Image description

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে চলছে শেষ মুহূর্তের চূড়ান্ত হিসাবনিকাশ। দেশের রাজনীতিতে চট্টগ্রামের ১৬টি আসন বরাবরই ‘পাওয়ার হাউস’ হিসেবে পরিচিত। প্রবাদ আছে- চট্টগ্রামে যে দল এগিয়ে রয়েছে, তারাই গঠন করবে সরকার। তাই নির্বাচনের মাঠে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি ও জামায়াত জোট চট্টগ্রামকে আলাদা গুরুত্ব দিয়েছে। এরই মধ্যে দুই জোটের প্রধান চট্টগ্রামে নির্বাচনি সফরও করেছেন। এবার চট্টগ্রামে জয়-পরাজয়ের ক্ষেত্রে মূলত ১০টি প্রধান ফ্যাক্টর কাজ করবে। তাই এ ফ্যাক্টরগুলো নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে রাজনীতির অন্দরমহলে।

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর) আসনের প্রার্থী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রাম বিএনপি অধ্যুষিত এলাকা। বিএনপি ও ধানের শীষকে মন থেকে ধারণ করে চট্টলাবাসী। তাই বারবার ধানের শীষের প্রার্থীদের বিজয়ী করেছে, এবারও করবে।

চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে এবার ভোটার ৬৬ লাখ ৮২ হাজার ৫১৭ জন। এর মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশই তরুণ এবং নতুন ভোটার, যাদের বয়স ১৮ থেকে ৩৫। তরুণ প্রজন্ম প্রথাগত রাজনীতির চেয়ে সুশাসন, কর্মসংস্থান এবং দুর্নীতির অবসানকে প্রাধান্য দেবে। তাই যে জোট তরুণদের এ আকাক্সক্ষা বোঝতে পারবে, তারাই এগিয়ে থাকবে।

চট্টগ্রামে ভোটারের প্রায় ৪৮ শতাংশই নারী। বিশাল এ ভোটব্যাংককে সামনে রেখেই কাজ করছেন প্রার্থীরা। এ ছাড়া নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের নিয়ামক হয়ে দাঁড়াবে ১২-১৩ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোটার। বিশেষ করে মিরসরাই, পটিয়া, বাঁশখালী, চন্দনাইশ ও রাউজানের মতো কিছু আসনে সংখ্যালঘু ভোটাররা হয়ে উঠবে বড় ফ্যাক্টর। নির্বাচনের সময় তাদের নিরাপত্তা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি যে প্রার্থী বা দল দিতে পারবে, তারাই এই ভোটব্যাংক নিজের পক্ষে টানতে সক্ষম হবে।

চট্টগ্রামের রাজনীতিতে ‘চাটগাঁইয়া’ আঞ্চলিকতার একটা টান রয়েছে। পাশাপাশি ফটিকছড়ি, হাটহাজারী, পটিয়া, চন্দনাইশ, আনোয়ারা উপজেলার মতো এলাকাগুলোতে পীর-মাশায়েখ এবং কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রিক বড় ভোটব্যাংক রয়েছে, যা জয়-পরাজয়ের অন্যতম নির্ধারক হয়ে উঠবে। এই দুই শ্রেণির ভোটারদের মন যারাই জয় করতে পারবে তারা অনেকটাই এগিয়ে যাবে।

এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থী না থাকলেও দলটির সমর্থকরা হয়ে উঠতে পারেন জয়-পরাজয়ের অন্যতম নিয়ামক। তাই আওয়ামী লীগের সাধারণ ভোটারদের টানতে বিরামহীন কাজ করে চলেছেন প্রার্থী ও তাদের অনুসারীরা। তা ছাড়া চট্টগ্রামের কমপক্ষে ছয়টি আসনে জয়-পরাজয়ে ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াতে পারে দলীয় কোন্দল, বিদ্রোহী প্রার্থী এবং দলীয় প্রার্থীদের সঙ্গে সিনিয়র নেতাদের ব্যক্তিগত বিরোধ। এসব বিষয় সরাসরি প্রভাব ফেলবে নির্বাচনে। সমস্যাগুলো নিরসনে এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে দলের হাইকমান্ড।

এদিকে চট্টগ্রামে নির্বাচনের ভোটের হিসাব পাল্টে দিতে পারেন প্রবাসীরাও। তাদের প্রায় ৯৫ হাজার পোস্টাল ভোট এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের ভোট খুলে দিতে পারে প্রার্থীদের ভাগ্য। পাশাপাশি নির্বাচনে ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করবে প্রার্থীদের ব্যক্তিগত ইমেজ এবং দলীয় ভোটব্যাংক।