হঠাৎ করে গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকে নতুন গভর্নর নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ঝানু অর্থনীতিবিদ এবং দলনিরপেক্ষ হিসেবে পরিচিত ড. আহসান এইচ মনসুরকে বিদায় জানিয়ে নারায়ণগঞ্জের গার্মেন্টস ব্যবসায়ী মোস্তাকুর রহমানকে নতুন গভর্নর নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
অর্থনীতিবিদ ও ঝানু ব্যাংকারদের বদলে হেরা সোয়েটার্স লিমিটেডের মালিককে গভর্নর নিয়োগ দেয়া নিয়ে সর্বত্রই আলোচনা-সমালোচনা ও বিতর্ক চলছে। গতকাল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ ছিল ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’। কেন্দ্রীয় ব্যাংক পরিচালনার পাশাপাশি আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক, এডিবি, জাইকাসহ বিশ্বের প্রভাবশালী আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে বাৎচিৎ করতে হয়। ওই সব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বিশ্বের বাঘা বাঘা অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকারদের ম্যানেজ করতে হয় গভর্নরকে। সে কারণে যুগের পর যুগ থেকে দেশের প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ, ঝানু ব্যাংকার, অর্থ মন্ত্রণালয় পরিচালনা করেছেন এমন আমলা এবং আর্থিকভাকে প্রচুর গবেষণা করেছেন এমন ব্যক্তিদের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। এবার তৃতীয় সারির গার্মেন্টস ব্যবসায়ীকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন গভর্নর নিয়োগের খবর প্রচার হওয়ায় অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকিং সেক্টরের এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। সবাই খোঁজখবর নেনÑ কে এই গার্মেন্টস ব্যবসায়ী মোস্তাকুর রহমান? অর্থনীতিবিদদের অনেকেই গ্যার্মেন্টস ব্যবসায়ীকে গভর্নর নিয়োগ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
তারা বলেছেন, দেশের বর্তমান অর্থনীতি ৪৬০ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। এখন থেকে আগামী আট বছরের মধ্যে ২০৩৪ সালে এক ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বার্ষিক প্রায় ৯ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন। বর্তমানে বাংলাদেশ ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধিতে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বের ব্যাংকিং স্টের ও অর্থনৈতিক সেক্টরে পরিচিত বিএনপির এমন যেকোনো অর্থনীতিবিদ ও ঝানু ব্যাংকার গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেয়া উচিত ছিল। ব্যাংকিং সেক্টরের কেউ নন এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যেও তেমন পরিচিত নন, এমন একজন ব্যবসায়ীকে গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেয়া নেপথ্যে কী অন্য কোনো সমীকরণ রয়েছে? একজন ব্যবসায়ীকে গভর্নর নিয়োগ নতুন সরকারের পক্ষ থেকে ‘চমক’ নাকি অর্থনীতি ও ব্যাংকিং সেক্টরের জন্য ‘ডিজাস্টার’ তা সময় বলে দেবে। তবে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধরী বলেছেন, স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আরো অনেক সেক্টরে এমন পরিবর্তন হবে।
নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দেশের অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত অবস্থায় রেখে গেছে। ভুলনীতির কারণে একদিকে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষতি হয়েছে, অন্যদিকে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ব্যাংক ঋণে উচ্চ সুদের কারণে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে এক ধরনের স্থবিরতা দেখা গেছে। তাই নতুন সরকারকে একদিকে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও রাজস্ব ঘাটতি, অন্যদিকে বৈদেশিক ঋণের চাপ ও ব্যাংক খাতের অস্থিরতাÑ সব মিলিয়ে এক কঠিন অগ্নিপরীক্ষার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। আর এই ভঙ্গুর ও ভারসাম্যহীন অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে অন্যতম হাতিয়ার আর্থিক খাত। আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাই এ ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা পালন করে। এক কথায়, দেশের আর্থিক খাতের নীতি-নির্ধারক গভর্নর। কারণ অর্থমন্ত্রী নির্দেশনা দেবেন আর বাস্তবায়ন করবেন গভর্নর। অনেক ক্ষেত্রে অর্থমন্ত্রীর চেয়ে কাজের দিক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর।
অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা বলছেন, অর্থমন্ত্রী হিসেবে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর অভিজ্ঞতার ঘাটতি না থাকলেও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি-পূরণ তার জন্য চ্যালেঞ্জ। আর তাই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে হতে হবে আর্থিক খাতের চৌকস ব্যক্তি। তাকে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, এডিবিসহ আন্তর্জাতিক অনেক নেগোসিয়েশন করতে হবে। এক কথায়, দেশের অর্থনীতির ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর গভর্নর। তাকে আর্থিক খাত ও দেশের অর্থনীতি সম্পর্কে বিস্তর জ্ঞান রাখতে হবে। আর তাই দেশের আর্থিক খাতের বিশ্লেষক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ সবারই মতÑ বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হবে এমন একজন, তিনি তার দক্ষতা-জ্ঞান, নেতৃত্ব ও অভিজ্ঞা দিয়ে দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করে সরকারকে যেমন মানুষের আস্থায় পরিণত করবেন; তেমনি দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ ও সুসংহত করবেন। