ইউনূস সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত ছিল যদি ফিলিস্তিন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সক্ষম হয়, তাহলে বাংলাদেশ সরে দাঁড়াবে। কিন্তু না, নাটকীয় মোড় নিয়েছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্রেসিডেন্ট পদের অত্যাসন্ন নির্বাচন। আচমকা নিজে থেকেই সরে দাঁড়িয়েছে ফিলিস্তিন। ফলে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে লড়বে বাংলাদেশ। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রতিনিধিত্বকারী রাষ্ট্রগুলোর মধ্য থেকে এবার প্রেসিডেন্ট হবেন। বৈশ্বিক কূটনীতিতে নিজের অবস্থান পোক্ত করার ওই সুযোগ কাজে লাগাতে আগে থেকেই মাঠে আছে সাইপ্রাস। ফিলিস্তিনের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর এবার মূলত লড়াই হবে বাংলাদেশ ও সাইপ্রাসের মধ্যে।
কূটনৈতিক সূত্র মতে, নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে মনোনয়ন দিয়েছেন। নির্বাচনে জয় পেতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দিয়েছেন বলে জানিয়েছে সেগুনবাগিচা। ২০২৬-২৭ মেয়াদের জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে নির্বাচন আগামী জুন মাসে নিউ ইয়র্কস্থ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত হবে।
উল্লেখ্য, ৮০-এর দশকে জাতিসংঘের ৪১তম সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে বাংলাদেশ নির্বাচিত হয়েছিল। তখন খ্যাতিমান কূটনীতিক তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী (পরবর্তীতে জাতীয় সংসদের স্পিকার) হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী এই পদে মনোনয়ন এবং নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছিলেন। সেই থেকে ঠিক ৪০ বছর পর এবার ফের নির্বাচনে বাংলাদেশ।
জাতিসংঘে সাধারণত পাঁচটি আঞ্চলিক গ্রুপ থেকে পালাক্রমে সভাপতি পদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। এবারের পালা এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের। এই গ্রুপ থেকে এবার শেষমেষ দুইজন প্রার্থী লড়াই করছেন- ফিলিস্তিন সরে যাওয়ায় এখন বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মাঠে আছে সাইপ্রাস। যদিও সাইপ্রাস ভৌগোলিকভাবে ইউরোপের অংশ। তবুও তারা জাতিসংঘের গঠনতান্ত্রিক নিয়ম অনুযায়ী এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের সদস্য। সাধারণত এই ধরনের নির্বাচন সমঝোতার ভিত্তিতে হয়। কিন্তু এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেশ জোরালো হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।