Image description

ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র নিয়ে টেনশনে আছেন সুনামগঞ্জের স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা। জেলার ৫টি সংসদীয় আসনে এবার ৭২০টির মধ্যে ২৮৭টি ভোটকেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে চিহ্নিত করেছে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নতুন চমক ‘বডি ওর্ন ক্যামেরা’। এই ক্যামেরা পুলিশ বা নিরাপত্তাকর্মীদের ইউনিফর্মে (সাধারণত বুকে বা কাঁধে) পরিধানযোগ্য একটি ছোট অডিও-ভিডিও রেকর্ডিং ডিভাইস। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবার এটি ব্যবহার হবে।

জেলায় ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের মধ্যে ধর্মপাশায় ৩২, মধ্যনগরে ২৬, তাহিরপুরে ৩৩, জামালগঞ্জে ২১, দিরাইয়ে ৩০, শাল্লায় ৪, জগন্নাথপুরে ২৮, শান্তিগঞ্জে ২৭, সুনামগঞ্জ সদরে ১৫, বিশ্বম্বরপুরে ১৪, ছাতকে ২৪ এবং দোয়রায় ২৭টি।

জানা যায়, এর আগে বডি ওর্ন ক্যামেরা রাজধানীসহ বিভিন্ন বিভাগীয় শহরের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা সদস্যরা ব্যবহার করেছেন। তাদের দৈনন্দিন কার্যক্রম ও জনগণের সঙ্গে কথোপকথন সরাসরি ধারণ করে এটি মূলত স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং অপরাধের অকাট্য প্রমাণ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. মো. ইলিয়াস মিয়া বলেন, দুর্গম হাওড়াঞ্চলের ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রসহ সব কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ সম্পন্ন করে যাচ্ছি। আশা করছি, ভোটাররা নির্ভয়ে ভোট দিতে পারবেন। একই সঙ্গে কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। দায়িত্ব পালনে কোনো শৈথিল্য বরদাশত করা হবে না।

বডি ওর্ন ক্যামেরার মূল বৈশিষ্ট্য ও কাজ : এবারের নির্বাচনে অপরাধীদের চিহ্নিত করতে পুলিশ বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মীরা ডিউটি চলাকালীন এই ক্যামেরা ব্যবহার করবেন। যা ঘটনার সময় ভিডিও ও অডিও প্রমাণ হিসাবে কাজ করবে। পুলিশ মনে করছে, দুর্গম গ্রামের ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বুকে বডি ওর্ন ক্যামেরা সংযুক্ত থাকলে অপরাধপ্রবণতা কমে আসবে। এটি পুলিশ এবং সাধারণ ভোটারদের সুরক্ষার পাশাপাশি আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বাড়াবে। দায়িত্বরত কর্মকর্তারা প্রয়োজনে এটি ম্যানুয়ালি চালু করতে পারেন। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে পুলিশের গাড়ির লাইট চালু করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এটি চালু হয়ে যায়। এতে ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজ পরবর্তী সময়ে অপরাধীদের চিহ্নিত করতে সহায়তা করবে।

স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা যুগান্তরকে জানিয়েছেন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোয় বিশেষ নজরদারি ও মোবাইল টিমের মাধ্যমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে বডি ওর্ন ক্যামেরা সংযুক্ত করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া জেলার সব ভোটকেন্দ্রই সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় থাকবে। সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসনিক সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ভোটগ্রহণে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারদের তালিকা করা হয়েছে উপজেলাভিত্তিক বাছাই করে। কোনো বিতর্কিত কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে এই নির্বাচনে দায়িত্ব পালনে রাখা হয়নি। নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী সদস্যদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। তবে নির্বাচনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলার ১২টি উপজেলায় সেনাবাহিনীর দুটি বীর ব্যাটালিয়ন এবং একটি ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়নের প্রায় ১ হাজার ১০০ সদস্য মোতায়েন থাকবেন। তারা মূলত ভোটকেন্দ্রের বাইরে এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোয় টহল ও শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত থাকবেন। এছাড়াও জেলার প্রতিটি উপজেলায় বিজিবির দুটি করে প্লাটুন দায়িত্ব পালন করবে। প্রতি প্লাটুনে সাধারণত ২০-৩০ জন সদস্য থাকবেন। তবে বিশেষ প্রয়োজনে বা ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে এ সংখ্যা কিছুটা কমবেশি হতে পারে। এছাড়া নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে পুলিশ, আনসার ও গ্রামপুলিশ কাজ করবে। এর মধ্যে পুলিশ সদস্য ৩ হাজার ৫০০, আনসার ও ভিডিপি ১২ হাজার এবং গ্রামপুলিশ ১ হাজার ২০০ জন কাজ করবেন। পাশাপাশি র‌্যাব, গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সার্বক্ষণিকভাবে ভোটকেন্দ্র ও আশপাশের এলাকায় টহলে নিয়োজিত থাকবেন।