Image description

শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩৮ হাজার টাকা নির্ধারণ, পোশাকশ্রমিক তৌফিক হত্যার বিচার এবং তার পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)।

রুশ বিপ্লবের ১০৯তম বার্ষিকী ও বাসদের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ শনিবার বিকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত সমাবেশে এসব দাবি জানান দলটির নেতারা।

বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন দলের সহকারী সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন, নিখিল দাস ও শম্পা বসু।

সমাবেশে নেতারা অভিযোগ করেন, শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে মজুরি বোর্ড গঠনে সরকার গড়িমসি করেছে। আন্দোলনের চাপে শেষ পর্যন্ত বোর্ড গঠন করতে বাধ্য হয়েছে। এ আন্দোলনের সময় পুলিশ ও সরকারদলীয় ব্যক্তিদের মাধ্যমে শ্রমিকদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। তাদের দাবি, আন্দোলনের সময় শ্রমিক তৌফিককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

তৌফিক হত্যার সুষ্ঠু বিচার, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং তার পরিবারের জন্য আজীবন তার আয়ের সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান বাসদের নেতারা।

তারা বলেন, সরকারি কর্মচারীদের ২০তম গ্রেডে মূল বেতন ২০ হাজার টাকা। বাড়িভাড়া, যাতায়াত ও চিকিৎসাভাতাসহ তাদের মাসিক প্রাপ্য প্রায় ৩৮ হাজার টাকা। অন্যদিকে, বেসরকারি খাতের শ্রমিকেরা এ ধরনের সুবিধা পান না। তাই তৈরি পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩৮ হাজার টাকা করতে হবে।

দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে বাসদের নেতারা বলেন, বেকারত্ব, দারিদ্র্য, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে সাধারণ মানুষের জীবন কঠিন হয়ে উঠেছে। কৃষকেরা উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। পাশাপাশি সার, সেচ, বীজ ও কীটনাশকসহ কৃষি উপকরণের দামও বাড়ছে। সরকারের ভুল নীতি, দুর্নীতি ও ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কারণে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

সমাবেশে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা বাণিজ্য চুক্তির সমালোচনা করেন বাসদ নেতারা। তারা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে করা ওই চুক্তি দেশের অর্থনীতি, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করেছে। বর্তমান সরকার চুক্তিটি বাতিল না করে বাস্তবায়ন করছে। এতে দেশের শিল্প, কৃষি ও ওষুধশিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ ছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়া, ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত কয়লাখনি এবং সুন্দরবনের আকরাম পয়েন্টে এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগের সমালোচনা করেন তারা।

এর আগে সকালে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। সমাবেশ শেষে লাল পতাকা, ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে মিছিল বের করেন নেতা-কর্মীরা। মিছিলটি জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক ঘুরে গুলিস্তান হয়ে পল্টন মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।