Image description

জলবায়ু পরিবর্তন, ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত ও সরবরাহ-শৃঙ্খলে বিঘ্নের কারণে বিশ্বজুড়ে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক সংকট তীব্র হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসেবে বিশ্বব্যাপী প্রায় ২৬ কোটি মানুষ তীব্র খাদ্যসংকটে ভুগছে।

জাতিসংঘের তথ্য বলছে, ৬৭ কোটি ৩০ লাখ মানুষ নিয়মিত পর্যাপ্ত না। চরম তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোতে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি প্রায় ০.৫ শতাংশ পয়েন্ট কমছে। খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি, জ্বালানি ও সারের বাজারে অস্থিরতা এবং যুদ্ধের প্রভাবে বিশেষ করে নিম্ন আয় ও ঋণগ্রস্ত দেশগুলোর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে সংকট মোকাবেলায় আগাম প্রস্তুতি, লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা, অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং রাজস্ব সক্ষমতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), জাতিসংঘ এবং আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারকরা।

গতকাল বৃহস্পতিবার থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাঙ্ককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের সপ্তাহব্যাপী বৈঠকের চতুর্থ দিনে অনুষ্ঠিত ‘বিপর্যয়ের মুখে খাদ্য নিরাপত্তা’বিষয়ক প্যানেল আলোচনায় বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত এবং এসব সংকটের সামষ্টিক অর্থনীতিতে প্রভাব নিয়ে নিজেদের পর্যবেক্ষণ ও করণীয় তুলে ধরেন আলোচকরা।

এর আগে গত বুধবার ওয়েল্টহাঙ্গারহিলফে, রুর ইউনিভার্সিটি বোকুমের আন্তর্জাতিক শান্তি ও সশস্ত্র সংঘাত বিষয়ক ইনস্টিটিউট এবং সুইস সংস্থা হেলভেটাস কর্তৃক যৌথভাবে ‘খাদ্য নিরাপত্তা ছাড়া নিরাপত্তা নয়’ এই প্রতিপাদ্যে প্রকাশিত ২০২৬ সালের বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকে তালিকাভুক্ত ১২২টি দেশের পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, ২০৩০ সালের মধ্যে ক্ষুধা নির্মূলের লক্ষ্য আরো নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। ২০০০ সাল থেকে পরিলক্ষিত এই ধারা যদি একই গতিতে চলতে থাকে, তবে ২০৩০ সালের মধ্যে ৫৭টি দেশের পরিস্থিতি আরো অবনতি হতে পারে।

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ৬৪৫ মিলিয়ন মানুষ ক্ষুধার্ত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া বলা হয়, বর্তমানে ক্ষুধার অন্যতম প্রধান কারণ হলো সশস্ত্র সংঘাত। সম্প্রতি রাষ্ট্রভিত্তিক সশস্ত্র সংঘাতের সংখ্যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারত, পাকিস্তানের চেয়ে বাংলাদেশ ভালো অবস্থানে  রয়েছে  বলে  উল্লেখ করা হয়।  

খাদ্য ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে বাড়ছে রাজস্বের চাপ : গতকাল ব্যাঙ্ককের বৈঠকে আইএমএফের ফিসক্যাল অ্যাফেয়ার্স বিভাগের পরিচালক রদ্রিগো ভালদেস বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বকে বারবার খাদ্যমূল্যের ধাক্কা মোকাবেলা করতে হয়েছে।

যুদ্ধ, বাণিজ্য ও সরবরাহ ব্যবস্থার সংকট, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং জ্বালানি ও সারের দামের অস্থিরতা খাদ্যবাজারকে আরো অনিশ্চিত করে তুলেছে।

তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের পর চালের দাম ৫০ শতাংশ, গমের দাম ৩৭ শতাংশ এবং সয়াবিনের দাম ২১ শতাংশ  বেড়েছে। এল নিনোর তীব্র প্রভাবে নাইজারে বৃষ্টিপাত ১৯৯৫ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। ইন্দোনেশিয়ায় চরম দাবদাহ গত ৩০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। চরম তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোতে জিডিপি প্রায় ০.৫ শতাংশ পয়েন্ট কমছে। খাদ্যসংকটের প্রভাব শুধু মানুষের খাদ্যপ্রাপ্তি বা ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, সরকারি রাজস্ব ও ব্যয় ব্যবস্থাপনায়ও এর বড় প্রভাব ফেলেছে।

তিনি বলেন, খাদ্যবাজার তেলের বাজারের মতো বৈশ্বিকভাবে সমন্বিত নয়। খাদ্য উৎপাদন স্থানীয় আবহাওয়া ও ফসলের চক্রের ওপর নির্ভরশীল।

ফলে খাদ্যসংকটের ধরন ও স্থায়িত্ব জ্বালানিসংকটের চেয়ে আলাদা হতে পারে। তবে এর রাজস্বগত প্রভাব উল্লেখযোগ্য।

চরম দাবদাহের কারণে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও সাহেল অঞ্চলে সরকারি রাজস্ব আয় ০.১৫ থেকে ০.৪ শতাংশ পয়েন্ট কমতে পারে। একই সঙ্গে তীব্র খরার কারণে সাহেল ও পূর্ব আফ্রিকায় সরকারি ব্যয় ৩ থেকে ৪ শতাংশ পয়েন্ট পর্যন্ত বাড়তে পারে।

এ পরিস্থিতিতে সংকট দেখা দেওয়ার পর ত্রাণকার্যক্রম শুরু করার পরিবর্তে আগাম প্রস্তুতির ওপর জোর দেন তিনি। তাঁর মতে, ডিজিটাল পরিচয়পত্র, সামাজিক সুরক্ষার জন্য উপযুক্ত জনগোষ্ঠীর নিবন্ধন এবং ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা জরুরি। এতে সংকটের সময় দ্রুত ও কার্যকরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব হবে।

খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা এখন সামষ্টিক অর্থনৈতিক ঝুঁকি : আইএমএফের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর নাইজেল ক্লার্ক বলেন, খাদ্য নিরাপত্তাহীনতাকে কেবল সাময়িক মানবিক বিপর্যয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি এখন পুনরাবৃত্তিমূলক সামষ্টিক অর্থনৈতিক ও রাজস্বগত ঝুঁকি।

ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং এল নিনোর মতো আবহাওয়াগত বিপর্যয় একই সঙ্গে খাদ্য, জ্বালানি, নৌপরিবহন ও সারের বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। এসব সংকটের প্রভাব একে অন্যের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।

নাইজেল ক্লার্কের মতে, উচ্চ ঋণ, চড়া সুদের হার ও সীমিত রাজস্ব সক্ষমতার কারণে নিম্ন আয় ও ভঙ্গুর রাষ্ট্রগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।

আমদানিনির্ভর দেশগুলোতে বাড়ছে জীবনযাত্রার ব্যয় :  বৈঠকে সোমালিয়ার অর্থমন্ত্রী বিহি এগেহ, বুরকিনা ফাসোর অর্থমন্ত্রী আবুবাকার নাকানাবো, জিবুতির অর্থমন্ত্রী ইলিয়াস মুসা দাওয়ালেহ নিজ নিজ দেশের পরিস্থিতি তুলে ধরেন। সোমালিয়া সম্পর্কে বলা হয়, দেশটি ধারাবাহিকভাবে একাধিক সংকটের সম্মিলিত প্রভাব মোকাবেলা করছে। এই পরিস্থিতিকে ‘ককটেল অব শকস’ বা একাধিক সংকটের মিশ্রণ হিসেবে বর্ণনা করা হয়। জানানো হয়, সোমালিয়ার মোট খাদ্য ব্যবহারের ৭৫ শতাংশই আমদানিনির্ভর। ফলে বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন বা ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের প্রভাব দেশটির খাদ্যবাজার ও জীবনযাত্রার ব্যয়ে দ্রুত পড়ে।

বুরকিনা ফাসোর পরিস্থিতি সম্পর্কে বলা হয়, দেশটি বর্তমানে নিরাপত্তাসংকট, জলবায়ুজনিত ধাক্কা এবং সীমিত রাজস্ব সক্ষমতার মতো আন্ত সংযুক্ত সমস্যার মুখোমুখি।

