Image description
বিভিন্ন দাবির মুখে পড়তে পারে সরকার

দীর্ঘ দুই দশক ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি ঐতিহাসিক গণরায় নিয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে এমন এক সন্ধিক্ষণে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিচ্ছে দলটি, যখন তাদের সামনে রয়েছে পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ। নতুন সরকারের কাঁধে থাকবে তলানিতে থাকা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, আকাশচুম্বী মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও সংকটাপন্ন অর্থনীতি পুনরুদ্ধার। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশা পূরণ; জুলাই সনদ বাস্তবায়ন; দুর্নীতি ও প্রশাসনিক সংস্কারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক চাপে সমন্বিত কূটনীতি। একই সঙ্গে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ফিরাতে বিএনপিকে নজিরবিহীন পরীক্ষা দিতে হবে। দলটি ঐতিহাসিক বিজয়কে পুঁজি করে তারেক রহমান কতটা দূরদর্শী নেতৃত্ব দেবেন, সেদিকে সবার নজর থাকবে।

এরই মধ্যে নির্বাচনী বক্তব্যে তারেক রহমান এবং নির্বাচনের পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ জ্যেষ্ঠ নেতাদের বক্তব্যে এসেছে অর্থনীতি সচল, আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার কথা। বিএনপি মহাসচিব নতুন সরকারের সামনে পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ রয়েছে স্বীকার করে বলেছেন, অর্থনীতিসহ সেই চ্যালেঞ্জগুলো রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে হবে। অতীতের অভিজ্ঞতা থাকায় বিএনপি এসব চ্যালেঞ্জে উত্তীর্ণ হবে—এমনটা আশা তার। নির্বাচন-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে গত শনিবার তারেক রহমানও বলেছেন, সরকারের সামনে সিরিয়াস চ্যালেঞ্জ হচ্ছে অর্থনীতি ঠিক করা, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।

এ প্রসঙ্গে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক অধ্যাপক বদিউল আলম মজুমদার কালবেলাকে বলেন, বিএনপি ২০ বছর আগে দেশ চালানোর অভিজ্ঞতা আছে। কিন্তু এখন নতুন পরিবেশে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। প্রথম চ্যালেঞ্জ দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করা, ভঙ্গুর অর্থনীতি সামলানো। রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে আছে বিভক্তি-দ্বন্দ্বের সমন্বয় ঘটানো। অর্থাৎ বিএনপির ইশেতহারে যে ‘রেইনবো ন্যাশন্স’ (জাতি, বর্ণ নির্বিশেষে সহাবস্থান) নিশ্চিতের কথা বলা হয়েছে, তা অর্জনের চ্যালেঞ্জ তো থাকবেই। একই সঙ্গে গত দেড় বছরে বিএনপির অনেকের বিরুদ্ধে ওঠা চাঁদাবাজি, দখলদারিত্বসহ এসবের মূলোৎপাটন না করতে পারলে সরকারের সব অর্জন বিফলে যাবে। আর দুর্নীতিবাজ আমলা, পুলিশ, রাজনীতিবিদ ও বড় ব্যবসায়ীদের যোগসাজশে যে বলয় তৈরি হয়েছে, তা থেকে কতটা বের হতে পারবে দলটি, সেটাও দেখার বিষয়।

আইনশৃঙ্খলার উন্নতি করা হবে প্রধান চ্যালেঞ্জ: ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে। বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে মানুষের মধ্যে চরম ভীতির জন্ম দেয়। ‘মবতন্ত্রের’ কাছে এক রকম অসহায় আত্মসমর্পণ করে ড. ইউনূস সরকার। যদিও অন্তর্বর্তী সরকারের তরফ থেকে বলা হয়েছিল, যে কোনো গণঅভ্যুত্থানের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এমন হতেই পারে। নতুন সরকারের সামনে নিয়ন্ত্রণহীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতি করার প্রথম চ্যালেঞ্জ। এখানে ব্যর্থ হলে বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে ব্যাপক প্রভাব পড়বে।

সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষক ড. তৌহিদুল হক কালবেলা বলেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী ভেঙে পড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দ্রুত পুনর্গঠন করতে হবে। এজন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে পেশাদারিত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে পুলিশের মনোবল ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করতে হবে সরকারকে।

ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠন: আওয়ামী লীগ সরকারের রেখে যাওয়া উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকট এবং ব্যাংক খাতের বিশৃঙ্খলার মধ্যে নতুন সরকার দায়িত্ব নিচ্ছে। দুর্বল অর্থনীতিকে পুনর্গঠই নতুন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় ও তাৎক্ষণিক চ্যালেঞ্জ। অর্থনীতিবিদরা বলেছেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার পাশাপাশি দ্রুত অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যক্রম চালাতে হবে। না হয় প্রবৃদ্ধির গতি আরও শ্লথ হতে পারে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যেতে পারে। অর্থনীতিবিদদের মতে, দেশের মানুষ উন্নয়ন বলতে বোঝে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সহনশীল রাখা। নতুন সরকারের প্রথম কাজ হবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা। খেলাপি ঋণের টুটি চেপে ধরা, শিল্প খাতে নতুন বিনিয়োগ বাড়ানো, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি বাড়ানো, একই সঙ্গে কর কাঠামো সংস্কার, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বাড়ানোর দিকেও জোর দিতে হবে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে সরকারের বিশেষ নজর দিতে হবে।

ব্যাংকিং খাতে আস্থা ফেরানো: বিগত আওয়ামী লীগ সরকার ব্যাংকিং খাতে পাহাড়সম সমস্যা রেখে গেছে। ঋণখেলাপি আর আস্থার সংকটে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে ব্যাংকিং খাত। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এমন পরিস্থিতি ব্যাংকিং আইন সংশোধন, বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন এবং আর্থিক সুশাসন নিশ্চিতে কাজ করতে হবে সরকারকে। ঋণখেলাপিদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ে জুডিশিয়ারি অর্থাৎ অর্থ আদালতকে আরও ক্ষমতা দিতে হবে। অর্থ আদালতে মামলা করলে এক যুগ বেশি সময় লেগে যায়। মামলার রায়গুলো যেন দ্রুত হয় সে চেষ্টা সরকারকে করতে হবে। অনেকেই হয়তো ঋণখেলাপি হয়ে বিদেশ পালিয়ে গেছেন, তাদের টাকা আদায় ও সর্বোপরি ঋণ আদায়ে সরকারকে রাজনৈতিক প্রচেষ্টা চালাতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, নতুন সরকারের নিশ্চয় একটি রাজনৈতিক দর্শন থাকবে। অন্তর্বর্তী সরকার এ খাতে একটা শৃঙ্খলা আনার চেষ্টা করেছে। নতুন সরকার এগুলোকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারলে বা নতুন ফরমুলা দাঁড় করতে পারলে আর্থিক খাতে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা তাদের জন্য সহজ হবে।

পে-স্কেল বাস্তবায়নে কঠিন সমীকরণ: অন্তর্বর্তী সরকারের রেখে যাওয়া বেশ কিছু প্রতিশ্রুতি নতুন সরকারকে বাস্তবায়ন করতে হবে। এর মধ্যে অন্যতম সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নবম পে-স্কেল। ক্ষমতার পালাবদলে প্রশাসন ও সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে নতুন পে-স্কেল নিয়ে আলোচনা জোরাল হয়েছে। বিএনপির সামনে সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন।

অর্থনীতি ও জনপ্রশাসন বিশ্লেষকরা বলেছেন, ড. ইউনূস সরকার পে-স্কেলের রূপরেখা চূড়ান্ত করলেও বাস্তবায়ন না করে পরবর্তী সরকারের জন্য রেখে যায়। ফলে সব কর্মচারী এখন নতুন সরকারের দিকে তাকিয়ে আছেন। যদিও দাবিটি যৌক্তিক। কারণ সরকার সর্বশেষ ২০১৫ সালে ৮ম পে-স্কেল দিয়েছিল। এরপর এ নিয়ে আন্দোলন হলেও বাস্তবে তা আগায়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ এবং রাজস্ব আহরণের সীমাবদ্ধতার মধ্যে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করা সহজ হবে না। সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি থাকলেও বাস্তবায়নে প্রয়োজন হবে শক্তিশালী আর্থিক পরিকল্পনা ও ব্যয় সংকোচনমূলক পদক্ষেপ।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করলে সরকারের বার্ষিক ব্যয় কয়েক হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। এতে বাজেট ঘাটতি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে সরকারকে একদিকে যেমন রাজস্ব আয় বাড়াতে হবে, অন্যদিকে উন্নয়ন ব্যয় পুনর্বিন্যাসের কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।

এদিকে সরকারি চাকরিজীবী সংগঠনগুলো দ্রুত নতুন পে-স্কেল ঘোষণার দাবি জানিয়ে আসছে। তাদের বক্তব্য, জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান বেতন কাঠামো বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তবে অর্থনৈতিক সক্ষমতা বিবেচনায় ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের কথাও আলোচনায় রয়েছে।

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বড় চ্যালেঞ্জে বিএনপি: গণভোটে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় ‘হ্যাঁ’ জয়ের পরও রাজনৈতিক, সাংবিধানিক ও বাস্তব সংকটের মুখে পড়তে পারে নতুন সরকার। একদিকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জিতেছে, অন্যদিকে সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ আসন নিয়ে সরকার গঠন করছে বিএনপি। ফলে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদৌ সম্ভব হবে কি না—এ প্রশ্ন এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা বলেছেন, সাংবিধানিক বাধা, সংসদীয় সমীকরণ, প্রশাসনিক প্রতিরোধ এবং আন্তর্জাতিক চাপ—সব মিলিয়ে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে পারে দলটি।