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে ভিন্ন। একাধিক বিশ্লেষক আশা করেছিলেন, দেশের খ্যাতিমান অর্থনীতিবিদ বা আর্থিক খাত-সংশ্লিষ্ট কাউকে দায়িত্ব দেয়া হবে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে। যদিও গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর হিসেবে মো. মোস্তাকুর রহমানকে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। বাংলাদেশের ইতিহাসে ব্যাংকার, অর্থনীতিবিদ ও আমলার বাইরে এই প্রথম একজন ব্যবসায়ীকে গভর্নরের দায়িত্ব দেয়া হলো, যা এ খাত-সংশ্লিষ্ট অনেককে বিস্মিত করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান পদে নতুন সরকারের নতুন এই নিয়োগ দেয়ার উদ্দেশ্য এবং যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন রেখেছেন। যার ব্যাংকিং কিংবা আর্থিক খাত নিয়ে ক্যারিয়ার বা অভিজ্ঞতার কোনোই রেকর্ড নেই বা ছিল না। নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান হেরা সোয়েটার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্বরত। তবে মোস্তাকুর রহমানের অভিজ্ঞতার বিষয়ে জীবন বৃত্তান্তে বলা হয়েছেÑ করপোরেট অর্থায়ন, শিল্প ব্যবস্থাপনা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন বিষয়ে তার বিশেষ দক্ষতা রয়েছে বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের নিয়োগদান প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সভাপতি, একুশে পদকপ্রাপ্ত বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. মইনুল ইসলাম ইনকিলাবকে বলেন, নতুন যাকে গভর্নর নিয়োগদান করা হয়েছে, তার সম্পর্কে কিছুই জানি না। সুতরাং কোনো মন্তব্য করতে চাই না। ঘাটতি না থাকলেও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি-পূরণ তার জন্য চ্যালেঞ্জ।
জানতে চাইলে প্রবীণ ও খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ চট্টগ্রাম ইস্ট ডেল্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর মুহাম্মদ সিকান্দার খান ইনকিলাবকে বলেন, নবনির্বাচিত নতুন গণতান্ত্রিক সরকার তাদের দলের প্রতি অনুগত ব্যক্তিকে নিয়োগ প্রদান করবেÑ এটি বলা যায়, স্বাভাবিক ব্যাপার। তবে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বিবেচনা গুরুত্ব পেয়েছে এবং বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর (ড. আহসান এইচ মনসুর) কত সময়কাল মেয়াদের জন্য নিয়োগ পেয়েছিলেন, সেই মেয়াদকাল এখন অতিবাহিত হলো কি-না তাও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়।
নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের বিষয়ে পোশাক খাতের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা বলেন, আমার জানা নেই, তিনি কিভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতি সঠিক পথে নেবেন। তাই ‘নো কমেন্টস’। একই সঙ্গে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, এডিবিসহ অঅন্তর্জাতিক অনেক সংস্থা ও ব্যক্তির সঙ্গে নেগোসিয়েশন করার যোগ্যতা আছে কি-না, এ নিয়েও প্রশ্ন রাখেন।
নতুন গভর্নরের সামনে এখন প্রথম ও প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা। সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদন ও অর্থনৈতিক সূচক বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এক ভঙ্গুর ও ভারসাম্যহীন অর্থনীতির উত্তরাধিকার নিয়ে নতুন গভর্নরকে দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে। একদিকে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও রাজস্ব ঘাটতি, অন্যদিকে বৈদেশিক ঋণের চাপ ও ব্যাংক খাতের অস্থিরতাÑ সব মিলিয়ে এক কঠিন অগ্নিপরীক্ষার সম্মুখীন হতে হবে নতুন গভর্নরকে।
এদিকে নির্বাচনের আগে বিএনপির ইশতেহারে দেশের অর্থনীতিকে ভঙ্গুর বলা হয়েছে। ভঙ্গুর অর্থনীতির পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধারে ১৫টি প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে, অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ন ও ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি; অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ ও বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ; বেসরকারি খাতের উন্নয়ন; ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সংস্কার; পুঁজিবাজারের সংস্কার ও উন্নয়ন; বাণিজ্য সহজীকরণ ও আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণ; শিল্প খাত, কারু ও হস্তশিল্প এবং গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন; সেবা খাত, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের উন্নয়ন; তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি খাত, যোগাযোগ ও পরিবহন খাত, সুনীল অর্থনীতি, সৃজনশীল অর্থনীতির উন্নয়ন এবং রাজস্ব আয় ও ব্যয়ের ব্যবস্থাপনা।
ইশতেহারে বলা হয়েছেÑ কতিপয় তান্ত্রিক (অলিগার্কিক) কাঠামো ভেঙে এমন একটি অর্থনীতি গড়ে তোলা হবে, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের অংশীদারত্ব থাকবে। ন্যায্য মূল্যবণ্টন, অর্থায়ন ও বাজারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। জানা গেছে, বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে একটি বিশেষ শ্রেণি-গোষ্ঠীর লোকেরা ব্যবসা-বাণিজ্য ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে লুটপাট চালিয়ে দেশের টাকা বিদেশে পাচার করেছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) তথ্যমতে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশ থেকে প্রতি বছর ১২ থেকে ১৫ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে। এতে রাজনীতিক, আমলা ও ব্যবসায়ীরা জড়িত ছিল। এ চক্রটিকেই অলিগার্ক চক্র আখ্যা দেয়া হয়েছে।