জিবুতির পরিস্থিতি সম্পর্কে বলা হয়,  প্রায় ১৫ লাখ জনসংখ্যার দেশটি শতভাগ খাদ্য আমদানির ওপর নির্ভরশীল। আঞ্চলিক অস্থিরতার মধ্যে অবস্থান করায় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা দেশটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। ২০১২-১৩ সালে জিবুতি প্রতিবেশী ইথিওপিয়া ও সুদানে কৃষি খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু কভিড মহামারি, রাজনৈতিক পরিবর্তন ও অভ্যন্তরীণ সংঘাতের কারণে প্রতিবেশী দেশগুলোও সংকটে পড়ে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে চারণভূমি কমে যাওয়ায় প্রতিবেশী অঞ্চলগুলোতে সংঘাত বাড়ছে। এর ফলে জিবুতিতে শরণার্থীদের আগমনও বাড়ছে। নিজেদের জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি ইয়েমেনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসা শরণার্থীদের খাদ্যের সংস্থান করতে হচ্ছে দেশটিকে। এর সঙ্গে হরমুজ প্রণালি ও উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক উত্তেজনার কারণে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার মাধ্যমে খাদ্যসংকট আরো তীব্র হওয়ার আশঙ্কা বেড়েছে।

বাড়ছে মানবসম্পদ হারানোর ঝুঁকি : জাতিসংঘের পশ্চিম এশিয়ার অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের (ইএসসিডব্লিউএ) নির্বাহী সচিব রোলা দাশতি জানান, সংস্থাটির ওই অঞ্চলের ২২টি সদস্যরাষ্ট্রের মধ্যে ৯টি সরাসরি সংঘাত বা সংঘাত-পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলা করছে।

তাঁর মতে, খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে শুধু খাদ্যের প্রাপ্যতা নয়, খাদ্য কেনার সক্ষমতাও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী পুষ্টিকর একটি খাবারের মূল্য প্রায় ৩৫ শতাংশ বেড়েছে।

 রোলা দাশতি সতর্ক করে বলেন, খাদ্যের দাম ২০ শতাংশ বাড়লে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ নতুন করে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার শিকার হতে পারে। খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিকে আরো বাড়িয়ে দিতে পারে। খাদ্যসংকটের কারণে শিশুদের পুষ্টি ও শিক্ষা ব্যাহত হলে দীর্ঘমেয়াদে মানবসম্পদ ও সামাজিক মূলধনের অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে।

প্যানেল আলোচনায় উঠে আসে, জলবায়ু পরিবর্তন ও ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের প্রভাব এখন খাদ্যবাজারের পাশাপাশি সরকারি বাজেট, রাজস্ব আহরণ, সামাজিক সুরক্ষা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপরও ফেলেছে। বিশেষ করে আমদানিনির্ভর, ঋণগ্রস্ত ও নিম্ন আয়ের দেশগুলো একাধিক সংকটের সম্মিলিত চাপে রয়েছে।

আলোচকদের বক্তব্যে সংকট মোকাবেলায় কয়েকটি বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আগাম সতর্কতা ও তথ্যভাণ্ডার তৈরি, ডিজিটাল পেমেন্টের মাধ্যমে দ্রুত সহায়তা পৌঁছানো, কৃষি উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ জোরদার এবং সরকারি বাজেটে সম্ভাব্য সংকটের প্রভাব বিবেচনায় রাখা। সাময়িক ত্রাণের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও কার্যকর সামাজিক সুরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের মতে, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উৎপাদন, সরবরাহ, ক্রয়ক্ষমতা ও আর্থিক সক্ষমতাকে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করা জরুরি।