নানামুখী দাবির মুখে পড়তে পারে সরকার: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর বিভিন্ন দাবিতে রাজপথে নামে কয়েকশ সংগঠন। এরমধ্যে বিভিন্ন স্তরের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, স্বাস্থ্যকর্মী, মাঠ পর্যায়ে কাজ করার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংগঠন। তারা দেড় বছরের পাঁচ শতাধিক আন্দোলন করেছে। নন-এমপিও শিক্ষকরা এমপিওভুক্তির দাবিতে তিন দফায় ৮৭ দিন আন্দোলন করেন। অন্তর্বর্তী সরকার ১ হাজার ৭১৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে ৬৭০ কোটি টাকা অর্থ বরাদ্দে জন্য চিঠি দিয়েও সাড়া পায়নি। ফলে নতুন সরকার এমনপিওভুক্তির মতো শিক্ষকদের মৌখিক দাবিতে সাড়া দিতে হবে।

আওয়ামী লীগের রাজনীতি ইস্যুতে আন্তর্জাতিক চাপ: দলের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা থাকা আওয়ামী লীগের রাজনীতি পুনরায় চালুর প্রশ্নে আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক মহলে চাপ সৃষ্টি হতে পারে—এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না অনেকেই। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নতুন সরকার এ চ্যালেঞ্জ সঙ্গী করে কাজ করতে হবে। সরকারের সামনে পররাষ্ট্রনীতিতে মর্যাদা ও সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক পুনর্গঠনের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা তৈরি করতে হবে। আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন ইস্যুতে গত শনিবার বিদেশি সাংবাদিকদের প্রশ্নে তারেক রহমান বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ফিরিয়ে আনা এবং শেখ হাসিনা বা তার পরিবারের প্রত্যাবর্তনে বলেন, দেশের রাজনীতি ও আইনের শাসনের প্রশ্নে সিদ্ধান্ত হবে নীতিগত ও সাংবিধানিক কাঠামোর ভিত্তিতে।’

তার আগে বিদেশি গণমাধ্যম রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান বলেন, ‘জনগণের সমর্থন ও গ্রহণযোগ্যতা থাকলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সন্তানদেরও দেশে ফিরে রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার অধিকার রয়েছে। কে রাজনীতি করবে—সে সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত জনগণই নেবে।’ তার এমন বক্তব্যের পর হালে পানি পেয়েছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলটি। নির্বাচনে পর দেশের বিভিন্ন জায়গায় দলের অফিসের তালা খুলেছে, কোথাও মিছিলও করেছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক খালিদুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম পুনরায় ফিরিয়ে দেওয়া, জুলাই গণহত্যা ইস্যুতে দলটি বিচার নিয়ে বিএনপিকে নানা ধরনের চাপের মুখে পড়তে হতে পারে। দলটির রাজনীতি উন্মুক্ত করার ইস্যুতে আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক পরিসরে চাপ সৃষ্টি হতে পারে—এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

দুর্যোগ মোকাবিলা চ্যালেঞ্জ থাকবে: বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, নদীভাঙন ও লবণাক্ততার মতো সমস্যাগুলো মোকাবিলায় কার্যকর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও দীর্ঘমেয়াদি অভিযোজন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন বড় চ্যালেঞ্জ থাকবে নতুন সরকারের সামনে। এ ছাড়া সরকারের সামনে থাকবে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কার, বিগত সরকারের রেখে একচেটিয়া কূটনৈতিক সম্পর্কে ভারসাম্য আনা, তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশা পূরণের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা। এসব বিষয় মাথায় রেখে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ গঠন করতে যাচ্ছে তারেক রহমানের নেতৃত্বে আকাশচুম্বী জয় পাওয়া দলটি। পুলিশ, বিচার বিভাগ এবং নির্বাচন কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘ সময় দলীয়করণের অভিযোগে বিদ্ধ ছিল। এসব প্রতিষ্ঠানকে বিতর্কের ঊর্ধ্বে রেখে পেশাদারিত্ব ফিরিয়ে আনা বিএনপির জন্য বড় পরীক্ষা।

সার্বিক বিষয়ে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি শহিদুল ইসলাম বাবুল কালবেলাকে বলেন, ‘দেশের মানুষ বিএনপির ওপর যে আস্থা রেখেছে তা বাস্তবায়ন, জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে প্রাপ্তির একটা বড় সমন্বয় ঘটনোই বিএনপির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।’