Image description

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন ‘জুলাই বিপ্লব’ সাতই নভেম্বরের চেয়েও শক্তিশালী ছিল বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ।

এসময় তিনি আরও বললেন, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আওয়ামী লীগের আঁতাতের কথা কোনো পাগল-ছাগলেও বিশ্বাস করে না।

আজ শনিবার বিকfলে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। নগরীর দেওয়ানবাজারে নগর জামায়াতের কার্যালয়ে এ সভা হয়েছে।

সাবেক সংসদ সদস্য এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ বিএনপির নাম উল্লেখ না করে বললেন, ‘১৪০০ মানুষের জীবন। তিন হাজারের বেশি মানুষের পঙ্গুত্ব, আহত হওয়া। এর ফলশ্রুতিতে পাঁচ আগস্টের বিপ্লব। আপনারা এটাকে বিপ্লব বলেন না কেন? তাহলে সাত নভেম্বরকে বিপ্লব বলেন কেন ? সাত নভেম্বর যদি বিপ্লব হয়, জুলাই বিপ্লব কেন হবে না? ৭ নভেম্বর ক্যান্টনমেন্ট থেকে মিছিল বের হয়েছিল, জনগণ সংহতি প্রকাশ করেছিল, ক্ষমতার পরিবর্তন এসেছিল। তার চেয়েও বেশি মানুষের স্যাক্রিফাইস আর অংশগ্রহণের ভিত্তিতে যে রেভ্যুলেশন হয়েছে সেটা আপনাদের কাছে বিপ্লব না।’

‘সাতই নভেম্বরের চেয়েও শক্তিশালী বিপ্লব হচ্ছে জুলাই বিপ্লব। আপনারা ওটাকে স্বীকার করেন, এটাকে করেন না কেন আমরা জানি। কারণ জুলাই বিপ্লবের কোনো কৃতিত্ব আপনি প্রমাণ করতে পারছেন না। আপনারা তো অস্বীকারই করেছিলেন। জিয়াউর রহমান সাহেবকে মুক্ত করার সময় যে স্লোগানটা হয়েছিল নারায়ে তাকবির, সেটার ক্রেডিট আপনারা নিতে চান। জুলাই বিপ্লবের স্লোগান ছিল তুমি কে আমি কে রাজাকার রাজাকার। উই ওয়ান্ট জাস্টিস। অর্থাৎ সাতই নভেম্বরের প্রকৃত চেতনা হল ইসলামী চেতনা। আর জুলাইয়ের চেতনা হচ্ছে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার চেতনা।’

আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত প্রসঙ্গে হামিদুর রহমান আজাদ বললেন, ‘এখন আমাদের ব্লেম দেওয়া হচ্ছে যে, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আওয়ামী লীগের আঁতাত হয়েছে। চট্টগ্রাম কোনো পাগল-ছাগল পাওয়া যাবে না যারা এটা বিশ্বাস করবে। ঢাকা শহরে আমি পাইনি। এটা অবিশ্বাস্য বিষয়। কারণ জামায়াতের পাঁচজন নেতাকে আওয়ামী লীগ ফাঁসিতে ঝুলিয়েছে। জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করেছিল আওয়ামী লীগ।’

‘অফিস বন্ধ করে দিয়ে হাজার হাজার নেতাকর্মীকে মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করে নির্যাতন করেছে। বাসায় থাকতে পারিনি। রাতে ঘুমাতে পারিনি। অফিসে যেতে পারিনি। ব্যবসা করতে পারিনি। বাপ-বেটা মিলে ভাত খাচ্ছে। বলছে গোপন মিটিং করছে। ধরে নিয়ে গেছে। এ ধরনের জুলুম নির্যাতন যাদের ওপর হয়েছে তারা না কি আবার আওয়ামী লীগের সাথে আঁতাত করবে। এজন্য বলছিলাম ঢাকাতে এমন কোনো পাগল পাইনি। চট্টগ্রামে এমন কোনো পাগল বিশ্বাসী আছে কি না আল্লাহ জানে।’

অপবাদ দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার অপপ্রয়াস চালানো হচ্ছে মন্তব্য করে তিনি বললেন, ‘আমরা যদি বলি ফ্যাসিবাদের আমলে তো আপনারা দরখাস্ত দিয়ে মিছিল-মিটিং করতেন। সরকার যতটুকু অনুমতি দিত ততটুকু করতেন। একমাত্র জামায়াতে ইসলামী বলেছে কীসের অনুমতি! আমি স্বাধীন দেশের নাগরিক। রাস্তায় নামবো, বাধা দিলে মোকাবেলা হবে। মোকাবেলা আমরা করেছি। সেই সাহস আপনাদের কোনো নেতা দেখাতে পারেননি।’

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে যতটুকু সংস্কার হয়েছিল, সবটুকু ধুয়ে-মুছে ‘বিএনপিই’ ফ্যাসিবাদের ফিরে আসার পথ সুগম করছে বলেও মন্তব্য করলেন এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ।

চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মুহাম্মদ নুরুল আমিনের সঞ্চালনায় সভায় সহকারী সেক্রেটারি খাইরুল বাশার, মুহাম্মদ উল্লাহ, ফয়সল মুহাম্মদ ইউনুছ ও মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক শামসুজ্জামান হেলালী বক্তব্য রাখেন।