জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বিএনপিতে যোগদানের জন্য বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বাসায় গিয়ে বসে ছিলেন বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির ৯০ জন সংসদ সদস্যের মেধা ও যোগ্যতা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সমান নয়।
রোববার (২৫ অক্টোবর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এসব দাবি করেন রাশেদ খাঁন।
পোস্টে তিনি দাবি করেন, (অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পদ থেকে) পদত্যাগের আগের রাতে আসিফ মাহমুদ বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় গিয়েছিলেন। মাহফুজ আলমও ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করতে আগ্রহী ছিলেন।
রাশেদ খাঁন বলেন, বিএনপিতে যোগদান ও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত হতে আসিফ মাহমুদ ও মাহফুজ আলম একসঙ্গে বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বাসায় পর্যায়ক্রমে গিয়েছিলেন। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কোনো উপদেষ্টা বিএনপির প্রতীকে নির্বাচন করুক, তা দলটি চায়নি বলে দাবি করেন তিনি।
রাশেদ খাঁন আরও দাবি করেন, বিএনপি আসিফ মাহমুদের প্রতি আগ্রহ না দেখানোয় তিনি বাধ্য হয়ে এনসিপিতে যোগ দেন। অন্যদিকে বিএনপিতে সুযোগ না পেয়ে মাহফুজ আলম নৈতিকতা বজায় রেখেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের সততার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা।
আসিফ মাহমুদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানে সাহসী ভূমিকার কারণে নাহিদ ইসলামের পর এনসিপিতে আসিফ মাহমুদের অবস্থান থাকার কথা ছিল। তবে অতীতের বিতর্ক এবং এনসিপিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে তার দোদুল্যমান অবস্থানের কারণে বর্তমানে তিনি দলটির শীর্ষ ছয় নেতার মধ্যে সর্বশেষ অবস্থানে রয়েছেন। এ কারণে আসিফ মাহমুদ দলটিতে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এনসিপির আসন সমঝোতা নিয়েও পোস্টে মন্তব্য করেন রাশেদ খাঁন। তার দাবি, বেশি আসন পাওয়ার আশায় এনসিপির শীর্ষ পর্যায়ের প্রায় এক ডজন নেতা সালাহউদ্দিন আহমদের বাসায় গিয়ে বসে থাকতেন। তবে বিএনপি এনসিপিকে চারটির বেশি আসন ছাড়তে রাজি হয়নি। এ কারণে বেশি আসন ও নির্বাচনী খরচের সুযোগ পেয়ে এনসিপি জামায়াতের জোটে গেছে।
তিনি এনসিপির রাজনীতিকে ‘সুবিধাবাদী জিন্দাবাদের রাজনীতি’ বলে আখ্যা দেন। তার দাবি, আলাদা কোনো সুবিধা আদায় কিংবা জামায়াতের পরামর্শে বিএনপিকে চাপে রাখার কৌশল হিসেবে এনসিপি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে কর্মসূচি শুরু করেছে।
এনসিপির এ কর্মসূচিকে ব্যর্থ আখ্যা দিয়ে রাশেদ খাঁন বলেন, বিএনপি সরকারের মেয়াদের শেষ দিন পর্যন্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করলেও এনসিপি তার পদত্যাগ নিশ্চিত করার সক্ষমতা রাখে না।
সালাহউদ্দিন আহমদের রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে তিনি বলেন, দীর্ঘ সংগ্রাম, মেধা ও যোগ্যতার কারণেই তিনি বর্তমান অবস্থানে পৌঁছেছেন। জামায়াত ও এনসিপির ৯০ জন সংসদ সদস্যের মেধা ও যোগ্যতা একজন সালাহউদ্দিন আহমদের সমান নয় বলেও মন্তব্য করেন রাশেদ খাঁন।
পোস্টের শেষাংশে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি তুলে বিএনপিকে চাপে রেখে এনসিপি ও জামায়াত সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছে। তবে বিএনপি ‘বিরিয়ানি ভাগবাটোয়ারার রাজনীতি’ করে না, বরং রাষ্ট্র পুনর্গঠনের রাজনীতি করে।