Image description

বরিশাল নগরের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) নেতা হুমায়ন কবিরের বিরুদ্ধে এতিমখানা, মসজিদ ও মাদ্রাসার জন্য এক ব্যক্তির দান করা প্রায় ৭ একর জমি বিক্রি করে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। বিক্রির দলিলে এই জমির মূল্য দেখানো হয়েছে ৬ কোটি ৩ লাখ টাকা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাস্তবে এর মূল্য আরও অনেক বেশি ধরা হয়েছে।

এতিমখানা, মাদ্রাসা ও মসজিদ পরিচালনায় গঠিত কমিটির রেজুলেশন জালিয়াতির মাধ্যমে তিনি জমি বিক্রি করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী ও পরিচালনা কমিটি। কমিটি সূত্রে জানা গেছে, নগরের বগুড়া রোডের বাসিন্দা মরহুম আবদুল মান্নান স্বর্ণামত রুপাই জীবদ্দশায় ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের হরিনাফুলিয়া ও হোগলা মৌজায় ১০ একর ৪৬ শতাংশ জমি তিনটি প্রতিষ্ঠানের নামে কেনেন। প্রতিষ্ঠান তিনটি হলো বায়েজিদ বোস্তামী (রা.) এতিমখানা, বায়েজিদ বোস্তামী (রা.) মাদ্রাসা ও শেখ ফরিদউদ্দিন জামে মসজিদ। 

এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য স্থাপনা নির্মাণ করতে জীবদ্দশায় আড়াই একর জমি বিক্রি করেন স্বর্ণামত রুপাই। কিন্তু তিনি কাজ শুরু করতে পারেননি। তাঁর মৃত্যুর পর ওই সময়ে ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা হুমায়ন কবিরকে সভাপতি করে উত্তরাধিকারীরা একটি কমিটি গঠন করেন। ২০২১ সালের ২৫ জানুয়ারি ওই কমিটি মোট জমির তিন ভাগের এক ভাগ বিক্রি করে একই ওয়ার্ডের অন্য স্থানে জমি ক্রয় ও ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়। এ সিদ্ধান্ত তৎকালীন সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে সত্যায়িত করা হয়। তিন ভাগের এক ভাগ জমি বিক্রির ক্ষমতা পেয়ে টালবাহানা শুরু করেন হুমায়ন কবির। 

এরপর গোপনে রেজুলেশন জালিয়াতির মাধ্যমে পুরো জমি বিক্রি করে দেন তিনি। গত ৫ আগস্টের পর বিষয়টি প্রকাশ হলে পরিচালনা কমিটি তাঁর কাছে সত্যতা জানতে চাইলে প্রথমে অস্বীকার করেন। কমিটি জমি বিক্রির সব প্রমাণ পাওয়ার পর জানতে চাইলে জমি কিনে দেওয়ার কথা জানান তিনি। কিন্তু এখন পর্যন্ত জমি কেনেননি। কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও উত্তরাধিকারী জুনায়েদ হোসেন রানা জানান, ‘আমরা বিষয়টি জানতাম না। বিভিন্ন মাধ্যমে খবর পেয়ে প্রমাণ সংগ্রহ করেছি। এখন বিষয়টি নিয়ে আমরা আইনের শরণাপন্ন হব।’ 

রেজুলেশন অনুযায়ী হুমায়ন কবির তিন ভাগের এক ভাগ অর্থাৎ ৩.৪৮ একর জমি বিক্রি করতে পারবেন। কিন্তু তিনি মোট ৬ একর ৯৫ শতাংশ জমি বিক্রি করেছেন। তিনবারে তিনটি দলিলের (দলিল নম্বর ৯৪২৫, ৩৯৫৫ ও ৫৩৯২) মাধ্যমে কাজী শফিউল আলম নামে এক ব্যক্তির কাছে ওই জমি বিক্রি করেছেন তিনি। অভিযোগ সম্পর্কে হুমায়ন কবির জমি বিক্রির সত্যতা স্বীকার করে বলেন, রেজুলেশনের মাধ্যমে তাকে জমি বিক্রি করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সেই অনুযায়ী সব বিক্রি করেছি। এখন ওই প্রতিষ্ঠানের নামে জমি কেনা হবে। তবে রেজুলেশন জালিয়াতির বিষয়টি অস্বীকার করেছেন তিনি।