ব্যাংকিং খাতে সংস্কার জোরদারের মাঝপথেই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো বর্ষীয়ান অর্থনীতিবিদ ড. আহসান এইচ মনসুরকে। তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে মোস্তাকুর রহমানকে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। হঠাৎ এই পরিবর্তনে ব্যাংকপাড়া থেকে অর্থনীতিবিদ—সবার মুখে এখন একটাই প্রশ্ন, চলমান সংস্কার কর্মসূচির ভবিষ্যৎ কী?
সংস্কারের মাঝপথে পরিবর্তন
ড. মনসুর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ, দুর্বল ব্যাংকের পুনর্গঠন, পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তন, তদারকি জোরদার এবং নীতিগত কঠোরতার বার্তা দিয়ে আলোচনায় ছিলেন। বড় ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা, ইচ্ছাকৃত খেলাপি শনাক্তকরণ এবং শ্রেণিকরণে স্বচ্ছতা— এসব উদ্যোগ ব্যাংক খাতে দীর্ঘদিনের শিথিলতার বিপরীতে একটি কঠোর অবস্থান হিসেবে দেখা হচ্ছিল।
বিশেষ করে পাঁচটি দুর্বল ইসলামী ধারার ব্যাংক— এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী ও ইউনিয়ন—একীভূত করে একটি বড় সম্মিলিত ব্যাংক গঠনের সিদ্ধান্ত ছিল যুগান্তকারী পদক্ষেপ। সরকার এ ব্যাংকে উল্লেখযোগ্য মূলধন সহায়তা দেয়। নীতিনির্ধারকদের ভাষ্য ছিল—অস্থিরতা কাটিয়ে আমানতকারীদের আস্থা ফেরানোই মূল লক্ষ্য।
তবে এই কঠোর অবস্থানের মধ্যেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তা গভর্নরকে ‘স্বৈরাচার’ আখ্যা দেন—এমন অভিযোগে তিনজনকে শোকজ ও বদলি করা হয়। এর প্রতিবাদে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিবাদ সভা, কলম-বিরতির হুমকি— সব মিলিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এরই মধ্যে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গভর্নর পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত আসে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করে জনস্বার্থে আদেশ জারি করা হয়েছে।
‘আমি পদত্যাগ করিনি’
দুপুরে বাংলাদেশ ব্যাংক ভবন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় ড. মনসুর সাংবাদিকদের বলেন, “আমি পদত্যাগ করিনি, আমাকে সরিয়েও দেওয়া হয়নি। গণমাধ্যমে দেখেছি, তাই বাসায় যাচ্ছি।” এই বক্তব্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন প্রশ্ন তোলে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি দায়িত্বে আসেন। পরে নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার ক্ষমতায় এলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ পদে এই রদবদল ঘটে। অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘‘নতুন সরকার এসেছে, পরিবর্তন স্বাভাবিক।’’
নতুন গভর্নর: পেশাদার হিসাববিদ, শিল্পোদ্যোক্তা
নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান একজন স্বীকৃত কস্ট ও ব্যবস্থাপনা হিসাববিদ। তিনি ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ থেকে সনদপ্রাপ্ত। শিক্ষাজীবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
তিনি দীর্ঘদিন রফতানিমুখী পোশাক শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং শিল্প সংগঠন— বিশেষ করে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। অতীতে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদেও দায়িত্ব পালন করেন।
এই প্রেক্ষাপটেই শুরু হয়েছে বিতর্ক—কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতো নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে একজন সক্রিয় শিল্পোদ্যোক্তার নিয়োগ স্বার্থের সংঘাত তৈরি করবে কিনা।
অর্থনীতিবিদদের প্রশ্ন
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সানেম (সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং)-এর নির্বাহী পরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক, ড. সেলিম রায়হান বলেন, ‘‘বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে একজন পেশাদার হিসাববিদ ও ব্যবসায়ীকে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের জন্ম দেয়।’’
তিনি বলেন, “কেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ পদে ব্যবসায়িক পটভূমির কাউকে বসানো হলো, এতে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। একজন ব্যবসায়ী সাধারণত বাজার ও করপোরেট স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে পারে, যেখানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূল দায়িত্ব হলো মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং দুর্বল ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া।”
রায়হান উল্লেখ করেন, “বাংলাদেশের ব্যাংক খাত ইতোমধ্যেই খেলাপি ঋণ, সুশাসনের অভাব ও রাজনৈতিক প্রভাবের মতো সংকটে রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে গভর্নর নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, পেশাগত স্বাধীনতা ও নিয়ন্ত্রক অভিজ্ঞতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। নতুন নিয়োগ সেই প্রত্যাশা পূরণ করবে, নাকি সংস্কারের ধারাকে পিছিয়ে দেবে, এটাই এখন বড় প্রশ্ন। আমরা কি আবার সেই পুরোনো অবস্থায় ফিরছি, যেখানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতার বদলে প্রভাবশালী গোষ্ঠীর স্বার্থই প্রাধান্য পাবে?”
তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “সরকারের দ্রুতই স্পষ্ট করা উচিত যে, এই সিদ্ধান্ত ব্যাংক খাত সংস্কারের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে কীভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ।”
অর্থনীতি বিশ্লেষক ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইএসএস) গবেষণা পরিচালক মাহফুজ কবির বলেছেন, বিদায়ী গভর্নর আহসান এইচ মনসুরকে যখন নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, তখন অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে— এমন বড় প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। তিনি প্রথিতযশা অর্থনীতিবিদ, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সাবেক পূর্ণকালীন কর্মকর্তা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক শিক্ষক—এই প্রেক্ষাপটে অনেকে মনে করেছিলেন, সংকটকালে তার নেতৃত্বে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই আশাবাদ ম্লান হয়েছে বলে মন্তব্য করেন মাহফুজ কবির। তার ভাষায়, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামষ্টিক অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি দেখা যায়নি। দীর্ঘ সময় ধরে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অনুসরণের পরও মূল্যস্ফীতি উচ্চমাত্রায় রয়ে গেছে। শিল্প খাতে বিনিয়োগ ও উৎপাদন কমেছে, কিছু কারখানা বন্ধ হয়েছে, আর প্রতি প্রান্তিকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়েছে।
তিনি বলেন, “আমরা সমাধানের প্রত্যাশা করেছিলাম। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংক বারবার সমস্যার গভীরতার কথা বলেছে— সমাধানের দৃশ্যমান ফল ততটা দেখাতে পারেনি।” আইএমএফ ঋণের কিস্তি প্রাপ্তি বিলম্বিত হওয়া এবং দুর্বল ব্যাংকগুলোর একীভূত উদ্যোগ থেকেও প্রত্যাশিত গতি না আসায় হতাশা তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মাহফুজ কবির আরও বলেন, ‘‘ব্যক্তিগতভাবে তিনি ড. মনসুরের ভক্ত ও গুণগ্রাহী ছিলেন। কিন্তু নীতিগত ও ফলাফলের বিচারে তিনি ক্রমশ সমালোচকের ভূমিকায় যেতে বাধ্য হয়েছেন।’’
‘‘এ ধরনের সমালোচনা করা সহজ নয়, কষ্টেরও। তবে ব্যক্তিগত আবেগ বা শ্রদ্ধার চেয়ে দেশের স্বার্থ বড়,”—যোগ করেন তিনি।
নতুন গভর্নরের প্রতি শুভকামনা জানিয়ে এই অর্থনীতিবিদ বলেন, “আমরা অলৌকিক কিছু প্রত্যাশা করছি না। সোনার ডিমও চাই না। কিন্তু অন্তত অর্থনীতির স্বাভাবিক গতি ও স্থিতিশীলতা ফিরুক— ব্যবস্থা এমন হোক, যাতে অর্থনীতি নিয়মিত ও টেকসই ফল দিতে পারে।”
মাঠের প্রতিক্রিয়া: আস্থা না অনিশ্চয়তা?
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ বলছেন, “অর্থনীতি আবার উল্টো পথে হাঁটবে?” কেউ আশাবাদী—হিসাববিদ পটভূমির একজন গভর্নর আর্থিক-শৃঙ্খলা জোরদারে ভূমিকা রাখতে পারেন। অতীত উদাহরণ টেনে অনেকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন, দেশের সফল অর্থমন্ত্রীরাও পেশায় হিসাববিদ ছিলেন।
অপরদিকে প্রশ্ন উঠছে— ব্যাংক কর্মকর্তাদের প্রতিবাদ, ‘মব’ সংস্কৃতি, উপদেষ্টাকে বের করে দেওয়া— এসব ঘটনা কি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলার জন্য অশনিসংকেত নয়? কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা ও মর্যাদা রক্ষার প্রশ্নও সামনে এসেছে।
সংস্কারের বাস্তবতা: সামনে যত চ্যালেঞ্জ?
ব্যাংক খাত এখনও বহুমাত্রিক সংকটে— এর মধ্যে খেলাপি ঋণের উচ্চ হার, দুর্বল ব্যাংকের তারল্য সংকট, আমানতকারীদের আস্থাহীনতা ও মুদ্রাস্ফীতির চাপ।
বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় সতর্কতা
ড. মনসুরের সময়ে বাজারে কিছু পণ্যের দাম কমা, মূল্যস্ফীতির হার হ্রাস এবং বড় খেলাপিদের বিরুদ্ধে উদ্যোগ— এসবকে তার সমর্থকেরা সাফল্য হিসেবে দেখছেন। তবে সমালোচকেরা বলছেন, কাঠামোগত সংস্কার এখনও পূর্ণতা পায়নি।
নতুন গভর্নরের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে—
১. চলমান সংস্কারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, ২. নিয়ন্ত্রক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, ৩. ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি জোরদার করা, ৪. রাজনৈতিক ও করপোরেট চাপ থেকে প্রতিষ্ঠানকে দূরে রাখা।
সরকার কী বার্তা দেবে?