অলিগার্কদের প্রভাবে আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বিমা ও পুঁজিবাজারে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি হয়েছে। ফলে অন্তর্বর্তী সরকার শরিয়াহ-ভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংক একীভূত ও ছয়টি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ করেছে। বিমা খাতের বেশ কিছু কোম্পানি এ তালিকায় রয়েছে। নতুন সরকারকে এ সমস্যা সমাধানে ব্যাপক চাপে পড়তে হবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।
অর্থনীতিবিদদের মতে, অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করা, শুল্ক কাঠামো সংস্কার ও বড় প্রকল্পগুলোয় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। নতুন সরকারকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নিতে হবে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও কর্মসংস্থানে জোর দিতে হবে।
গতকাল বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার ১৯৭২ এর ১০(৫) বিধি অনুযায়ী মো. মোস্তাকুর রহমানকে অন্যান্য সব প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে তার যোগদানের তারিখ থেকে চার বছরের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে নিয়োগ দেয়া হয়। সকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের পদত্যাগ দাবি করে বিক্ষোভ করেন। একই সঙ্গে মোস্তাকুর রহমান নতুন গভর্নর হচ্ছেন, গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পর দুপুরের দিকে আহসান এইচ মনসুর অফিস ছেড়ে চলে যান। তবে কোন মোস্তাকুর রহমান গভর্নর হচ্ছেন, এ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত সাড়ে ৩টায় আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রজ্ঞাপন জারি হয়।
সূত্র মতে, পোশাক খাতের ব্যবসায়ী মোস্তাকুর রহমান এক সময় পুঁজিবাজারের ব্রোকারেজ হাউজ এবং আবাসন ব্যবসাতেও যুক্ত ছিলেন। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ছিলেন তিনি। গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট অর্থনীতিবিদ ড. আহসান এইচ মনসুরকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব দেয়। তার নেতৃত্বে ব্যাংক খাতের সংস্কারের কাজ শুরু হলেও নানাবিধ অমূলক কথাবার্তা এবং পাঁচ ব্যাংক মার্জার ইস্যুতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে দেশের আর্থিক খাত। দেড় বছরের মাথায় তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে গতকাল বুধবার আলাদা প্রজ্ঞাপন জারি করেছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। সেখানে তার নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করার কথা বলা হয়েছে। নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান হেরা সোয়েটার গার্মেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও।
১৯৬৬ সালে জন্মগ্রহণ করা নতুন গভর্নর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগ থেকে বি কম (অনার্স) এবং মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। পরে ১৯৯১ সালে ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্টেন্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি) থেকে তিনি এফসিএমএ করেন মোস্তাকুর। ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে তিনি করপোরেট ফিন্যান্স, রফতানি, প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন, আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করছেন।
ব্যবসায়ী কোনো সংগঠনের নেতৃত্বে তাকে দেখা না গেলেও পেশাজীবী হিসেবে বিভিন্ন সংগঠনে সদস্য হিসেবে ছিলেন মোস্তাকুর রহমান। পোশাক রফতানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর বাংলাদেশ ব্যাংক-বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে গত বছরের জুলাই থেকে কাজ করে আসছিলেন তিনি।
বর্তমান অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী যখন চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান ছিলেন, সে সময় ১৯৯৮-২০০০ মেয়াদে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের পরিষদ সদস্য ছিলেন মোস্তাকুর রহমান। এমআরএম সিকিউরিটিজ নামের একটি ব্রোকারেজ হাউজের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি সিএসইর বোর্ডে বসেছিলেন। দুই দফা মালিকানা বদলে সেই প্রতিষ্ঠানের নাম এখন ইউসিবি ব্রোকারেজ হাউজ। মোস্তাকুর রহমান আবাসন খাতের সংগঠন রিহ্যাব ও ঢাকার ব্যবসায়ীদের সংগঠন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি-ডিসিসিআই এবং অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশের (আটাব) সদস্য। এসব সংগঠনের বিভিন্ন কমিটিতে তিনি কাজ করেছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের নিয়োগদান প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সভাপতি, একুশে পদকপ্রাপ্ত বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. মইনুল ইসলাম ইনকিলাবকে বলেন, নতুন যাকে গভর্নর নিয়োগদান করা হয়েছে তার সম্পর্কে কিছুই জানি না। সুতরাং কোনো মন্তব্য করতে চাই না। ঘাটতি না থাকলেও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি-পূরণ তার জন্য চ্যালেঞ্জ।