Image description

ঢাকা মহানগরীতে ভোটকেন্দ্রগুলোর মধ্যে ৩৭টি ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। তিনি বলেন, তবে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে থাকবে বডি ওর্ন ক্যামেরা। সোমবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কর্তৃক গৃহীত নিরাপত্তা পরিকল্পনা সংক্রান্ত এক সংবাদ সম্মেলনে  তিনি এ ঝুঁকির কথা তুলে ধরেন।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠানের জন্য নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। কেউ আইনশৃঙ্খলার অবনতির সুযোগ নিলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, এ বছর ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় মোট ২১৩১টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। অবস্থান, ভোটারের সংখ্যা এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে  ভোটকেন্দ্রগুলোকে দুইটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ (১৬১৪টি) ভোটকেন্দ্রগুলোতে ন্যূনতম ৪ জন করে এবং সাধারণ (৫১৭টি) কেন্দ্রগুলোতে তিনজন করে পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। ভোটকেন্দ্রের পরিস্থিতি কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণের জন্য থাকবে বডি ওর্ন ক্যামেরা।   ভোটকেন্দ্রের বাইরে নিরাপত্তার জন্য থাকবে ১৮০টি স্ট্রাইকিং টিম ও ৫১০টি মোবাইল টিম। এ ছাড়া ঢাকা মহানগরীর আটটি ডিভিশনে আটটি পৃথক কন্ট্রোল রুম এবং চারটি বিশেষ কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হবে। সুবিধাজনক স্থানে মোতায়েন থাকবে স্পেশাল রিজার্ভ ফোর্স। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সরাসরি নেতৃত্বে থাকা এসব ফোর্স প্রয়োজনে দ্রুত যেকোনো স্থানে মোতায়েন করা যাবে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য সোয়াট, বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, ডগ স্কোয়াড, ক্রাইমসিন ভ্যান ও অশ্বারোহী পুলিশ মোতায়েন থাকবে।

তিনি আরও বলেন, নানা কারণে এবারের নির্বাচন আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে নির্বাচনে পুলিশকে যেভাবে ব্যবহার করা হয়েছে সে কালিমামুক্ত হয়ে জাতিকে একটি অর্থবহ ও সর্বজন গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নগরবাসীর প্রতি অনুরোধ জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, আপনারা নিশ্চিন্তে, নির্ভয়ে ও নির্বিঘ্নে  ভোটকেন্দ্রে সুশৃঙ্খলভাবে গিয়ে আপনাদের নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করুন। 

তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে চারজন পুলিশ সদস্য, সাধারণ কেন্দ্রে তিনজন পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। থানা থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে এমন দুর্গম এলাকায় ৩৭টি কেন্দ্রে ৭ জন করে পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। সব মিলিয়ে নির্বাচন নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে কমিশনার বলেন, গত ১৫ মাসে পুলিশ কোনো বিশেষ দলের হয়ে কাজ করেনি। পুলিশের কাজের ধরনই প্রমাণ করে যে, তারা কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষপাতিত্ব করছে না। সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিকল্পনায় সাংবাদিক, চিকিৎসক, প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন পেশাজীবীর নিরাপত্তার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।