কক্সবাজারের উখিয়ায ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে় ছৈয়দা খাতুন (৫০) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মারধরে তিনি মারা গেছেন। তবে পুলিশ বলছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
শনিবার (১৬ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজাপালং ইউনিয়নের টাইপালং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ছৈয়দা খাতুন রাজাপালং ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ছব্বির আহমদের স্ত্রী।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান বলেন, ওই নারী হাসপাতালে মারা গেছেন। কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, সেটি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় এক সপ্তাহ আগে টাইপালং মাদ্রাসার দেয়ালে ‘জয় বাংলা’ লেখা নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির নেতারা থানায় অভিযোগ দিলেও মামলা হয়নি। এরপর থেকেই এলাকায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছিল।
শনিবার রাতে স্থানীয় ছাত্রদল নেতা জিসানের একটি ফেসবুক পোস্টে ছাত্রলীগের এক নেতা ইউনুস ‘হা হা’ প্রতিক্রিয়া দিলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায়। পরে রাত ৯টার দিকে বিএনপি ও ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী ইউনুসকে ধরে মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
এ সময় এনজিওকর্মী এস এম ইমরান তাকে রক্ষার চেষ্টা করলে তাকেও মারধর করা হয়। খবর পেয়ে ইমরানের মা ছৈয়দা খাতুন ঘটনাস্থলে গেলে তিনিও হামলার শিকার হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ইমরান অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় বিএনপি নেতা মিজান সিকদার, আব্দুল করিম, আকাশ, সাইফুল সিকদার, ছৈয়দ বাবুল, মাহবুবুর রহমান, ছালাম সিকদার, ছাত্রদল নেতা জিসান ও অ্যাম্বুলেন্সচালক শামসুল আলমের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়।
তবে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সংঘর্ষের পর পুলিশ ছাত্রলীগ নেতা ইউনুসকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, অভিযুক্ত বিএনপি বা ছাত্রদলের কাউকে এখনো আটক করা হয়নি।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান এক বিবৃতিতে বলেন, ছাত্রলীগ কর্মীকে আটকের ঘটনায় ছেলেকে ছাড়াতে যাওয়া মায়ের ওপর পুলিশি নির্যাতনের কোনো ঘটনা ঘটেনি।