বোধন করেন বলে ভিডিওতে শোনা যায়। মঞ্চে উপস্থিত বিএনপি নেতারা এ সময় নীরব ছিলেন। উপস্থিত অনেকেই এ ঘটনায় বিব্রত বোধ করেন।
এ ঘটনার পর প্রশ্ন উঠেছে, হেফাজতের মতো একটি অরাজনৈতিক দ্বীনি সংগঠনের সর্বোচ্চ চেয়ার থেকে এ ধরনের রাজনৈতিক ও অশালীন মন্তব্য কতটা গ্রহণযোগ্য?
এটা কি প্রথমবার?
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বিভিন্ন সময়ে মাহফিল ও জনসভায় হেফাজত আমিরের মুখ থেকে এ ধরনের গালাগালি ও তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যমূলক বক্তব্য আসার অভিযোগ রয়েছে। বারবার এ ধরনের বক্তব্য আসায় সংগঠনের ভেতরে-বাইরে অস্বস্তি বাড়ছে বলে জানিয়েছেন একাধিক আলেম।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আলেম বলেন, “মাহফিল হেদায়েতের জায়গা। সেখান থেকে গালি আসলে সাধারণ মানুষ কী শিখবে? আমরা যারা এই অঙ্গনের নুন খেয়েছি, আমাদের লজ্জা লাগে।”
বহিষ্কার না গালি — কোনটা নিয়ম?
সমালোচকদের প্রশ্ন, মামুন সাহেব যদি সত্যিই অযোগ্য হন বা সংগঠনের নীতি ভঙ্গ করে থাকেন, তাহলে তাকে নিয়ম অনুযায়ী বহিষ্কার করা হচ্ছে না কেন? সংগঠনে রেখে প্রকাশ্যে গালাগালি করা কতটা সাংগঠনিক শৃঙ্খলার মধ্যে পড়ে?
একজন সংগঠকের ভাষায়, “শাসন করার ক্ষমতা না থাকলে গালি দিয়ে দমানোর চেষ্টা করা হয়। এটা নেতৃত্ব নয়, এটা দেউলিয়াত্ব।”
প্রতিক্রিয়া
এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই লিখছেন, একজন আমির যখন প্রকাশ্যে গালি দেন, তখন তিনি শুধু নিজের প্রতিনিধিত্ব করেন না, পুরো উলামা সমাজের প্রতিনিধিত্ব করেন। এতে দ্বীনেরই বদনাম হয়।
তাদের মতে, হেফাজতকে বাঁচাতে হলে আমিরের চেয়ারকে আবার অরাজনৈতিক করতে হবে। উনি এই পদের যোগ্য নন। গালি দিয়ে নয়, দলিল, আদব ও ইনসাফ দিয়ে কথা বলতে হবে।
এ বিষয়ে হেফাজতের দায়িত্বশীল কারো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।