Image description

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ২০২৬ সেশনের জন্য কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ ও সেক্রেটারিয়েট গঠন সম্পন্ন। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আল ফালাহ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত দলটির কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের প্রথম সাধারণ অধিবেশনে ২০২৬ সেশনের জন্য কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ ও সেক্রেটারিয়েট গঠন সম্পন্ন হয়।

গতকাল সকাল ৮টায় দারসুল কুরআনের মধ্য দিয়ে প্রথম অধিবেশনের কার্যক্রম শুরু হয়। সংগঠনের ১২৩তম শহীদ রেজবুল হক প্লাবনের সম্মানিত পিতা মো. আজাদুল ইসলাম অধিবেশনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। এবং উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদান করেন কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম।

সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহর সঞ্চালনায় আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সম্মানিত আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ছাত্রশিবিরের সংবিধান অনুযায়ী সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে ২০২৬ সেশনের জন্য ৪৭ জন কার্যকরী পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম নির্বাচিত কার্যকরী পরিষদ সদস্যদের সাথে পরামর্শ করে আরও ১৫ জনকে কার্যকরী পরিষদের সদস্য হিসেবে মনোনয়ন দেন। পরবর্তীতে তিনি কার্যকরী পরিষদের পরামর্শক্রমে কেন্দ্রীয় সেক্রেটারিয়েট গঠন সম্পন্ন করেন।

কার্যকরী পরিষদ সদস্যদের উদ্দেশে কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য স্মরণ করে দিয়ে বলেন, “কার্যকরী পরিষদ সংগঠনের নীতি, আদর্শ ও কার্যক্রম বাস্তবায়নের সংগঠনের সর্বোচ্চ সাংগঠনিক কাঠামো। এই পরিষদের সদস্য হিসেবে প্রত্যেককে সর্বপ্রথম নিজেদের আত্মতত্ত্বাবধান নিশ্চিত করতে হবে এবং কেন্দ্রীয় সভাপতিকে সহযোগিতা ও পরামর্শ প্রদানের মাধ্যমে সংগঠনের কার্যক্রমকে গতিশীল রাখতে হবে। সংগঠনের সর্বস্তরে ইসলামী নীতির যথাযথ অনুসরণ নিশ্চিত করা, সংবিধানের আলোকে কর্মসূচি বাস্তবায়নের তত্ত্বাবধান ও পর্যবেক্ষণ করা এবং সংগঠনের যেকোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি চিহ্নিত করে তা দূরীকরণে কার্যকর ভূমিকা পালন করা কার্যকরী পরিষদের অন্যতম দায়িত্ব।”

তিনি আরও বলেন, “রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো পদ্ধতিতে এবং সাহাবায়ে কেরামের আন্তরিকতা, আনুগত্য ও দায়িত্ববোধের অনুভূতি ও মানসিকতা ধারণ করে কার্যকরী পরিষদের সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। আল্লাহর সন্তুষ্টিকে একমাত্র লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করে নিষ্ঠা, তাকওয়া ও জবাবদিহিতার চেতনায় নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে হবে।”

কেন্দ্রীয় সভাপতি বলেন, “আগামী দিনের বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকরী পরিষদকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। সংগঠনের জনশক্তিদের নৈতিক মান উন্নয়ন, আদর্শিক দৃঢ়তা বৃদ্ধি এবং চারিত্রিক পবিত্রতা সংরক্ষণে নিবিড় তত্ত্বাবধান নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি জনশক্তিদের মাঝে রাজনৈতিক সচেতনতা সৃষ্টি, সমসাময়িক পরিস্থিতি সম্পর্কে সঠিক উপলব্ধি গড়ে তোলা এবং তাদের দেশ ও জাতির কল্যাণে নিবেদিত, দায়িত্বশীল ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।”

দিনব্যাপী এ অধিবেশনে কার্যকরী পরিষদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা ও শপথ গ্রহণের পাশাপাশি বার্ষিক পরিকল্পনা ২০২৬ প্রস্তাবনা পেশ, পর্যালোচনা ও অনুমোদন, সেক্রেটারিয়েট গঠন এবং অঞ্চল পরিচালক নির্ধারণ করা হয়। এ ছাড়াও বিদায়ী কার্যকরী পরিষদ সদস্য ভাইদের বক্তব্য, মেহমানের বক্তব্য, ইহতেসাব, কেন্দ্রীয় সভাপতির সমাপনী বক্তব্য, দোয়া ও মুনাজাতের মাধ্যমে অধিবেশন সমাপ্ত হয়।

 

ডেইলি ক্যাম্পাস