ইরান মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইল ও মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ওপর নতুন ধরণের বিস্তৃত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তাদের সুপ্রিম নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর প্রতিশোধ নেয়ার ঘোষণা দেয়ার কয়েক ঘন্টার মধ্যে এই হামলা চালানো হয়েছে। খবরে বলা হয়েছে, দুবাই এবং কাতারের রাজধানী দোহায় কয়েকটি জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কাতারে ইরানের এই আক্রমণ প্রতিবেশীদের একটি বার্তা দেয়ার উদ্দেশ্যে যে, মার্কিন শত্রুর পাশে দাঁড়ালে পরিণতি ভোগ করতে হবে। ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, অপারেশন ‘ট্রু প্রমিস’-এর পঞ্চম ঢেউতে, আমেরিকান একটি জাহাজ জেবেল আলি’তে নোঙর করা অবস্থায় চারটি ড্রোন দিয়ে আঘাত করা হয়েছে।
তা সম্পূর্ণরূপে ক্ষতিগ্রস্ত ও বিস্ফোরিত হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, কুয়েতের আবদুল্লাহ মুবারক এলাকার আমেরিকান নৌ ঘাঁটিতে চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১২টি ড্রোন আঘাত হানে। এতে সমস্ত অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে, এবং বড় সংখ্যক আমেরিকান সেনা নিহত ও আহত হয়েছে। এছাড়াও এমএসটি-ক্লাস কমব্যাট সাপোর্ট জাহাজ, যা ভারত মহাসাগরে আমেরিকান জাহাজের জন্য জ্বালানি বহন করছিল, ইরানের কাদ্র ৩৮০ ক্ষেপণাস্ত্র দ্বারা আঘাত করা হয়েছে। আইআরজিসি আরও বলেছে, আইআরজিসি নৌ ও বিমান বাহিনী মিলে শত্রু ইউনিটের জন্য নরকের দরজা খোলা রাখবে। ইরান দুবাই বিমানবন্দরেআক্রমণ করেছে। এর আগে ইরান হামলা চালিয়েছে দুবাইয়ের বিখ্যাত দ্বীপ পাম জুমেইরাতে ও একটি বিলাসবহুল হোটেল বুর্জ আল আরাবে।
১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি শনিবারে ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত হন। ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস তাদের সুপ্রিম লিডারের হত্যাকারীদের শাস্তি দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বলেছে যে, এটি হবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ংকর আক্রমণাত্মক অভিযান’। আইআরজিসি টেলিগ্রামে জানিয়েছে, ‘ইমাম উম্মাহর হত্যাকারীদের জন্য কঠোর, সিদ্ধান্তমূলক এবং দুঃখজনক শাস্তির প্রতিশোধের হাত ইরানি জাতি কখনও সরিয়ে নেবে না।’
জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস অবিলম্বে সংঘাত বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য ‘ভয়ঙ্কর পরিণতি’ ঘটতে পারে বলে সতর্ক করেছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং রাশিয়াও পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছে।