Image description
পদ্মার তীরে ফেলেছেন খণ্ডিত চার হাত-পা আর মাথা পুকুরে

শরীয়তপুর সদরে পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীকে হত্যার পর শরীরের হাড়-মাংস আলাদা করে তিন দিন ফ্রিজ ও ড্রামে ভরে রাখার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রী আসমা আক্তারের বিরুদ্ধে। শুক্রবার লাশের অংশ বিভিন্ন স্থানে ফেলতে গিয়ে তিনি স্থানীয়দের কাছে ধরা পড়েন। এরপর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন।

পালং মডেল থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আট বছর আগে সদর উপজেলার দক্ষিণ মাহমুদপুর ৭নং ওয়ার্ডের মালয়েশিয়া প্রবাসী জিয়া সরদারের (৪৫) সঙ্গে মোবাইলে পরিচয়ের মাধ্যমে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন পিরোজপুরের আসমা আক্তার। তাদের দুজনেরই এটি ছিল দ্বিতীয় বিয়ে।

বিয়ের পর আসমাকে শহরের উত্তর পালং এলাকায় জিয়া সরদার ভাড়া বাসায় রাখেন। গত বছর মে মাসে জিয়া দেশে ফিরে আসেন। এরপর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। দাম্পত্য কলহের জেরে ১২ মে রাতে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে জিয়ার মাথায় রড দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেন আসমা। এরপর লাশ লুকিয়ে রাখতে তিনি ছুরি দিয়ে লাশ ৬ টুকরো করে হাড়-মাংস আলাদা করে তিন দিন ড্রামে ও ফ্রিজে ভরে রাখেন।

আসমা শুক্রবার রাতে অটোরিকশায় করে ড্রাম থেকে লাশের একটি অংশ মুলফৎগঞ্জে পদ্মা নদীর তীরে সাদা প্লাস্টিকে মোড়ানো ব্যাগে ফেলে দেন। এরপর বাকি অংশ বস্তায় ভরে ফেলে আসেন শরীয়তপুর পৌরসভার আটং এলাকার বৃক্ষতলা এলাকায়। এরপর তিনি হাড়ছাড়া দেহের মাংসগুলো শহরের উত্তর পালংয়ের শাবনুর মার্কেট এলাকায় পুরোনো ভাড়া বাসার এক প্রতিবেশীর ফ্রিজে রাখতে যান। তখন তীব্র গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে একপর্যায়ে জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে স্থানীয়রা বিষয়টি পুলিশকে জানায়।

পুলিশ আসমাকে আটক শেষে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যে রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিভিন্ন স্থান থেকে পুলিশ লাশের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করে। ওই রাতেই নড়িয়ার পদ্মা নদীর তীর থেকে নিহতের খণ্ডিত চার হাত-পা উদ্ধার করে নড়িয়া থানা পুলিশ। অত্যন্ত নৃশংসভাবে স্বামীকে হত্যার কথা অকপটে স্বীকার করেছেন আসমা।

আসমা বলেন, আমার স্বামী প্রায়ই আমাকে মারধর করত। ১২ মে রাতে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে তাকে মাথায় রড দিয়ে আঘাত করলে সে দরজার সঙ্গে বাড়ি খেয়ে পড়ে যায়। আমি বুঝতে পারিনি এত জোরে আঘাত লাগবে। এরপর সারা রাত লাশ নিয়ে বসে ছিলাম। পরদিন ধারালো ছুরি দিয়ে লাশ টুকরো টুকরো করে কয়েক জায়গায় ফেলে দিয়েছি। কিন্তু সবকিছু কীভাবে ঘটে গেল বুঝতে পারিনি।

শাবনুর মার্কেট এলাকার রানু বেগম বলেন, আসমা পচা মাংস ফ্রিজে রাখতে এলে গন্ধ ছড়ায়। এতে আমাদেরও সন্দেহ হয়। তখন আমরা ৯৯৯ কল করে বিষয়টি পুলিশকে জানাই। পরে পুলিশ এসে তাকে আটক করে নিয়ে যায়।

নিহত জিয়ার চাচাতো ভাই শাহাদাত হোসেন শাহেদ বলেন, আমার ভাই প্রবাসে থাকাকালীন ওই নারীকে বিয়ে করেন। তিনি দেশে আসার পর আলাদা জায়গায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন। আমার ভাইকে ওই নারী হত্যা করে লাশ ড্রামে ভরে রেখেছে। পুলিশ তাকে আটক করেছে। আমি অপরাধীর শাস্তির দাবি জানাই।

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, আসমা আক্তার স্বামী জিয়াকে হত্যার পর লাশের হাত-পা টুকরো করে মাংস আলাদা করেছে। আমরা আটকের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে সব কথা স্বীকার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃক্ষতলার একটি পুকুর থেকে মাথাসহ হাড় উদ্ধার করেছি। এ ঘটনায় তদন্ত হচ্ছে। তার সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ব্যাপারে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।