রাজিব আহমদ
আজ মাতৃভাষা ও শহীদ দিবসে শ্রদ্ধা নিবেদনে কয়েকটি নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে;
১. রাষ্ট্রপতি একা পুষ্পস্তবক অর্পন করেছেন। রাষ্ট্রাচার অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী একই কর্মসূচিতে যোগ দিলে, প্রধানমন্ত্রী আগে গিয়ে অপেক্ষা করেন। রাষ্ট্রপতিকে অভ্যর্ত্থনা জানান। রাষ্ট্রপতি অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করার পরই, প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন।
কিন্তু আজ প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত হওয়ার আগে ১১টা ৫৫ মিনিটে শহীদ মিনারে যান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবউদ্দিন চুপ্পু। তারপর ঠিক ১২টা ১ মিনিটে একা পুষ্পস্তবক অর্পন করেন। ১২টা ৫ মিনিটে রাষ্ট্রপতি শহীদ মিনার এলাকা ত্যাগ করেন। ঠিক এক মিনিট পর শহীদে আসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর মানে প্রধানমন্ত্রী জেনে বুঝেই সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর সঙ্গে দেখা এড়িয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী প্রথমে একা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তবে গত বছরও প্রধান উপদেষ্টা একাই শ্রদ্ধা নিবেদন করেছিলেন।
২. প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান শ্রদ্ধা নিবেদনের পর, ভাষা শহীদদের মাগফেরাত কামনায় মিনারের সামনে পশ্চিমমুখী হয়ে দোয়া মোনাজাত করেন। অতীতে কোনো সরকারপ্রধান তা করেননি।
(বিএনপি যদি ক্ষমতায় না থাকত, তাহলে মোনাজাত করায় আজ রাতেই বিএনপিকে উগ্রবাদী সাম্প্রদায়িক দল সাব্যস্ত করে সমাজচ্যুত করে দিত কালচারাল এলিট এবং উগ্রঅসাম্প্রদায়িকরা। ইসলামাইজেশন আখ্যা দিয়ে কালকের কাগজে দীর্ঘ কলাম লেখা হতো। যেহেতু বিএনপি ক্ষমতায়, তাই জ্বললেও আপাতত কিছু বলতে পারবে না।)
এরপর প্রধানমন্ত্রী তাঁর মন্ত্রিপরিষদকে নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তারপর প্রধানমন্ত্রী স্ত্রী-কন্যাকে নিয়ে নিবেদন করেন। এবারই প্রথম কোনো সরকারপ্রধান পরিবার নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন, এটাও নজিরবিহীন। সম্ভবত প্রটোকলেও নেই।
৩. প্রধানমন্ত্রীর পর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি বিরোধী জোটের পক্ষে পুষ্পস্তবক অর্পন করেন। এই প্রথম জামায়াতের কেউ শহীদ মিনারে গেলেন। শ্রদ্ধা নিবেদনের পর শফিকুর রহমানসহ জামায়াত এমপিরা এবং নাহিদ ইসলামসহ এনসিপির এমপিরা একসঙ্গে দোয়া মোনাজাত করেন।
(যেহেতু প্রধানমন্ত্রীর দোয়া-মোনাজাতের সমালোচনা কালচারাল এলিটরা করতে পারবে না, সঙ্গত কারণে জামায়াত জোটের দোয়া নিয়েও কিছু বলতে পারবে না। এটা একটা আসলেই মাইকাচিপা দশা। তাদের অবস্থা চিন্তা করে বারবার হাসছি।
আজ যদি আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকত, তাহলে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি নেতাদের দোয়া-মোনাজাত নিয়ে কী যে সমালোচনা হতো! ভাবতেই পারছি না। 'ক্ষমা করো হে শহীদ মিনার' শিরোনামে লেখার বন্যা বয়ে যেতো। মূল কথা হচ্ছে, সমালোচনা সমস্যা নয়, সমস্যা হচ্ছে ক্ষমতায় কে আছে এটা দেখে সমালোচনা। এটা হলো ভন্ডামি।)