Image description

দলের তৃণমূল নেতাদের একের পর এক নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে বিব্রত বিএনপি’র হাইকমান্ড। এসব কর্মকাণ্ডে সমালোচনার মুখে পড়ে সরকারও। দলের শৃঙ্খলা ফেরাতে বাধ্য হয়ে হার্ডলাইনে যান বিএনপি’র চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। চাঁদাবাজি-দখলবাজিতে জড়িত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক শাস্তির পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিএনপি প্রধান। একইসঙ্গে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের দিচ্ছেন কঠোর বার্তা। অভিযোগের প্রমাণ পেলেই ভেঙে দেয়া হচ্ছে কমিটি। সম্প্রতি দখল ও ভাঙচুরের ঘটনায় ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি, উত্তর যুবদল এবং পশ্চিম শাখা ছাত্রদলের কমিটি ভেঙে দেয়া হয়েছে। এই তিন সংগঠনের ১১ জনকে বহিষ্কারও করা হয়েছে। এ ছাড়া গ্রেপ্তার করা হয়েছে বহিষ্কৃত এক যুবদল নেতাকে।

বিএনপি’র একাধিক নেতা জানিয়েছেন, সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়ে অপকর্মে জড়িত তৃণমূল নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার বার্তা দেয়া হয়েছে। কেউ দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তবে বিএনপি’র কয়েকজন তৃণমূল ও শীর্ষ নেতা মনে করছেন, শুধু কমিটি বিলুপ্ত করে এসব কর্মকাণ্ড থামানো যাবে না। কেন্দ্র থেকে এসব নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। মূলত কেন্দ্রের সাংগঠনিক কাঠামো দুর্বল হওয়ার কারণে প্রতিনিয়তই এসব ঘটনা ঘটছে। এ জন্য রাজপথের ত্যাগী, যোগ্য নেতাদের দায়িত্ব দিয়ে সারা দেশে ওয়ার্ড কমিটি থেকে শুরু সমস্ত কমিটি পুনর্গঠন করতে হবে।
বিএনপি’র একজন সিনিয়র নেতা মানবজমিনকে বলেন, দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে চাচ্ছে বিএনপি। একসঙ্গে ঢাকা মহানগরে তিন কমিটি ভেঙে দিয়ে সেই বার্তাই দেয়া হয়েছে।

ওদিকে মিরপুরে মা ও শিশু স্বাস্থ্যকেন্দ্র রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িত থাকায় বিএনপি’র সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নির্দেশ পাওয়ার পর ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি গত বৃহস্পতিবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন।
কমিটি ভেঙে দেয়া ও বহিষ্কারের বিষয়ে বিএনপি’র কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা হয়েছে মানবজমিনের।

তারা জানিয়েছেন, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি, উত্তর যুবদল এবং পশ্চিম ছাত্রদলের কমিটি ভেঙে দেয়ায় সংগঠনের ভেতরে নানা আলোচনা চলছে। গুরুত্বপূর্ণ তিন ইউনিটের কমিটি একসঙ্গে ভেঙে দেয়ায় নতুন করে সামনে এসেছে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের কর্মকাণ্ড ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলার বিষয়টি। এই সিদ্ধান্তকে সংগঠনের শৃঙ্খলা ফেরানোর উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন নেতারা। বলছেন, কমিটি ভেঙে দেয়া এবং বহিষ্কারের মধ্য দিয়ে তৃণমূলে বার্তা দেয়া হলো বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে কেউ জড়িত থাকলে তাকে দল ছাড় দেবে না। একইসঙ্গে মাঠপর্যায়ে দলের ভাবমূর্তি ধরে রাখতেই এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নেতারা। এদিকে তদন্তের প্রয়োজনে যা যা ব্যবস্থা নেয়া দরকার, নেয়া হবে বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী মানবজমিনকে বলেন, বার্তা দেয়া হচ্ছে আইন সবার জন্য সমান। সরকার জনগণকে এই বার্তাটা দিতে চায় যে, সরকারি দলের যদি কারও সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগ থাকে, তার বিরুদ্ধেও অ্যাকশন নেয়া হবে। কারণ সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এর জন্য যখন যে ব্যবস্থা নেয়া দরকার, সে ব্যবস্থা নেবে।
কমিটি ভেঙে দেয়ার বিষয়ে বিএনপি’র সহ-দপ্তর সম্পাদক মুনির হোসেন মানবজমিনকে বলেন, কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি গঠন একটি সাংগঠনিক প্রক্রিয়া। এর অংশ হিসেবেই কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগ, কমিটি বিলুপ্ত ও বহিষ্কারের বিষয়ে বিএনপি’র সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম মানবজমিনকে বলেন, সরকার ও দলের বার্তা খুব স্পষ্ট, কোনো অনিয়মের সঙ্গে জড়িত হওয়া যাবে না। সরকার ও দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করা যাবে না।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান মানবজমিনকে বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগের মধ্যদিয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার বার্তা দেয়া হয়েছে। যেখানে একটি কল্যাণমুখী গঠনের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কাজ করছেন। সেখানে যদি কেউ ভাবমূর্তি নষ্ট করে তাহলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। তাই সবার এখন সতর্ক হওয়া উচিত। অন্যথায় বিরোধীরা সুযোগ নেবে। ইতিমধ্যে বিরোধীরা সেই সুযোগ নিয়েছে।