জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর। ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের স্মৃতিচিহ্ন, শহীদদের স্মারক ও আওয়ামী লীগ সরকারের নিপীড়নের ঘটনা তুলে ধরার লক্ষ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনকে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। গত বছরের ৫ই আগস্ট ওই জাদুঘর উদ্বোধনের ঘোষণা দেয়া হলেও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আর তা উদ্বোধন করতে পারেনি। এখনো চলছে নির্মাণকাজ।
গত ১৭ই আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিয়েছে প্রফেসর ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। কিন্তু জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে এখন তৎপর বিদায়ী সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। উপদেষ্টার দায়িত্ব ছাড়লেও তিনি নিয়মিত জাদুঘরে যাতায়াত করছেন। তদারকি করছেন। সাবেক উপদেষ্টা ও তার লোকজন নিয়মিত যাতায়াত করলেও জাদুঘরে কাউকে প্রবেশ করতে দেয়া হয় না। এমনকি সাংবাদিক পরিচয়েও ভেতরে যাওয়ার অনুমতি মেলেনি।
জাদুঘর প্রতিষ্ঠায় ১১১ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ চলছে। দায়িত্ব ছাড়ার দুইদিন আগে নির্মাণকাজ পরিচালনার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন বিদায়ী উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। কমিটির দায়িত্ব বলেই তিনি এখন নির্মাণকাজ পরিদর্শনের নামে নিয়মিত যাতায়াত ও অবস্থান করেন। তবে অতি গোপনীয়তায় এখানে কি কাজ হচ্ছে, কারা কাজ করছে এই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ ছাড়া দায়িত্ব ছাড়ার পর নিজ আগ্রহে কমিটি গঠন করে সেখানে দায়িত্ব নেয়া নিয়েও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আলোচনা আছে জাদুঘর পরিচালনায় ৯৬ জন লোকবল নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়াও বিদায়ী উপদেষ্টা নিয়ন্ত্রণ করছেন।
জাদুঘরে কি হচ্ছে তা জানতে গত কয়েকদিন চেষ্টা করেও ভেতরে প্রবেশের অনুমতি মেলেনি। গেটে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এপিবিএন সদস্য মো. লুৎফর, জুলাই ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে নিয়োজিত মো. সাব্বিরসহ আরও বেশ কয়েকজন মানবজমিনকে বলেন, অনুমতি ছাড়া ভেতরে কারও প্রবেশের সুযোগ নেই। কোন কর্মকর্তার অনুমতি পেলে ভেতরে প্রবেশ করা যাবে? এমন প্রশ্নের জবাবে তারা বলেন, বর্তমানে এই জাদুঘরের প্রধান নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের সহকারী রসায়নবিদ মো. আনিছুল ইসলামের অনুমতি লাগবে। আনিছুল ইসলামের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, অনুমতি কেন এই বিষয়ে আমি কোনো কথাই বলতে পারবো না। জুলাই জাদুঘরের আপডেট বা অনুমতি নিতে হলে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ইবনে ওয়াহাবের সঙ্গে কথা বলতে হবে। এ বিষয়ে জাতীয় জাদুঘরের ডিজির সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, এখন কাউকে ভেতরে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হচ্ছে না। আগামী মাসে যেতে পারবেন। দ্রুতই এই জাদুঘর উন্মুক্ত করা হবে।
জাদুঘরের সামনে অবস্থান করে দেখা গেছে প্রতিদিনই সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সদ্য সাবেক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী তার গাড়ি নিয়ে আগের মতোই ভেতরে প্রবেশ করছেন। তার নির্দেশনায়ই চলছে ভেতরের সবকিছু।
জাদুঘরের বর্তমান কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে যোগাযোগ করা হলে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (প্রশাসন) মু. বিল্লাল হোসেন খান বলেন, মোস্তফা সরয়ার ফারুকী স্যার তার পদত্যাগের কয়েকদিন আগেই তার নিজ ক্ষমতাবলে জুলাই জাদুঘর নির্মাণকাজ পরিচালনার জন্য একটি কমিটি গঠন করেন। সেই কমিটিতে নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করেন। ওই কমিটিতে নাম থাকার জন্যই তিনি যেকোনো সময় সেখানে প্রবেশ করতে পারেন। যুগ্ম সচিব বলেন, আসলে এই জুলাই জাদুঘর আমাদের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকলেও এটাকে আলাদা না করে শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে। তারাই এর বিষয়ে ভালো জানে। জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালকই জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের দায়িত্বে রয়েছেন। তবে কোন ক্ষমতাবলে একজন উপদেষ্টা পদত্যাগের পরও কমিটিতে নিজের নাম রেখে কর্মপরিচালনা করতে পারেন তার কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি এই কর্মকর্তা।
