বাংলাদেশি পণ্যে ট্রাম্প প্রশাসন যে বাড়তি ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে, তা আরও কমবে বলে প্রকাশ করেছেন বাণিজ্য এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। রোববার সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা এ কথা জানান। আজ সোমবার বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এ বাণিজ্য চুক্তি হবে।
উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের ওপরে (যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানিতে) ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল, যেটা আমরা আলোচনা করে ২০ শতাংশে নামিয়েছিলাম, যদি আমাদের এই চুক্তিটা প্রকাশিত না হতো আমার নিশ্চিত বিশ্বাস যে, আমরা ২০ শতাংশের চেয়েও কম পেতাম। দুঃখজনকভাবে আমরা ওখানে বিব্রত হয়েছি। বাংলাদেশই একমাত্র দেশ যেখান থেকে চুক্তির শর্তাবলী সারা দুনিয়াতে প্রকাশিত হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘৯ই ফেব্রুয়ারি যে চুক্তি হবে, আমরা চেষ্টা করছিলাম শুল্ক আরও কতো কমানো যায়। কতোটুকু কমবে আমি এই মুহূর্তে বলতে পারছি না বা চাচ্ছি না। আমরা আলোচনার ভিত্তিতে দেখবো। আমরা ওভারঅল শুল্ক কমানোর চিন্তা করছি তা নয়, আমাদের প্রচেষ্টা রয়েছে আমাদের যে মূল পণ্য গার্মেন্টস- এই জায়গায় যেন আমাদের শুল্ক শূন্য হয়। আমরা সেই প্রচেষ্টায় এখনো রত রয়েছি।’
শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে এক লাখ কোটি টাকার রপ্তানির সম্ভাবনা রয়েছে। এটা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সম্ভাবনাগুলো কাজে লাগাতে আমরা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
শুল্কের চাপ কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি অনুযায়ী বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে রয়েছে-মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা কোম্পানি বোয়িংয়ের কাছে উড়োজাহাজ কেনা এবং গম, সয়াবিন তেল ও তুলা আমদানি বাড়ানোর উদ্যোগ।
শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, “আমাদের যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা নেই, ১৯টা প্লেন আমাদের আছে; ইনফ্যাক্ট আমাদের প্লেন আছে ১৪টা, বাকি প্লেনগুলো ফ্লাইঅ্যাবল না। এই ১৪টা প্লেন দিয়ে আমাদের যে নেটওয়ার্ক এবং আমাদের বিমানের যে মাস্টারপ্ল্যান; সেখানে আমরা বলছি ২০৩৫ সাল নাগাদ আমাদের ৪৭টা প্লেনের দরকার।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসরীন জাহান উপস্থিত ছিলেন।
সৌদি প্রবাসীদের সুখবর দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। আসন্ন হজ মৌসুমে সৌদি আরব থেকে ফিরতি ফ্লাইটে সাধারণ যাত্রী পরিবহন করবে বিমান। ফ্লাইটের টিকিটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা।
উপদেষ্টা বলেন, এবারের হজ মৌসুমে সৌদি আরবে হজযাত্রী রেখে ফিরতি ফ্লাইটে সাধারণ যাত্রী পরিবহন করবে বিমান। মাত্র ২০ হাজার টাকায় টিকিট কেটে সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরা যাবে। এতে ১২০ কোটি টাকা বাড়তি আয় হবে বিমানের।