Image description

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে জাতীয় পার্টি (জাপা) ক্রমেই সাংগঠনিক সংকটে পড়ছে। নির্বাচনের ঠিক আগে জাপায় একের পর এক ধাক্কা। প্রার্থীদের সরে দাঁড়ানো, নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা ও ভয়ভীতির অভিযোগ, আর বিভিন্ন জেলায় শত শত নেতাকর্মীর দলত্যাগ; সব মিলিয়ে নির্বাচনকে ঘিরে দলটির ভেতরে সংকট ক্রমেই গভীর হচ্ছে। ইতিমধ্যে দুই নেতা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। আরও কয়েকজন নেতা সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিতে পারেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। আবার নীলফামারী-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়েছে জেলা জাপা ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। 

১৯৬ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে দলটি। বৃহস্পতিবার নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের লাঙ্গলের প্রার্থী শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ। সাবেক এই সংসদ সদস্য ফেসবুকে একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করেন। এতে নির্বাচন থেকে সরে আসার কারণ হিসেবে বলেন, তার বিরুদ্ধে এবং তার দলের নেতাকর্মীদের নামে একাধিক মামলা হয়েছে। অনেক নেতাকর্মীকে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে এবং নিয়মিত ভয়ভীতি ও হুমকির মধ্যে রাখা হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষসহ রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

রোববার নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে জাপা মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য এডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা। গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় তিনি বলেন, ৫ই আগস্ট পরবর্তী সময়ে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য আমাকে তিনটি মামলায় আসামি করে নিজ এলাকা থেকে বিতাড়িত করা হয়। যদিও এসব মামলার ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো প্রকার সম্পৃক্ততা ছিল না। আমার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণার পর আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হলে আমাকে ও আমার নেতাকর্মীদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিভিন্ন মহল থেকে ভয়-ভীতি ও গ্রেপ্তারের হুমকি প্রদর্শন শুরু করে, যা অদ্যাবধি চলমান। এমন প্রতিকূল পরিবেশে আমি আমার দলের সকল নেতাকর্মীর সিদ্ধান্তক্রমে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর মতো কঠিন সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি।

আসন্ন নির্বাচনে নীলফামারী-২ (সদর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিনকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন জানায় জাতীয় পার্টি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলো। গত ১লা ফেব্রুয়ারি সদর উপজেলার বিশমুড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী সমাবেশে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা এই সমর্থনের ঘোষণা দেন। জাপা নেতারা বলেন, নীলফামারীর সার্বিক উন্নয়নের জন্য প্রকৌশলী তুহিনের কোনো বিকল্প নেই। তাই দলমতনির্বিশেষে সবাইকে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেয়ার পাশাপাশি নির্বাচনী প্রচারণায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়ার আহ্বান জানান তারা।

শুধু তাই নয়, এক সপ্তাহে জাপা’র কয়েকশ’ নেতা দল ত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলা জাপা’র সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট বসির আহমেদ সবুজের নেতৃত্বে বিভিন্ন পর্যায়ের পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী বিএনপিতে যোগদান করেন। শনিবার কামারখালী কলেজ মাঠে নির্বাচনী জনসভায় অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আবুল হোসেন খান ফুলের মালা দিয়ে তাদের বরণ করে নেন। গাজীপুর মহানগরের ৩ শতাধিক নেতাকর্মী গত শনিবার বিএনপিতে যোগদান করেন। কাশিমপুর থানা বিএনপি আয়োজিত ধানের শীষ প্রতীকের নির্বাচনী সভায় গিয়ে তারা বিএনপিতে যোগদান করেন। এ সময় অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মহানগর বিএনপি’র সভাপতি শওকত হোসেন সরকার বিএনপি’র পতাকাতলে আশ্রয় নেয়া নেতাদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

বগুড়ার দুই শতাধিক নেতাকর্মী বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। এসব নেতাকর্মীর মধ্যে সারিয়াকান্দি উপজেলা ও পৌর জাতীয় পার্টির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকও রয়েছেন। গত শনিবার সারিয়াকান্দির ফুলবাড়ীতে আয়োজিত বিএনপি’র এক সমাবেশে আনুষ্ঠানিকভাবে তারা বিএনপিতে যোগ দেন। জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য, বগুড়া জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি ও সারিয়াকান্দি উপজেলা কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ মোকছেদুল আলমের নেতৃত্বে এই যোগদান অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপি’র কেন্দ্রীয় সদস্য ও বগুড়া-১ আসনের প্রার্থী, সাবেক সংসদ সদস্য কাজী রফিকুল ইসলামের হাতে ফুল দিয়ে তারা বিএনপিতে যোগ দেন। আবার গাজীপুর জেলার টঙ্গীর শতাধিক নেতা গত বৃহস্পতিবার বিএনপিতে যোগদান করেন। টিএন্ডটি বাজার এলাকায় যোগদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ও কেন্দ্রীয় শ্রমিক দলের কার্যকরী সভাপতি মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন সরকার তাদের বরণ করে নেন।

ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জে ১৫ নেতাকর্মী বিএনপিতে যোগদান করেন। গত শনিবার তারা ঝিনাইদহ-৪ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী রাশেদ খানের হাতে ফুল দিয়ে তারা যোগদান করেন এবং নোয়াখালী নেয়াজপুর ইউনিয়ন জাপা’র সাবেক সভাপতিসহ ৯ নেতা বিএনপিতে যোগদান করেছেন। গত ১লা ফেব্রুয়ারি ধর্মপুর সরকারি বিদ্যালয় মাঠে ধানের শীষের একটি উঠান বৈঠকে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেন।