চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) চীনে বাংলাদেশের রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে বেড়েছে ১৬ শতাংশ। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যমতে, এ সময় দেশটিতে রপ্তানি হয়েছে ৭৪ কোটি ২৫ লাখ ডলার বা প্রায় ৮ হাজার ৯১০ কোটি টাকার পণ্য। এ হিসাবে বাণিজ্য বিশ্লেষকদের প্রত্যাশা, চলতি মাসের চূড়ান্ত হিসাব যোগ হওয়ার পর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো চীনে বাংলাদেশের বার্ষিক রপ্তানি আয় ১ বিলিয়ন বা ১০০ কোটি ডলার স্পর্শ করতে যাচ্ছে, যা স্থানীয় মুদ্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার সমান।
বাংলাদেশ ব্যাংকের আমদানির তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসেই বাংলাদেশ চীন থেকে প্রায় ২ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকার (১৮ বিলিয়ন ডলার) বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি করেছে। এর মধ্যে রয়েছে তৈরি পোশাক খাতের জন্য প্রয়োজনীয় মধ্যবর্তী কাঁচামাল, কৃত্রিম সুতা, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি এবং ভারী মূলধনি যন্ত্রপাতি।
রপ্তানি কিছুটা বাড়লেও আমদানির বিশাল চাপের কারণে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের নিটবাণিজ্য ঘাটতি পাহাড়সম রূপ নিয়েছে, যার পরিমাণ প্রায় ২ লাখ ৭ হাজার ৯৬০ কোটি টাকা (১৭ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার)। আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, বাংলাদেশের বিশ্বব্যাপী মোট যে বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে, তার প্রায় তিন-চতুর্থাংশই এককভাবে চীনের সঙ্গে।
দেশটি সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার হলেও দুই দেশের বাণিজ্যে চীনের একতরফা আধিপত্য
বাংলাদেশ ব্যাংক এবং ইপিবির সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চীন বর্তমানে একক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার হলেও দুই দেশের এই বাণিজ্য মূলত চীনের পক্ষে একতরফা।
এমন পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের এক নতুন অধ্যায় সূচনার লক্ষ্যে চার দিনের সরকারি সফরে চীন গেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এবারের সফরে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধি, বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনা এবং চীনা বিনিয়োগ আকর্ষণসহ নিরেট অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। সফরকালে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগসংক্রান্ত প্রায় ১৫ থেকে ১৭টি চুক্তি এবং সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার জোর সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিসিসিসিআই) সাবেক মহাসচিব আল মামুন মৃধা বললেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখবে। চলমান আন্তর্জাতিক ব্যবসা পরিবর্তনের যুগে আমাদের যুবশক্তির আধুনিক প্রশিক্ষণ, রোবোটিকস, সেমিকন্ডাক্টর ও এআই খাতে চীনা বিনিয়োগ অত্যন্ত জরুরি।’
বাণিজ্য ঘাটতি প্রসঙ্গে তিনি বললেন, ‘চীনের সঙ্গে অনেকেরই বাণিজ্য ঘাটতি আছে, এটি স্বাভাবিক। তবে ঘাটতি কমাতে চীন থেকে আমদানি করা প্রধান পণ্যগুলোর যন্ত্রাংশ তৈরির কারখানা যদি চীনারা এ দেশে বিনিয়োগের মাধ্যমে গড়ে তোলেন, তবে আমাদের আমদানি-নির্ভরতা ও বাণিজ্য ঘাটতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে।’