এদিকে শাহবাগ জাতীয় জাদুঘর বা সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট কোথাও জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের কোনো তথ্য নেই।
সূত্র জানিয়েছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে পুঁজি করে ১১১ কোটি টাকা ব্যয়ে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণ প্রকল্প সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ায় কেনাকাটা করার সুযোগ নেয়া হয়েছে অনিয়ম করার জন্য। মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা এবং তাদের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন কয়েকটি বেনামি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রকল্পের কাজ নিয়ন্ত্রণ করছেন। এর মধ্যে কমলাপুর স্টেডিয়াম মার্কেটের মেসার্স মিনহাজ ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল’সহ একাধিক কাগুজে প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে। যা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে খোদ ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। এ ছাড়াও সদ্য শেষ হওয়া জাতীয় নির্বাচনের আগে মাত্র ৬ দিনের সময় বেঁধে দিয়ে প্রবিধানমালার তফসিল-২ উল্লেখ থাকার পরও কোনো লিখিত পরীক্ষা ছাড়াই ব্যবস্থাপক, উপ-পরিচালক, কিউরেটর, ডেপুটি কিউরেটরসহ অন্তত ৯৬ জনের নিয়োগ দেয়ার প্রক্রিয়া দেখা গেছে। যা নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে বিভিন্ন মাধ্যমে। আর এই অভিযোগের তীরও ফারুকীর দিকে। এ ছাড়াও চাউর আছে- সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকলেও দায়িত্বের শেষ সময়ে সচিবালয়ের চেয়ে বেশি সময় গণভবনেই কাটিয়েছেন ফারুকী।
অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী মানবজমিনকে বলেন, আমি এসব বিষয়ে কোনো ইন্টারভিউ দিতে চাই না। তবে বলবো- অনেকেই তো কতো আজেবাজে কথা বলে। সেগুলো নিয়ে আমি উত্তর দিতে চাই না। পদত্যাগের আগে নতুন কমিটি গঠন করে নিজের নাম অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, আমি কমিটিতে আছি সেটা ঠিক আছে। আমি এই জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের পরিচালনা কমিটিতে আছি শুধুমাত্র এই কাজটা শেষ হওয়া পর্যন্ত। এই কাজ যেনো নির্বিঘ্নে শেষ হয় এই জন্য আমি সহায়তা করছি। এছাড়া এই জুলাই জাদুঘরের পুরো কিউরেটিয়াল ডিজাইন আমার করা। এই জন্য আমাকে ভেতরে যেতে হয়।
প্রকল্পের কাজ ভাগিয়ে নেয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, যারা এই কথাগুলো বলছে তা এতোটাই আহাম্মক যে তারা জানেই না এই কাজ গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের পূর্ত বিভাগের অধীনে হচ্ছে। আর গণপূর্তের উপদেষ্টা আমি ছিলাম না। ছিলেন আদিলুর রহমান। তাই এই কাজ বাগিয়ে নেয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না। পূর্ত ওপেন টেন্ডরের মাধ্যমে কাকে এই কাজ দিয়েছে তা আমার জানা নেই। নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে নিজের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ইবনে ওয়াহাব বলেন, আসলে জুলাই জাদুঘরের আলাদা কোনো ওয়েবসাইট নেই। তবে আমরা একটা ফেসবুক পেইজ খুলেছি। সেখানে কিছু আপডেট দেয়া হচ্ছে। খুব শিগগিরই নতুন ওয়েবসাইট খোলা হবে। জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের নির্মাণ কাজের বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের প্রায় বেশির ভাগ কাজই হয়ে গেছে। শুধুমাত্র প্রশাসনিক কাজ বাকি আছে। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে এটা সকলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর বিষয়ে তিনি বলেন, হ্যাঁ স্যার আমাদের কমিটিতে আছেন। সেই কারণেই তিনি নিয়মিত সেখানে যান। দেখভাল করেন।