বিশ্ব ক্ষুধা সূচক : ভারত পাকিস্তানের চেয়ে ভালো অবস্থানে  বাংলাদেশ : এদিকে গত বুধবার প্রকাশিত ২০২৬ সালের বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকে তালিকাভুক্ত ১২২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান রয়েছে ১০০ পয়েন্টের মধ্যে ১৯.২ স্কোর পেয়ে ৮৪তম। স্কোর যত কম, ক্ষুধার তীব্রতা তত কম বলে বিবেচিত হয়। বাংলাদেশকে এ ক্ষেত্রে ‘মাঝারি’ ক্যাটাগরিতে রাখা হয়েছে এবং বলা হয়েছে, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ভারতের তুলনায় বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে ভালো অবস্থানে রয়েছে। এ ক্ষেত্রে আফগানিস্তানের অবস্থান ২৮.৬ স্কোর পেয়ে ১০৮ নম্বরে। পাকিস্তানের অবস্থান ২৫.৫ স্কোর নিয়ে ১০৬ নম্বরে এবং ভারতে ২৪.১ স্কোর নিয়ে ১০০তম। এই তিনটি দেশকেই ক্ষুধার ক্ষেত্রে ‘গুরুতর’ ক্যাটাগরিতে রাখা হয়েছে। বাংলাদেশের চেয়ে ভালো অবস্থানে রাখা হয়েছে শ্রীলঙ্কা ও নেপালকে। শ্রীলঙ্কা ১০.২ স্কোর নিয়ে ৫৩তম স্থানে। আর নেপাল ১৪.৫ স্কোর নিয়ে ৭২তম স্থানে।

সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ২০০০ সালের তুলনায় শিশুদের খর্বকায়ের হার ৫৪.৯ শতাংশ থেকে কমে ২৪ শতাংশে নেমেছে। তবে জনসংখ্যার ৮.২ শতাংশ এখনো অপুষ্টিতে ভুগছে।

সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্ব আরো নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছে। যুদ্ধ ও সংঘাত, জলবাযুগত বিপর্যয় এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধি লাখ লাখ মানুষের খাদ্য নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে  ফেলছে। ক্ষুধার মাত্রা মাঝারি পর্যায়ে থাকলেও খাদ্য নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতির দীর্ঘমেয়াদি ধারা ব্যাহত হয়েছে।

বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকে আটটি দেশে খাদ্য নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। দেশগুলো হচ্ছে—বুরুন্ডি, চাঁদ, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, মাদাগাস্কার, সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান, সুদান ও ইয়েমেন। এ ছাড়া  আরো ৩৬টি  দেশে পরিস্থিতি গুরুতর বলে উল্লেখ করা হয়েছে।  বলা হয়, ২০৩০ সালের মধ্যে ক্ষুধা নির্মূলের লক্ষ্য আরো নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। ২০০০ সাল থেকে পরিলক্ষিত এই ধারা যদি একই গতিতে চলতে থাকে, তবে ২০৩০ সালের মধ্যে ৫৭টি দেশের পরিস্থিতি আরো অবনতি হতে পারে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ৬৪৫ মিলিয়ন মানুষ ক্ষুধার্ত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এ ছাড়া বলা হয়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেখা গেছে, বিশ্বায়নের  প্রেক্ষাপটে যুদ্ধ দূর থেকেও আঞ্চলিক খাদ্যব্যবস্থাকে কতটা গভীরভাবে ব্যাহত করতে পারে। ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধ এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ এমন বাণিজ্য বিঘ্ন ঘটিয়েছে, যার প্রভাবে বিশ্বজুড়ে খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ঘটছে। নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর মধ্যে এই ধরনের মূল্যবৃদ্ধি প্রায়ই তাদের খাদ্যাভ্যাসকে সস্তা ও কম পুষ্টিকর খাবারের দিকে চালিত করছে অথবা খাবার বাদ দেওয়ার মতো অন্যান্য ক্ষতিকর কৌশল অবলম্বনে প্ররোচিত করছে। এর ফলে অপুষ্টি দেখা দিতে পারে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরো ঘন ঘন ঘটছে এবং এর ফলে সৃষ্ট ফসলহানি খাদ্য নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরো খারাপ করে তুলছে। এই একাধিক সংকট একে অপরকে আরো শক্তিশালী করতে পারে এবং খাদ্যব্যবস্থার স্থিতিস্থাপকতাকে দুর্বল করে দিতে পারে।