বিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসের বিশেষ সহকারী মনির হায়দারকে মারধর করা হয়েছে —এমন দাবিতে একটি ভিডিও ছড়িয়েছে ফেসবুকে। ওমি রহমান পিয়াল সহ আওয়ামী লীগ পন্থী একটিভিস্টরা প্রথমে ভিডিওটি শেয়ার করেছেন এবং এরপর বাংলাদেশের মূলধারার একাধিক সংবাদমাধ্যম ‘নিউইয়র্কে বিতর্কিত মনির হায়দার মবের শিকার!’ শিরোনামে ভুয়া খবরটি প্রকাশ করেছে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি একটি প্রাইভেটকার ঘিরে উচ্চস্বরে কথা বলছেন। কয়েকজন গাড়ির ভেতরে থাকা ব্যক্তিকে মারধরও করছেন এবং তার গেঞ্জি ছেঁড়া অবস্থায় রয়েছে।
ফেসবুকে ভিডিওটি পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, ‘‘দখলদার ইউনূসের বিশেষ সহকারী ও রাজাকার শাবক মনির হায়দারকে নিউয়র্কে বিশেষ আপ্যায়ন করেছে প্রবাসী বন্ধুরা। যেখানে রাজাকার-চিনিয়ে দেবে তাদের আকার।।’’
আরেকটি পোস্টের ক্যাপশন দেয়া হয়েছে এভাবে: “মবের জনক দখলদার ইউনুসের বিশেষ সহকারী মনির হায়দারকে আজ আমেরিকার লসএন্জেলেস শহরে প্রবাসী বাংলাদেশিরা আন্তর্জাতিক গনধো*লাই দিয়েছে!’’ এবং ‘‘নিউইয়র্কে বাডাম খেলো ইউনুসের ভাড় মনির হায়দার! আমার খুব কষ্ট হচ্ছে।’’
এমন কিছু পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে।
ভাইরাল ভিডিওটিকেই সূত্র ধরে দৈনিক ইনকিলাব, ঢাকা টাইমসহ কয়েকটি বাংলা সংবাদমাধ্যমে ‘‘নিউইয়র্কে বিতর্কিত মনির হায়দার মবের শিকার!” শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন দেখুন এখানে, এখানে এবং এখানে।
তবে দ্য ডিসেন্ট যাচাই করে দেখেছে, ভিডিওতে হেনস্তার শিকার হওয়া ব্যক্তি মনির হায়দার নন।
ভিডিওর কী-ফ্রেম রিভার্স ইমেজ সার্চ করে Masud Ahmod নামক আইডিতে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ভিডিওটি প্রথম প্রকাশ করা হয়েছে বলে পাওয়া যায়।
মাসুদ আহমদ ভিডিওটির ক্যাপশনে লিখেছেন, “10/03/2025 Los Angeles All
AMARA BANGLA OWNER AND BNP POLITICS PEOPLE THE LIKE TO KILL ME ….because all Bangladesh people living homeless life La .. Get EBT card home care money lie to America . ? Married cousin…married own sister . For American citizenship. …most of Los Angeles people have religion, other man Because all about money’’।
ক্যাপশন থেকে বুঝা যায়, মাসুদ আহমদ ভিডিওটি তার নিজের উপর হামলার বলে দাবি করছেন। তবে হামলার ঘটনাটি কবেকার তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কারণ, মাসুদ ১৩ ফেব্রুয়ারি ভিডিওটি প্রকাশ করলেও ক্যাপশনের শুরুতে তার উপর হামলার সময় লিখেছেন ‘১০/৩/২০২৫’।
ভিডিওটি কবেকার তা জানার জন্য মাসুদ আহমদের মেসেঞ্জারে নক করা হয়েছে। তবে এই রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত তিনি জবাব দেননি।

এদিকে ভিডিওতে দৃশ্যমান আক্রান্ত ব্যক্তিটির চেহারার সাথে মাসুদ আহমদের ফেসবুক প্রোফাইলে পোস্ট করা নিজের অন্যান্য ছবির সাথে মিলে যায়।
উল্লেখ্য, মনির হায়দার দ্য ডিসেন্টকে জানিয়েছেন তিনি গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকা থেকে যুক্তরাষ্ট্র গমণ করেন।