নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ব্যালট পেপার ছাপিয়ে সেগুলো বাক্সে ফেলে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চলছে। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে এ অপচেষ্টা শুরু হয়েছে। ৯৩টি আসনের ৩ হাজার ১১৫টি কেন্দ্র ঘিরে এ ধরনের অপতৎপরতা চলছে। এছাড়া নির্বাচনে অংশ নেওয়া কোনো কোনো দল দেশীয় অস্ত্র (লাঠি-সোঁটা, বল্লম ইত্যাদি) ভোটকেন্দ্রের আশপাশে মজুত করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে। কেউ যাতে অতিরিক্ত ব্যালট পেপার ব্যবহার করতে না পারে সেজন্য প্রত্যেক ভোটকেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসারের বিশেষ দায়িত্ব পালন করতে হবে।
এ ক্ষেত্রে ভোট শুরু হওয়ার পর প্রতি ঘণ্টায় কত ভোট কাস্ট হয়েছে, সেই হিসাব নির্বাচন অফিস এবং রিটার্নিং অফিসারকে দিতে হবে। পাশাপাশি অনলাইনে এন্ট্রি করতে হবে। শুধু তাই নয়, ভোট কাস্টিং শেষ হওয়ার পর প্রাপ্ত ব্যালট পেপারের মুড়ি বই এবং পোলিং অফিসারের কাছ থেকে প্রাপ্ত তালিকা মিলিয়ে দেখতে হবে। মোট কত ভোট কাস্ট হয়েছে তা তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাচন অফিস ও রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানানোর পাশাপাশি অনলাইনে এট্রি দিতে হবে।
একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে এসব তথ্য ও পরামর্শ উঠে এসেছে। প্রতিবেদনটি এরই মধ্যে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়সহ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে জমা দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বিভাগীওয়ারি যেসব আসনের ভোট প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা চলছে সেগুলোর মধ্যে-রংপুর বিভাগে ৭, রাজশাহী বিভাগের ১০, খুলনা ও বরিশালের ১৩টি করে, ঢাকার ২২, ময়মনসিংহের ৮, সিলেটের ২ এবং চট্টগ্রামের ১৬টি রয়েছে। রংপুরের অধিক ঝুঁকিপূর্ণ সাতটি আসনের মধ্যে আছে-পঞ্চগড়-১-এর ১৪টি, ঠাকুরগাঁও-১-এর ৮৪, ঠাকুরগাঁও-৩-এর ১১, লালমনিরহাট-১-এর ৪০ রংপুর-৩-এর ৩৩, রংপুর-৪-এর ৩১ এবং গাইবান্ধা-৫-এর ৩২টি কেন্দ্র। রাজশাহীর কেন্দ্রগুলোর মধ্যে-বগুড়া-২-এর ২৬, বগুড়া-৪-এর ৩১, বগুড়া-৫-এর ৪১, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩-এর ২৫, রাজশাহী-১-এর ৫৪, রাজশাহী-২-এর ২৮, নাটোর-১-এর ১৩, সিরাজগঞ্জ-১-এর ৫২, সিরাজগঞ্জ-২-এর ১৮, সিরাজগঞ্জ-৪-এর ২৯, পাবনা-১-এর ছয় এবং পাবনা-২৩-এর ১৪টি কেন্দ্র আছে। অধিক ঝুঁকির মধ্যে আছে-খুলনা বিভাগের কুষ্টিয়া-১-এর ৭২, কুষ্টিয়া-৩-এর ২২, চুয়াডাঙ্গা-১-এর ১৬, ঝিনাইদহ-৩-এর ২১, ঝিনাইদহ-৪-এর সাত, যশোর-২-এর ১৮, যশোর-৫-এর ১৩, খুলনা-২-এর ৪৯, খুলনা-৩-এর ২১, খুলনা-৪-এর ৫৮, খুলনা-৫-এর ৪০, সাতক্ষীরা-১-এর পাঁচ এবং বাগেরহাট-১-এর ৫৯টি কেন্দ্র।
