Image description
চট্টগ্রামে গ্যাস লাইন বিস্ফোরণ

চট্টগ্রামের হালিশহরের এক বাসায় গ্যাস বিস্ফোরণে একই পরিবারের নারী ও শিশুসহ ৯ জন দগ্ধের ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ গতকাল সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ৪৬ বছর বয়সী মো. সাখাওয়াত হোসেন। এর আগে মঙ্গলবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় সাখাওয়াতের পর্তুগাল প্রবাসী ছোট ভাইয়ের স্ত্রী ৩০ বছর বয়সী আশুরা আক্তার পাখির। বেলা ১২টার দিকে মারা যান পর্তুগাল প্রবাসী সামির আহমেদ সুমন (৪০)। এ ছাড়া সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মারা যান শাওন (১৬)। তার আগে সোমবার মারা যান শাওনের মা নুরজাহান আক্তার রানী (৪০)।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মৃত মো. সাখাওয়াত হোসেন ও আশুরা আক্তার পাখির শরীরের প্রায় শতভাগ দগ্ধ হয়েছিল। বর্তমানে চিকিৎসাধীন বাকি চারজনের অবস্থাও অত্যন্ত আশঙ্কাজনক এবং তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। দগ্ধ বাকিরা হলেন- সাখাওয়াতের মেয়ে উম্মে আইমান স্নিগ্ধা (১০), সামিরের দুই সন্তান আয়েশা (৪) ও ফারহান আহমেদ আনাছ (৬) এবং সাখাওয়াতের আরেক ভাই শিপন হোসাইন (৩১)। বর্তমানে স্নিগ্ধা ৩৮ শতাংশ, আয়েশা ৪৫ শতাংশ, আনাছ ৩০ শতাংশ এবং শিপন ৮০ শতাংশ দগ্ধ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তাদের সবার অবস্থাই আশংকাজনক। কেজিডিসিএল’র মহাব্যবস্থাপক কবির উদ্দিন আহম্মদ বলেন, দুর্ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে। কমিটিকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। অপরদিকে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকেও একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক সহকারী অধ্যাপক ডা. শাওন বিন রহমান জানান, গতকাল সকালের দিকে হাসপাতালের আইসিইউতে ১০০ শতাংশ দগ্ধ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সাখাওয়াত হোসেন। সাখাওয়াতের চাচাতো ভাই মো. মিলন জানান, সোমবার ভোরে তারা সেহরি খাওয়ার কিছুক্ষণ পরপরই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস থেকে জানতে পারি, জমা গ্যাস থেকে বিস্ফোরণ ঘটেছে। তাদের বাড়ি কুমিল্লা জেলার বরুড়া উপজেলার বাগমারা গ্রামে। সাখাওয়াত হালিশহরে মোটর পার্টসের ব্যবসা করেন। পর্তুগাল প্রবাসী ভাই সুমন চলতি মাসের ৪ তারিখে দেশে আসেন। গত ১৮ই ফেব্রুয়ারি চিকিৎসার জন্য সুমন পরিবার নিয়ে চট্টগ্রামে সাখাওয়াতের বাসায় আসেন। আরেক ছোট ভাই শিপন হালিশহরেরই বাসিন্দা। সোমবার ভোরে হালিশহরের এইচ ব্লকের হালিমা মঞ্জিল নামে ৬ তলা ভবনটির তৃতীয় তলার একটি বাসায় জমে থাকা গ্যাস বিস্ফোরণ হয়। এতে পুরো বাসায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে। বাসায় থাকা শিশুসহ ৯ জন দগ্ধ হন। ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগে স্থানীয়রা আগুনে দগ্ধদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। 

পরে ফায়ার সার্ভিসের ২টি ইউনিট গিয়ে আগুন নেভায়। বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পুরো ভবন। দ্বিতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম তলা পর্যন্ত প্রতি ইউনিটের দরজা ভেঙে গেছে এবং ছিঁড়ে গেছে ভবনের লিফট। বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী আলমগীর হোসেন জানান, ওই বাসায় কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির গ্যাসের সংযোগ রয়েছে। কোনো কারণে চুলা থেকে হয়তো গ্যাস লিক হয়েছিল। এ কারণে রান্নাঘরে গ্যাস জমে যায়। সেই জমে থাকা গ্যাসের বিস্ফোরণে সবাই দগ্ধ হয়েছেন। ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকেও একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, গত সোমবার ভোরে চট্টগ্রামের হালিশহর এইচ ব্লকের এসি মসজিদসংলগ্ন ছয়তলা ভবন ‘হালিমা মঞ্জিল’র তৃতীয় তলার একটি বাসায় রান্নাঘরে জমে থাকা গ্যাস থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।