সিলেটে এনসিপি’র গাড়িবহরে হামলার ঘটনা নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। নিরাপত্তা স্কটের দায়িত্বে ছিল পুলিশের একাধিক দল। তারা বিষয়টি জানেন না। এনসিপি’র কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তার গাড়িতে হামলার ঘটনার অভিযোগ তুলে ঘটনার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। পরে এ নিয়ে প্রেস ব্রিফিংও করেন। পুলিশ ও এনসিপি’র পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের কারণে ঘটনাটি নিয়ে রহস্যের দানা বাঁধছে। চলছে নানা গুঞ্জনও। সিলেটের ৫টি উপজেলায় এনসিপি’র পক্ষ থেকে দু’দিনের জুলাই পদযাত্রা করা হয়। শেষ পদযাত্রা ও সমাবেশ ছিল জৈন্তাপুরের হরিপুরে। ঘটনাটি গত শুক্রবার মধ্যরাতের। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ফেসবুক পেজ দেয়া এক স্ট্যাটাসে অভিযোগ করেন- আবারো নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা।
সিলেটের জৈন্তাপুরে জুলাই পদযাত্রা শেষে ফেরার পথে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা গাড়ির কাঁচ ভাঙচুর করে। এতে ভাঙা কাঁচে আহত হন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং তার সঙ্গে থাকা আরও একজন। স্ট্যাটাসের সঙ্গে একটি ভিডিও যুক্ত করে দেয়া হয়। এতে দেখা যায়, মাইক্রোবাসের গ্লাস ভাঙা ও ভেতরে একজনের হাত থেকে রক্ত বের হচ্ছে। ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ার পর মধ্যরাতে এনসিপি’র কেন্দ্রীয় নেতারা সিলেট সার্কিট হাউজে আসেন। সেখানে তারা এ নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। এনসিপি’র কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা জানিয়েছেন, হরিপুরের সমাবেশ শেষ করে তাদের গাড়িবহরটি ৪ থেকে ৫শ’ মিটার দূরে আসে। এমন সময় কে বা কারা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়িবহরকে লক্ষ্য করে ইট ছুড়ে মারে। এতে বহনকারী মাইক্রোবাসের গ্লাস ভেঙে যায় ও ইটের টুকরো এসে ভেতরে পড়ে। এতে দু’জন আহত হন।
পুলিশ জানায়, বহরে পুলিশের স্কটে একজন এডিশনাল এসপি’র নেতৃত্বে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ছিল। তারা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তা দিয়ে গেছেন। ওই বহরে ছিলেন জৈন্তাপুর থানার ওসি মাহবুবুল আলম মোল্লা। গতকাল বিকালে তিনি মানবজমিনকে জানিয়েছেন, পুলিশের স্কটে তিনি ছিলেন। সামনে থানা পুলিশ ও পেছনে ছিল ডিবি পুলিশের গাড়ি। তারা বটেশ্বর জৈন্তা গেট পর্যন্ত বহরের গাড়িগুলো এগিয়ে দিয়ে যান। তবে হামলার বিষয়টি তিনি অবগত নয়। বলেন, হামলার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভুয়া। এরকম কিছুই ঘটেনি। তারা যখন ফিরছিলেন তখন ওই এলাকায় ভারী বর্ষণ হচ্ছিল। রাস্তায়ও যানবাহন ছাড়া মানুষের উপস্থিতি ছিল না।
ঘটনার পর সিলেট সার্কিট হাউজে প্রেস ব্রিফিংয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তার বক্তব্যে সরকারের সমালোচনা করেন। বলেন, ‘আশা করি, রাজপথে দেখা হবে। রাজনৈতিকভাবেই ইনশাআল্লাহ্ মোকাবিলা হবে। আর আজকে আপনার ক্ষমতার পতন শুরু হয়েছে, ইনশাআল্লাহ্।’ তিনি বলেন, ‘এটা আমি পার্সোনাল জায়গা থেকে তারেককে উদ্দেশ্য করে বলবো আপনি মস্ত বড় একটা ভুল করেছেন। এই ভুলের কাফফারা আপনাকে দিতে হবে। এটা আমি ব্যক্তিগতভাবে নিলাম। আমাকে একবার জেলে নেয়া হয়েছিল, তার কাফফারা উনি দিয়েছেন, তারও ডিটেইলস আছে। আমি আপনাকে অনেক আগেই সতর্ক করেছিলাম, কিন্তু আপনি সতর্ক হননি।
তাই এটা আমি পার্সোনালি নিলাম। আপনাকে এটার কাফফারা দিতে হবে।’ এ ঘটনার পর পুলিশের দেয়া বক্তব্যের প্রেক্ষিতে কথা বলেন উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। মধ্যরাতে সার্কিট হাউজে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, হামলা কীভাবে পুলিশ টের পাবে। প্রটেকশনের গাড়ি তো পাশে ছিল না। সামনে ও পেছনে ছিল এবং তারা যথেষ্ট চেষ্টা করেছেও। এটা তো যে পাশ দিয়ে গাড়ি যাচ্ছে অন্যপাশ দিয়ে, ধরেন রাস্তার নিচে থেকে যদি কেউ ইট ছুড়ে তাহলে তো পেছন থেকে কেউ দেখতে পাবে না। ঢিলে গ্লাসটা ভেঙে সঙ্গে সঙ্গে তার হাতে লাগে। মামলা করবেন কী না? এমন প্রশ্নের জবাবে সারজিস বলেন, হবিগঞ্জের ঘটনায় মামলা হয়েছে কিন্তু এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তাহলে এ ধরনের ঘটনার আইনগত পদক্ষেপ নিয়ে কী হবে? যদি সরকার ব্যবস্থা নিতো, আমরা আস্থা পেতাম।