গোয়েন্দা প্রতিবেদন জানাচ্ছে, বরিশালের অধিকতর ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে-বরগুনা-২-এর ১৪টি, ঝালকাঠি-১-এর ১৮, পটুয়াখালী-২-এর ২১, পটুয়াখালী-৩-এর ৮০টি। ভোলার চারটি (১, ২, ৩ ও ৪) আসনের ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা যথাক্রমে-১০, ৭১, ৪৩ এবং ২৫টি। বরিশাল ১, ৩ এবং ৫ আসনের যেকটি কেন্দ্র অতিরিক্ত ব্যালট পেপার এবং দেশীয় অস্ত্রের ঝুঁকিতে আছে সেগুলো যথাক্রমে-২, ৩১ এবং ১০০টি। এছাড়া আছে পিরোজপুর-২-এর ২৮ এবং পিরোজপুর-৩-এর ৪৭টি কেন্দ্র। ঢাকা বিভাগের যেসব আসনের তালিকা এই ক্যাটাগরিতে আছে সেগুলোর মধ্যে-টাঙ্গাইল-১-এর ২৭, টাঙ্গাইল-৪-এর ১১, টাঙ্গাইল-৮-এর ৯, কিশোরগঞ্জ-৪-এর ৪৮, কিশোরগঞ্জ-৫-এর ৩০, মানিকগঞ্জ-১-এর ৩৪, মুন্সীগঞ্জ-১-এর ১৭, ঢাকা-২-এর ১০, ঢাকা-৩-এর সাত, ঢাকা-৪-এর ৭০, ঢাকা-৭-এর ৯০, ঢাকা-৮-এর ৫৪, ঢাকা ১০-এর ৪৮, ঢাকা-১-এর ৬৩ এবং ঢাকা-১৫-এর ২৮টি কেন্দ্র আছে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ-২-এর ৪৪, নারায়ণগঞ্জ-৩-এর ৩৯, নারায়ণগঞ্জ-৪৩-এর ২৭, ফরিদপুর ৪-এর ১৮, শরীয়তপুর-১-এর ৫৪, শরীয়তপুর-২-এর ৩৮ এবং মাদারীপুর-৩-এর ৫২টি কেন্দ্র এই তালিকায় রয়েছে।
সিলেট বিভাগের মধ্যে সুনামগঞ্জ-২-এর ১৩টি এবং মৌলভীবাজার-৩-এর ৫০ কেন্দ্র রয়েছে অধিক ঝুঁকিতে। চট্টগ্রাম বিভাগের অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর মধ্যে কুমিল্লা-৪-এর ১০, কুমিল্ল-৯-এর ১৮, কুমিল্লা-১১-এর ৫০, চাঁদপুর-৩-এর ৩৮, নোয়াখালী-২-এর দুই, নোয়াখালী-৬-এর ছয়, চট্টগ্রাম-২-এর ৩, চট্টগ্রাম-১০-এর ৯৪, চট্টগ্রাম-১১-এর ৪৬, চট্টগ্রাম-১৪-এর ৫১, চট্টগ্রাম-১৫-এর ৫৯, চট্টগ্রাম-১৬৭-এর ৪১, ফেনী-১-এর ২৫, ফেনী-৩-এর ৩০, লক্ষ্মীপুর-২-এর ৫৭ এবং লক্ষ্মীপুর-৩-এর ৬৮টি কেন্দ্র আছে।
জানতে চাইলে পুলিশের অতিরিক্ত আইজি খোন্দকার রফিকুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, আমরা কোনো কেন্দ্রকেই ঝুঁকিপূর্ণ বলছি না। সাধারণ এবং গুরুত্বপূর্ণ-এই দুভাগে ভাগ করে আমরা নিরাপত্তা ছক প্রণয়ন করেছি। সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিচ্ছি। আশা করছি সুন্দর এবং সুষ্ঠুভাবেই আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যেসব জায়গায় নির্বাচনিসামগ্রী পৌঁছেছে সেসব জায়গার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।