২০২৪ সালের ২রা নভেম্বর তৎকালীন তথ্য ও সমপ্রচার উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম গণভবনে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এর কমিটি ঘোষণা করেন। কমিটির আহ্বায়ক করা হয় শিক্ষক ও লেখক এবাদুর রহমানকে। আর কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব দেয়া হয় তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মো. মাহফুজ আলমকে। কমিটির অন্য সদস্য করা হয়- লেখক ও মানবাধিকারকর্মী মুসতাইন বিল্লাহ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের শিক্ষক জাহিদ সবুজ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞানের শিক্ষক নুরুল মোমেন ভূঁইয়া, শিল্পকলা একাডেমির গবেষণা ও প্রকাশনা বিভাগের পরিচালক তানজিম ওয়াহাব (বর্তমানে জাতীয় জাদুঘরের মগাপরিচালক), লেখক ও গবেষক সহুল আহমেদ, স্থপতি মেরিনা তাবাসসুম, স্থাপত্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান স্থপতি মো. আসিফুর রহমান ভূঁইয়া, নকশাবিদ আর্কিটেক্টসের লিড আর্কিটেক্ট বায়েজিদ মাহবুব খন্দকার, ডিজাইন ওয়ার্কস গ্রুপের আর্কিটেক্ট তানজিম হাসান সেলিম, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক, আর্কাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, স্থাপত্য অধিদপ্তরের প্রধান স্থপতি, গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী, ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টস বাংলাদেশের সভাপতি বা উপযুক্ত প্রতিনিধি। এ ছাড়া কমিটিতে এক বা দু’জন ছাত্র প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করা হবেও বলে জানান নাহিদ ইসলাম। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গণভবনের সম্পূর্ণ জমি ও স্থাপনা ৯৯ বছরের জন্য ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ নামে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে লিজ দেয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।
গত বছরের ২২শে জুলাই তেজগাঁও সাবরেজিস্ট্রি অফিসে ওই লিজ দলিল সম্পাদন করা হয়। দলিলে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম দাতা এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মফিদুর রহমান গ্রহীতা হিসাবে স্বাক্ষর করেন। তেজগাঁও মৌজার ‘বি’ সেক্টরে অবস্থিত এই জমির মোট আয়তন ১৭ দশমিক ৪৬৭৯ একর। লিজের শর্তানুযায়ী, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়কে প্রতি বছর তিন হাজার টাকা খাজনা দিতে হবে। এছাড়া গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া জমি বা স্থাপনার কোনো রকম পরিবর্তন করা যাবে না।
ওই সময়ই জুলাই জাদুঘরের কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ১১১ কোটি ১৯ লাখ ৮১ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়ে জাদুঘর নির্মাণের কাজ বুঝিয়ে দেয়া হয়। গত ১৫ই জুলাই তৎকালীন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়। ওই বৈঠক শেষে অর্থ উপদেষ্টা বলেছিলেন, জাদুঘরের কাজের মধ্যে থাকবে ইএম অংশ। ইএম বলতে বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক অংশকে বোঝানো হচ্ছে। এর মধ্যে থাকবে বৈদ্যুতিক তার, সুইচসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক সামগ্রী। আরও থাকবে পূর্ত অংশ। এর মধ্যে থাকবে বৈদ্যুতিক-যান্ত্রিক অংশ বাদে বাকি সব। জাদুঘরের ইএম অংশের কাজ ‘শুভ্রা ট্রেডার্স’কে দিয়ে করানোর সিদ্ধান্ত নেয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের গণপূর্ত বিভাগ। এর জন্য ব্যয় প্রাক্কলন করা হয় ৪০ কোটি ৮৩ টাকা। এছাড়া পূর্ত অংশের কাজ পায় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ‘দি সিভিল ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড’। সে জন্য ব্যয় প্রাক্কলন করা হয় ৭০ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। তবে কোনো ওপেন টেন্ডার না করে নির্দিষ্ট দুটি কোম্পানি সরাসরি কাজ দেয়ার জন্য সেময় বিভিন্ন মাধ্যমে তোলপাড় শুরু হয়। এরপর গণপূর্ত বিভাগ জুলাই জাদুঘরের কাজের জন্য আবারো দরপত্র আহ্বান করে। এতে ঘুরে ফিরে সেই আগের দুই প্রতিষ্ঠানই কাজের দায়িত্ব পায়। কাজ শুরুর সময় বলা হয়েছিল ২০২৫ সালের ৫ই আগস্ট এই জাদুঘর উদ্বোধন করা হবে। কিন্তু ওই সময়তো উদ্বোধন করা যায়নি বিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পুরো মেয়াদেও জাদুঘর উদ্বোধন করা সম্ভব হয়নি। উদ্বোধন না হলেও দায়িত্বের শেষ সময়ে গত ২০শে জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের নিয়ে এই জাদুঘর পরিদর্শন করেন।