অর্থমন্ত্রী বলেছেন, পরিবর্তন স্বাভাবিক। তবে বাজার ও বিনিয়োগকারীদের কাছে বড় বার্তা হলো— সংস্কার থামছে না। যদি নতুন গভর্নর আগের উদ্যোগগুলো পর্যালোচনা করে আরও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোয় রূপ দেন, তাহলে পরিবর্তন ইতিবাচকও হতে পারে। কিন্তু যদি নীতির ধারাবাহিকতা ভেঙে যায়, তাহলে ব্যাংক খাত আবার অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।
ব্যাংক খাত সংস্কার: প্রতিশ্রুতি বড়, বাস্তবায়ন সীমিত
২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার ব্যাংক খাত সংস্কারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছিল। খেলাপি ঋণ, রাজনৈতিক প্রভাব ও মালিকানার ঘনীভবনে দুর্বল হয়ে পড়া ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করার ঘোষণা দেওয়া হয়। কিন্তু দেড় বছর পর দেখা যাচ্ছে, কাঠামোগত সংস্কারের মূল স্তম্ভগুলো এখনও বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি।
আইনের জায়গায় আটকে আছে সংস্কার
সংস্কারের কেন্দ্রবিন্দু ছিল দুটি আইন— বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশ, ১৯৭২ সংশোধনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করা এবং ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধনের মাধ্যমে মালিকানা ও পরিচালনা কাঠামোয় লাগাম টানা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বোর্ডে সরকারি প্রভাব কমানো, গভর্নরের অবস্থান শক্ত করা, পরিচালনা পর্ষদ ছোট করা, স্বাধীন পরিচালক বাড়ানো এবং একাধিক ব্যাংকে একই ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর শেয়ার সীমিত করার মতো প্রস্তাব খসড়ায় ছিল। তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আপত্তির মুখে সংশোধিত খসড়াও অনুমোদন পায়নি। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা এখনও কাগজেই সীমাবদ্ধ।
সংকট মোকাবিলার আইন, সংস্কার নয়
অন্তর্বর্তী সরকার বিদায়ের আগে দুটি অধ্যাদেশ জারি করে— ব্যাংক রেজুলিউশন অধ্যাদেশ এবং ডিপোজিট ইনস্যুরেন্স অধ্যাদেশ।
এই আইনগুলো দেউলিয়া ব্যাংক সামাল দেওয়া বা আমানতের আংশিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার কাঠামো দেয়। তবে কেন ব্যাংক দুর্বল হচ্ছে, দায় কার, নিয়ন্ত্রণ কোথায় সীমিত হবে—এসব মৌলিক প্রশ্ন অমীমাংসিতই রয়ে গেছে।
আইএমএফের চাপ, তবু সিদ্ধান্তহীনতা
৫.৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণ কর্মসূচির আওতায় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন জোরদারের সুপারিশ করেছে এবং খসড়া প্রণয়নে কারিগরি সহায়তাও দিয়েছে। সাম্প্রতিক পর্যালোচনায় সংস্থাটি ব্যাংক ও রাজস্ব সংস্কারে বিলম্ব নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। তবু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত পরবর্তী সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
পাঁচ ব্যাংকের একীভূতকরণ: আংশিক স্বস্তি
সরকার পাঁচটি দুর্বল ব্যাংক একীভূত করেছে। এতে তাৎক্ষণিক আতঙ্ক কমেছে, প্রশাসনিক ব্যয় কিছুটা কমেছে এবং ‘কোনও ব্যাংক ডুববে না’ বার্তা দেওয়া গেছে।
তবে খেলাপি ঋণ, প্রভাবশালী মালিকদের দৌরাত্ম্য, দুর্বল বোর্ড ও তদারকির সীমাবদ্ধতা— এসব মূল সমস্যা অমীমাংসিত রয়ে গেছে। অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া একীভূতকরণ কেবল সময় কেনার কৌশল হয়ে দাঁড়াতে পারে। ক্ষতির দায় শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্র ও আমানতকারীর ওপরই পড়বে।
উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর পরিবর্তন কোনও বিচ্ছিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, এটি আর্থিক খাতের দিকনির্দেশনার প্রশ্ন। সংস্কার কি ব্যক্তিনির্ভর, নাকি প্রাতিষ্ঠানিক— এই প্রশ্নের উত্তরই নির্ধারণ করবে আগামী দিনের ব্যাংকিং বাস্তবতা।
এখন সবার নজর নতুন গভর্নরের প্রথম পদক্ষেপের দিকে। কারণ ব্যাংক খাতের আস্থা একবার নড়বড়ে হলে তা পুনর্গঠন করতে সময় লাগে বহু বছর।