Image description
জাতীয় সংসদ নির্বাচন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে অংশ নিতে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। নির্বাচনে লম্বা ছুটি থাকায় অনেকে সপরিবারে নিজ এলাকায় যাচ্ছেন। ১২ ফেব্রুয়ারি তারা পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবেন। ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের পর জাতীয় নির্বাচন শুধু মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নয়; বরং দেশগড়ার বড় দায়িত্ব হিসাবে দেখছেন তরুণ ও নতুন ভোটাররা। সেজন্য নির্বাচনের এ সুযোগ কোনোভাবে নষ্ট করতে চান না তারা। আর সাধারণ ভোটাররা এলাকামুখী হওয়ায় ফাঁকা হচ্ছে রাজধানী ঢাকা। রোববার বিভিন্ন বাসটার্মিনাল, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাট ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

নির্বাচনি প্রচারের শেষ মুহূর্তে ব্যস্ত সময় পার করছেন বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও কর্মী-সমর্থকরা। বিশৃঙ্খলা এড়াতে ব্যাপক প্রস্ততি নিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে বুধ ও বৃহস্পতিবার (১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি) সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিসসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার।

একই সঙ্গে নির্বাচনের পর শুক্র ও শনিবার (১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি) সরকারি ছুটি। সব মিলে নির্বাচনের আগে-পরে লম্বা ছুটি মিলছে চাকরিজীবীদের।

এতে ভোট দেওয়ার পাশাপাশি নিজ এলাকায় গিয়ে কয়েকদিন বেড়িয়ে আসারও সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ সুযোগ হাতছাড়া করছেন না তারা। নির্বাচনে নাগরিক দায়িত্ব পালন ও পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছেন অনেকে। রোববার রাজধানীর বিভিন্ন বাস টার্মিনাল, লঞ্চঘাট ও রেলস্টেশনগুলোয় এলাকামুখী যাত্রীদের ভিড় দেখা গেছে। স্বচ্ছ ও হানাহানিমুক্ত নির্বাচনের প্রত্যাশা এবং বাড়তি উচ্ছ্বাস নিয়ে নির্বাচনি এলাকায় ফিরছেন তারা।

রাজধানীর মহাখালী বাসটার্মিনালে দেখা যায়, অন্যদিনের তুলনায় যাত্রীদের চাপ অনেক। অনেককে পরিবারসহ গ্রামে ফিরতে দেখা গেছে। টার্মিনালে বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার লিথি যুগান্তরকে বলেন, এবার ভোটে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লম্বা ছুটি পেয়েছি। আমি নতুন ভোটার। নির্বাচনে প্রথম ভোট দিতে নিজ এলাকা ময়মনসিংহে যাচ্ছি। পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে কেন্দ্রে গিয়ে প্রথম ভোট দেব। আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে এলাকার প্রার্থীদের সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়েছি। বাড়ি গিয়ে আরও বিস্তারিত খোঁজ নিতে পারব। যেহেতু আমি প্রথম ভোটার, জেনে-বুঝে ভোট দেব। কারণ, গণ-অভ্যুত্থানের পর জাতীয় নির্বাচন শুধু মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নয়-বরং দেশগড়ার বড় দায়িত্ব হিসাবে দেখি।

নির্বাচনে ভোট দিতে নিজ এলাকা রাজশাহীতে যাচ্ছিলেন তানজিম নামের আরেক শিক্ষার্থী। জানতে চাইলে তিনি বলেন, এবার ভোট দিতে গ্রামে যাচ্ছি। গণ-অভ্যুত্থানপরবর্তী সময়ে ভোট নষ্ট করা যাবে না। আমার সব বন্ধুরাও ভোট দিতে বাড়ি যাবে। আমর বিশ্বাস, সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একটা ভালো ভোট উপহার দেবে।

মা-বাবার সঙ্গে নাটোরে যাচ্ছিলেন নাসিফ। তিনি বলেন, গত নির্বাচনে ভোটার ছিলাম। ভোট দিতে বাড়িতেও গিয়েছিলাম। কিন্তু ভোট দিতে পারিনি। এবার পরিবেশ ভালো মনে হচ্ছে। তাই ভোট দিতে বাড়ি যাচ্ছি। তালহা আজিজ নামের এক কলেজ শিক্ষার্থী বলেন, ভোট নিয়ে আমি অনেক আগ্রহী। কারণ এবার আমি প্রথম ভোট দেব। পছন্দের প্রার্থীকে দেব।

পরিবহণসংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্বাচন সামনে রেখে নিজ এলাকায় ফিরতে শুরু করেছে সাধারণ মানুষ। শনিবার সন্ধ্যা থেকে যাত্রীদের চাপ কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। অধিকাংশ মানুষ পরিবারসহ এলাকায় যাচ্ছে। সোমবার থেকে যাত্রীদের চাপ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা তাদের। জানতে চাইলে মহাখালী বাসটার্মিনাল সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম বাবুল যুগান্তরকে বলেন, এবার নির্বাচনে সরকারি ছুটি অনেক লম্বা। এ কারণে যাত্রীদের চাপ কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। ছুটির আগের দিন রাত থেকে এই সংখ্যা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। এসব চাপের কথা মাথায় রেখে আমরা সেভাবে প্রস্তুতি নিয়েছি। আসা করি যারা ভোট দিতে বাড়ি যাবে, তারা সবাই ভোগান্তিমুক্ত যাত্রা করতে পারবেন। রোববার দুপুর ১২টার দিকে স্ত্রী-সন্তানকে বাসে তুলে দিতে রাজধানীর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে এসেছিলেন আবু বক্কার নামের এক ব্যক্তি। তিনি যুগান্তরকে বলেন, আমি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি। ভোটের ছুটি হলে বাসে সিট পাওয়া কঠিন হবে। এ কারণে স্ত্রী-সন্তানকে আগেভাগে নোয়াখালীতে পাঠিয়ে দিচ্ছি। ছুটি হলে আমিও চলে যাব ভোট দিতে।