চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, দুর্নীতিসহ সব অনিয়মের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই তারেক রহমান সাফ জানিয়েছেন, যেকোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সে থাকবে তাঁর সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দলীয়, রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন পর্যায়ের বৈঠকেও একই নীতির কথা কঠোরভাবে ব্যক্ত করেছেন। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর এ নীতির বাস্তবায়ন শুরু করেছেন মন্ত্রী-এমপিসহ প্রশাসন।
জানা যায়, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু তাঁর নির্বাচনি এলাকা ফেনী-৩ (দাগনভূঞা-সোনাগাজী) আসনকে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও সব ধরনের অনিয়মমুক্ত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। পাশাপাশি এ-সংক্রান্ত অভিযোগ জানাতে একটি হটলাইন নম্বর (০১৭৩০০০৪৮৪৪) চালু করেছেন। গতকাল নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া স্ট্যাটাসে এ তথ্য জানান মন্ত্রী। আবদুল আউয়াল মিন্টু লেখেন, ‘ফেনী-৩ এলাকাকে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও যেকোনো ধরনের অনিয়মমুক্ত রাখতে আমরা বদ্ধপরিকর। অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন, নির্ভয়ে তথ্য দিন। আপনাদের দেওয়া তথ্য গোপন রাখা হবে।’
পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, ‘সারা দেশে সড়কে চাঁদাবাজির কোনো সুযোগ নেই। আর লক্ষ্মীপুরে তো নাই-ই।’ গতকাল লক্ষ্মীপুর সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব এ্যানি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রিপরিষদের সভায় আইনশৃঙ্খলার ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। রমজান মাসে যেন দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে থাকে, পাশাপাশি এলাকার উন্নয়ন আমরা কীভাবে অব্যাহত রাখব, সে ব্যাপারে যেকোনো অবস্থান থেকে যেকোনো ডিপার্টমেন্টে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।’
ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ নির্মূলে স্থানীয় প্রশাসনকে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। মুরাদনগর উপজেলাকে মাদকমুক্ত করতে পারলে প্রশাসনকে পুরস্কৃত করার ঘোষণাও দেন তিনি। গতকাল কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ধর্মমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, ‘দলীয় পরিচয়ে কেউ কোনো অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। প্রশাসন চলবে সম্পূর্ণ আইন অনুযায়ী।’ সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও দখলবাজদের কঠোর হস্তে দমন করতে তিনি পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান। শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘ঢাকা-১৩ কিশোর গ্যাং থেকে শুরু করে সব ধরনের চাঁদাবাজমুক্ত এলাকা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রিপরিষদের সভায় বলেছেন, মন্ত্রী, এমপি, দলীয় কেউই অনিয়মের সঙ্গে জড়ালে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, ‘নির্বাচনের আগেই কথা দিয়েছিলাম বিজয়ী হতে পারলে ঢাকা-৯ আসনকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজমুক্ত এলাকা হিসেবে গড়ে তুলব। এখন সময় সেই ওয়াদা রক্ষার। অনিয়মের সঙ্গে যারাই জড়িত থাকবে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। এ ক্ষেত্রে অবস্থান জিরো টলারেন্স।’
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে দলীয় পদপদবি ব্যবহার করে চাঁদাবাজি ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলার অভিযোগে বিএনপির তিন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি ও কমলনগর) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান সরাসরি এ মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন। বৃহস্পতিবার রাতে কমলনগর উপজেলার ৮ নম্বর চরকাদিরা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহিম মেম্বার বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্বাচনি মহাসমাবেশে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দুর্নীতির বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে বলেছিলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দলের কেউ সন্ত্রাস-চাঁদাবাজিতে জড়িত থাকলে ছাড় দেওয়া হবে না। যেকোনো মূল্যে দুর্নীতি প্রতিরোধ করা হবে এবং দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর নির্বাচনি ওয়াদা রক্ষায় কাজ শুরু করেছেন। তাঁরা বলছেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিশেষ করে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অবস্থানের কারণে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। নতুন সরকারের অগ্রাধিকারমূলক কর্মপরিকল্পনার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি নির্মূল করে একটি নিরাপদ ও স্থিতিশীল সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। কোনো ব্যক্তি, সে যে দলেরই হোক না কেন দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে সন্ত্রাস বা চাঁদাবাজিতে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তাকে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। এ নীতির মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে নতুন সরকার। অতীতে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় অপরাধের যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, তা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা হবে। এজন্য দলীয় পর্যায়ে মনিটরিংব্যবস্থা জোরদার করা হবে। অভিযোগ পেলে দ্রুত তদন্ত করা হবে। অপরাধ প্রমাণিত হলে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে। প্রশাসনকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হবে। নতুন সরকারের লক্ষ্য একটি এমন বাংলাদেশ গড়ে তোলা যেখানে সাধারণ মানুষ নিরাপদে জীবনযাপন করতে পারবে। ব্যবসায়ীরা চাঁদাবাজির ভয় ছাড়াই ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন। রাজনৈতিক পরিচয় অপরাধের ঢাল হিসেবে ব্যবহৃত হবে না। দীর্ঘদিনের নানান অভিযোগ ও অনিয়মের পর মানুষ একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও নিরাপদ রাষ্ট্রব্যবস্থা চায়।