Image description
নবায়নযোগ্য জ্বালানি সৌর, বায়ু ও বর্জ্য

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বেসরকারি খাতে ৩ হাজার ৫৫৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন নবায়নযোগ্য জ্বালানির ( সৌর, বায়ু এবং বর্জ্য) ৩১টি বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছিল। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির বিশেষ আইনে অনুমোদন করা এসব প্রকল্প গত বছরের ২৬ আগস্ট বাতিল করে দেয় আন্তর্বর্তী সরকার। বিএনপিদলীয় সরকার ক্ষমতায় এসে এই ৩১টি প্রকল্প যাচাই-বাছাই করতে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করে। তবে বিদ্যুৎ বিভাগের শীর্ষ নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগ আমলের সেই ৩১ প্রকল্প নতুন করে জীবিত করার কোনো সুযোগ নেই। প্রচলিত আইনে সেটি সমর্থনও করে না।

পিডিবির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রেজাউল করিম সোমবার যুগান্তরকে বলেন, আওয়ামী সরকার আমলে বিশেষ আইনে ওই ৩১টি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছিল। এখন তো সেই বিশেষ আইন নেই। এখন কোন আইনে ওই ৩১ প্রকল্প পুনরায় অনুমোদন করা হবে? তিনি বলেন, বিষয়টি জানিয়ে শিগগিরই তার কমিটি সরকারকে রিপোর্ট দিয়ে দেবে।

জানা গেছে, বর্তমান সরকারের নীতিনির্ধারকদের একটি অংশ কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে ওই ৩১টি প্রকল্পের কয়েকটিকে অনুমোদনের ব্যাপারে ইতিবাচক ছিলেন। সেজন্য পিডিবির চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে কমিটি গঠন করা হয়েছিল। অভিযোগ আছে, এই কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াও যথাযথ ছিল না।

বিদ্যুৎ বিভাগ জানায়, ৩১টি প্রকল্পের ৬টি স্থানে অন্তর্বর্তী সরকার দরপত্রের মাধ্যমে অন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বসাতে অনুমোদন দিয়ে গেছে। সেগুলোর ব্যাপারে চুক্তিও করেছে পিডিবি। বাকি ৩-৪টি প্রকল্পের জায়গায় এখন দরপত্রের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রকল্প বাস্তায়নের প্রক্রিয়া চলছে। সংশ্লিষ্ট বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের দাবি, আইনগতভাবে তারা এই প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছিলেন। এতে করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে ৪০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ হতো।

জানা গেছে, ওই ৩১ প্রকল্প বাতিলের আদেশ অবৈধ ঘোষণা করতে সংশ্লিষ্ট সব কোম্পানি হাইকোর্টে রিট করে রেখেছে। সেগুলোর আইনগত প্রক্রিয়া এখন চলছে।

পিডিবি এবং অন্য সূত্রগুলো জানিয়েছে, ৩১টি প্রকল্পের মধ্যে বিশেষ আইনে পাবনার ৭০ মেগাওয়াটের গ্রিন এনার্জির প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছিল প্রতি ইউনিট ১০ দশমিক ১৫ মার্কিন সেন্টে। এই দামে গ্রিন এনার্জি পিডিবিকে বিদ্যুৎ বিক্রি করার কথা। পরে দরপত্রের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকার সেখানে প্যারামাউন্ড টেক্সটাইলকে ৭ দশমিক ৯ সেন্টে ওই প্রকল্প করার অনুমোদন ও চুক্তি করেছে। নীলফামারীতে এজে পাওয়ার ৯ দশমিক ৯৮ সেন্টে ৫০ মেগাওয়াটের সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র বসানোর কথা। অন্তর্বর্তী সরকার কনকর্ড প্রগতি কনসোর্টিয়ামকে ৮ দশমিক ২৬ ডলারে অনুমোদন করেছে। কক্সবাজারে ১০০ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে প্রতি ইউনিট ৯ দশমিক ৯৮ সেন্টে আওয়ামী সরকার অনুমোদন দিয়েছিল। সেখানে কনফিডেন্স পাওয়ার ৮ দশমিক ০৯ ডলারে সেই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। কক্সবাজারে কেআই, অলটেক কনসোর্টিয়াম ১০০ মেগাওয়াটের প্রকল্প বিশেষ আইনে ৯ দশমিক ৮৯ সেন্টে নিয়েছিল। সেখানে দরপত্রে বিএম স্টার ট্রেডিং করছে মাত্র ৬ দশমিক ৫৩ সেন্টে। নোয়াখালীতে ইনফ্রাকো এশিয়া ৯ দশমিক ৯৭ সেন্টে অনুমোদন নিয়েছিল ২০২৪ সালের ১৮ জানুয়ারি। পরে দরপত্রে মাহিন-ভিদুলংকা ওই প্রকল্পের কাজ পেয়েছে ৭ দশমিক ৪৯ সেন্টে।

২০২৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি বাগেরহাটে এশিয়া এনটেক পাওয়ার ১০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ বিক্রির অনুমোদন পেয়েছিল। সেখানে দরপত্রে কনফিডেন্স পাওয়ার কাজ পেয়েছে ৮ দশমিক ০৯ সেন্টে। এ ছাড়া লামা ৭০ মেগাওয়াট, চকরিয়া ৩০ মেগাওয়াট কক্সবাজার সদর ৫০ মেগাওয়াটের প্রকল্প অনুমোদন করেছিল আওয়ামী লীগ। এখন সেখানে দরপত্রের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে।

এর বাইরে পিডিবি-আরপিসিএল এবং সিআরইসি ইন্টারন্যাশনাল যৌথভাবে ১১ দশমিক ০৫ সেন্টে ১০০ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎ, ত্রিশালে ৪৪ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র ১০ সেন্টে, কক্সবাজারে ১২ দশমিক ২৫ সেন্টে বায়ু বিদ্যুৎকেন্দ্র, সাতক্ষীরায় ১২ দশমিক ২৪ সেন্টে ১০০ মেগাওয়াটের বায়ু বিদ্যুৎ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কসবাসহ বিভিন্ন এলাকায় ছোট ছোট কেন্দ্র বসিয়ে বর্জ্য থেকে ১১ মেগাওয়াট উৎপাদনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল ২৬ ডিসেম্বর ২০২৩ সালে। ওই বিদ্যুৎ প্রতি ইউনিট সরকার কেনার কথা ছিল প্রতি ইউনিট ১৯ দশমিক ১ সেন্ট। আওয়ামী লীগ আমলে বাকি সৌরবিদ্যুতের প্রস্তাব ছিল ১০ সেন্টের নিচে।

বর্তমান বিএনপি সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে বলা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য জ্বালানির মাধ্যমে উৎপাদন করবে। এ জন্য আগের পরিকল্পনা, নীতিমালা এবং আগামীর কর্মসূচি সব সমন্বয় করে একটি কৌশলপত্র প্রকাশ করা হবে। যা চলতি সপ্তাহে হতে পারে। তাতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সৌর, বায়ু বা বর্জ্যভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বসাতে বেশ কিছু সুবিধার কথা বলা হয়েছে।