খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। সিলেট-১ আসনের প্রার্থী। হাতে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সাত সকালেই কাজির বাজারের বাসা থেকে বের হন। বাসা থেকে বের হতে না হতেই পড়েন জটলার মুখে। বাসার ফটকেই দাঁড়িয়ে থাকে মানুষ। এক নজর দেখতে, কথা বলতে সবার এই অপেক্ষা। গণসংযোগে নামলেই হাজার হাজার মানুষ। সবার মুখে মুখে ধানের শীষের স্লোগান। এমন দৃশ্য সিলেটে কয়েকটি ভোটে অনুপস্থিত ছিল। এবার এমন দৃশ্য সবখানেই। পথসভা করেন খন্দকার মুক্তাদির। সেখানেও হাজার হাজার মানুষের ঢল। দলে দলে সাধারণ মানুষও এসে অংশ নেয়।
গতকাল বিকাল পর্যন্ত তিনি সদর উপজেলার পশ্চিম অংশের তিনটি এলাকায় নির্বাচনী সমাবেশ করেন। এসব সমাবেশ ছিল লোকে লোকারণ্য। খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরও ভোটের আগে মানুষের এমন ভালোবাসায় মুগ্ধ। জানালেন- মানুষের ভালোবাসার ঋণ কোনো দিন শোধ করা যাবে না। প্রচারণায় মানুষের ঢল দেখে তিনি আশা করছেন এবার সিলেটের ভোটে ধানের শীষের নীরব বিপ্লব হবে। সিলেট জেলার ৬টি নির্বাচনী আসনে একমাত্র মহিলা প্রার্থী তাহসিনা রুশদীর লুনা।
নিখোঁজ নেতা এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী। স্বামীর অবর্তমানে মাঠ সাজিয়ে রেখেছেন লুনা। দিন নেই, রাত নেই। ক্লান্তিহীনভাবে ছুটে চলেছেন লুনা। প্রচারণায় ছুটে গেছেন বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগরের গ্রামে গ্রামে। তবে এ আসনে এবার সবচেয়ে নজর কেড়েছেন ইলিয়াসের দু’পুত্র অর্ণব ও লাবিব। মাকে নিয়ে যেদিকেই গেছেন মানুষ ঘিরে ধরছে তাদের।
ভোটাররা বলছেন; এ আসনে প্রচারণায় অনেক এগিয়ে লুনা। তার কাছাকাছিও নেই প্রার্থী। ভোটের আগেই সিলেট-৩ আসনে নানা নাটকীয়তা। তবে নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই নাটকীয়তা কমছে। বিএনপি প্রার্থী এমএ মালিক। প্রথম প্রার্থী হয়েছিলেন এ আসনে। জামায়াতের লোকমান আহমদ আসন ছাড় দেয়ার পর প্রার্থী বদল হয়েছে। এতে এ আসনে অনেক খানি নির্ভার হয়ে যায় বিএনপি। তবে প্রচারণায় চমক দেখিয়েছেন প্রবাসী প্রার্থী এমএম মালিক। যেদিকেই গেছেন ভোটারের সমর্থন পেয়েছেন। সবসময় সঙ্গে ছিলেন হাজারো ভোটার। ভোটে রীতিমতো ঝড় তুলেছেন ম্যাজিকম্যান আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি সিলেটের সাবেক মেয়র।
সিলেট-৪ আসনে বিএনপি’র প্রার্থী। অবহেলিত জনপদের গ্রামে গ্রামে ঘুরেছেন। বাঁশের সাঁকো, কাঠের ব্রিজ পেরিয়ে ছুটে গেছেন প্রত্যন্ত এলাকায়। মনোনয়ন প্রাপ্তির পর বলেছিলেন- তিনদিনেই সুর তুলবেন। তুলেছেনও। আরিফ যে এলাকায় গেছেন সেখানেই বদলে গেছে দৃশ্যপট। হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি। ঘর থেকে নারীরাও বেরিয়ে আসেন প্রচারণায়। নির্বাচনের শেষ দিকে এসে বহর বেড়েছে। এ আসনে প্রচারণায় আরিফের ধারে কাছেও নেই কেউ। জয়ের দিকেই এগোচ্ছেন তিনি- এমনটি বলছেন ভোটাররা। শুধু আরিফই নয়, ভোটের মাঠে নেমেছেন তার স্ত্রী শ্যামা হকও।
তিনিও যেদিকে যাচ্ছেন ভোটের মাঠে সাড়া ফেলছেন। বিশেষ করে মহিলা ভোটারদের কাছে শ্যামা হকের গুরুত্ব বেড়েছে। উন্নয়নের প্রতীক হিসেবে তিনি ভোটারদের কাছে আরিফুল হক চৌধুরীকে তুলে ধরছেন। সিলেট-৫ আসনে বিএনপি’র প্রার্থী নেই। এখানে ত্রিমুখী লড়াই হচ্ছে। বিএনপি না থেকেও আছে এ নির্বাচনে। বিএনপি’র বিদ্রোহী প্রার্থী চাকসু মামুন মাঠে চমক দেখাচ্ছেন। বিএনপি’র তৃণমূলকে সঙ্গে নিয়ে ক্লান্তিহীন প্রচারণা চালিয়েছে। যেখানেই গেছেন সেখানে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি ছিল। এমন দৃশ্যও দেখা গেছে অন্য দুই প্রার্থীর বেলাও। বিএনপি’র শরিক জমিয়ত প্রার্থী ওবায়দুল্লাহ ফারুক শেষ দিকে এসে বহর বাড়িয়েছেন। তার কয়েকটি শোডাউনও চোখে পড়েছে। সিলেটের যে দুটি আসনে বিএনপি’র প্রতিপক্ষ প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে এ দুটি আসনের মধ্যে একটি হচ্ছে সিলেট-৫ আসন। চাকসু মামুন, মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ফারুকের মতো প্রচারণায় নজর কেড়েছেন খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুফতি আবুল হাসান। তার সমাবেশ ও প্রচারণায় সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বেশি ছিল। সিলেট-৬ আসনে বিএনপি’র প্রার্থী এমরান আহমদ চৌধুরীর প্রার্থী হওয়াই ছিল চমক। অনেক প্রশ্ন ছিল তাকে ঘিরে। কিন্তু ভোট প্রচারণায় একেক করে প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন তিনি। এমরানের প্রচারণায় মানুষের ঢল নেমেছিল। এ আসনকে বলা হয় বিএনপি’র ঘাঁটিও। ফলে বিএনপি’র নেতারা ছাড়াও সঙ্গে ছিলেন সাধারণ মানুষও। সিলেটে প্রচারণায় এগিয়ে বিএনপি। এটি বলার অপেক্ষা রাখে না। ভোটে কেমন এগিয়ে সেটিও প্রায় নিশ্চিত। এরই মধ্যে একাধিক ঘটনা ঘটে চলেছে। যে ঘটনাগুলো কাম্য নয়। প্রতিপক্ষ প্রার্থীদের নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত শনিবার সিলেটে প্রেস ব্রিফিং করেছেন বিএনপি নেতারা। তারা নির্বাচনে কালোটাকার প্রভাব, সংখ্যালঘু ভোটারদের হুমকি, ভোটকেন্দ্র দখলসহ নানা আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে তারা সিলেটের রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করে সেসব অভিযোগ জানিয়েছেন।